৫ মামলার আসামি হতে চান ‘ছাত্রলীগ সভাপতি’


সাহেব-বাজার ডেস্ক: ফরিদপুরের নগরকান্দায় ৫ মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি মেহেদী হাসান উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হচ্ছেন বলে এলাকায় গুঞ্জন চলছে। এছাড়াও স্থানীয় আওয়ামী লীগের অফিস ও বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাংচুরের অভিযোগও রয়েছে এই মেহেদীর বিরুদ্ধে।

স্থানীয় দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে উপজেলা ছাত্রলীগের পদ বাগিয়ে নিতে স্থানীয় নেতাদের কাছে তদবির ও দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন মেহেদী। এমনকি স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি মহল মেহেদীর নাম সুপারিশ করে ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগ বরাবর লিখিত তালিকাও পাঠিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ ঘটনায় নগরকান্দা উপজেলায় স্বচ্ছ ও সক্রিয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। এমনকি আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে গোটা উপজেলায়।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা ছাত্রলীগের একজন কর্মী বলেন, সম্প্রতি মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় উপজেলা ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগ। সেই সঙ্গে নতুন কমিটিতে পদ প্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্তও আহ্বান করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, মেহেদী হাসান স্থানীয় মাদক কারবারিদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে এলাকায় মাদক কেনাবেচা ও সেবনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত। এছাড়া ২০১৯ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী মনিরুজ্জামান সরদারের বিপক্ষেও অবস্থান নিয়েছিলেন মেহেদী। এমনকি প্রভাব খাটিয়ে তালমা এলাকায় স্থানীয় লোকদের মারধর, বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বর্তমানে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের অফিস ভাংচুর করে নাশকতার মামলার আসামি হয়ে পলাতক আছেন।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, আসলে আগামী সংসদ নির্বাচনে লাবু চৌধুরীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জামাল হোসেন। তাই জামালকে ঠেকাতেই বিতর্কিত মেহেদীকে ছাত্রলীগের সভাপতি বানাতে উঠেপড়ে লেগেছে লাবু চৌধুরী। কারণ তালমায় জামালের প্রধান প্রতিপক্ষ মেহেদী। এর আগেও বিভিন্ন মিটিং মিছিলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এবং তাকে নানাভাবে হয়রানি করা হয়েছে।

উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা বলেন, লাবু চৌধুরী যে দুজনের নাম সুপারিশ করেছে তাদের কারো বাড়িই সদরের মধ্যে না। তাহলে এমন সভাপতি সম্পাদক দিয়ে দলের কি প্রয়োজনে আসবে?

এসব অভিযোগের বিষয়ে মেহেদী হাসান বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘আমি এখন পর্যন্ত যা কিছু করেছি লাবু মামার জন্য করেছি। তালমায় অফিস ভাংচুরের যে মামলাটা হয়েছে সেটা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে লাবু মামার সমর্থিত প্রার্থীর জন্যই হয়েছিলো। আমার নামে আর কোন মামলা নেই।’

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে উপজেলা ছাত্রলীগের সদ্য মেয়াদ শেষ হওয়া কমিটির সাধারণ সম্পাদক কামরান হোসেন বলেন, ‘লাবু চৌধুরী মেহেদী ও রোমানকে যথাক্রমে সভাপতি, সম্পাদক সুপারিশ করে একটি তালিকা জেলা ছাত্রলীগের কাছে পাঠিয়েছেন। বিতর্কের বিষয়টি আমি লাবু ভাইকে জানিয়েছি। এমনকি বিতর্কিত কাউকে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি না বানানোর জন্য অনুরোধও করেছি।’

‘ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোন পলাতক ব্যক্তিকে কমিটিতে রাখা উচিত নয়। তারপরও প্রভাব দেখিয়ে সভাপতি বানানো হলে এটা হবে ছাত্রলীগের জন্য কলঙ্কজনক উদাহরণ।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে শাহদাব আকবর লাবু চৌধুরীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও কোনো জবাব মেলেনি।

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তামজীদুল রশিদ চৌধুরী রিয়ান বলেন, ‘আমরা জেলা ছাত্রলীগ লাবু চৌধুরীর কাছে একটা তালিকা চেয়েছিলাম। সে অনুযায়ী তিনি একটি তালিকা পাঠিয়েছেন। এ বিষয়ে কঠোর যাচাই-বাছাইও হবে। আমরা সিভিগুলো ইতোমধ্যে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দিয়েছি। রিপোর্টও এসেছে। আরেকটু দেখে কমিটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

এসবি/জেআর