৩ কোটি ডলারের আশ্বাস পেয়েছে বাংলাদেশ


সাহেব-বাজার ডেস্ক : মিসরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে (কপ-২৭) জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি মোকাবিলায় গঠিত অভিযোজন তহবিলের আওতায় বাংলাদেশ উন্নত দেশগুলো থেকে প্রায় ৩ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তা পাওয়ার আশ্বাস পেয়েছে। জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি নিয়ে গপরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফারহিনা আহমেদ এ তথ্য জানান। এ সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

ফারহিনা আহমেদ বলেন, ‘একটি জাতি হিসেবে আমরা যে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও সংগঠিতভাবে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা করছি সেই জায়গাটি তুলে ধরেছি। একই সঙ্গে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ঐক্যবদ্ধভাবে গুণগত মানসম্পন্ন বক্তব্য যাতে সম্মেলনে যায় সেই জায়গাটা বাংলাদেশ নিশ্চিত করেছে। আমাদের লবিংয়ের কারণে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের মধ্যে রাখা সম্ভব হয়েছে। এখানে বাংলাদেশের অবদান রয়েছে। অভিযোজনের লক্ষ্যমাত্রা এখনো ঠিক হয়নি, এটি নিয়ে দর কষাকষি চলছে। প্রথম ৪০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পেরেছে। সেটা আমরা নিয়েও গিয়েছি। একটি বৈশ্বিক অভিযোজন পরিকল্পনা করার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ লবিং করেছে। সেটিও গৃহীত হয়েছে।’

জলবায়ু অভিযোজন পরিকল্পনা নিয়ে আগামী দুই বছর কারিগরি পর্যায়ের চারটি সংলাপ হবে বলে জানান সচিব। তিনি বলেন, মন্ত্রী পর্যায়ের একটি সংলাপ হবে, এর মাধ্যমেই এটি চূড়ান্ত রূপ নেবে। এই যে ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি হবে সেখানেও বাংলাদেশ অবদান রাখবে। আমরা সেখানে আমাদের দর্শন ও দৃষ্টিভঙ্গি সেখানে প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম হয়েছি। সুনির্দিষ্টভাবে বললে অভিযোজন তহবিলে ২৩০ মিলিয়ন ডলার অঙ্গীকার এসেছে। সেখান থেকে বাংলাদেশে সুনির্দিষ্টভাবে ৯.৯ মিলিয়ন ডলার পাবে। পাশাপাশি এই সম্মেলনে আমরা অত্যন্ত সফলভাবে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক মিটিং করতে সক্ষম হয়েছি। নেগোসিয়েশন মিটিং করেছি। সেটা আমাদের অভিযোজন তহবিলে অর্থায়নের জন্য প্রাথমিক পটভূমি তৈরি করেছে বলে আমরা মনে করছি।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে একটি ছোট কিন্তু দক্ষ এবং অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল সম্মেলনে বিভিন্ন ইস্যুভিত্তিক আলোচনায় বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অত্যন্ত বিপন্ন ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর পক্ষে পালন করে কার্যকর ও বলিষ্ঠ ভূমিকা।

 

এসবি/এমই