১২ হাজার কর্মী ছাঁটাই করবে গুগলের মূল সংস্থা অ্যালফাবেট


সাহেব-বাজার ডেস্ক: বিশ্বের প্রযুক্তিক্ষেত্রে আবারও গণ ছাঁটাইয়ের খবর পাওয়া গেছে। গুগলের মূল সংস্থা অ্যালফাবেট ১২ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করতে চলেছে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ। যা সারা বিশ্বে অ্যালফাবেটের মোট কর্মী সংখ্যার ৬ শতাংশ। সংস্থাটি প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাইকে উদ্ধৃত করে শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

অ্যালফাবেট ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের ইমেল করেছে। তবে স্থানীয় কর্মসংস্থান আইন অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে এবং অন্যান্য দেশে ছাঁটাই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে আরও সময় লাগবে।

কয়েক দিন আগেই গুগলের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক্রোসফট কর্প জানিয়েছিল তারা সংস্থার ১০ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করতে চলেছে। তার পরেই অ্যালফাবেটেও বিপুল ছাঁটাইয়ের খবর পাওয়া গেল। এখানেই শেষ নয়, অ্যামাজন, মেটার মতো বহুজাতিকও কর্মী ছাঁটাইয়ে নেমে পড়েছে।

মানবসম্পদ নিয়ে কাজ করে এমন কয়েকটি সংস্থার দাবি, ২০২২ সাল থেকে ছাঁটাইয়ের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি পড়েছে প্রযুক্তিক্ষেত্রে। গত বছর শুধুমাত্র প্রযুক্তিক্ষেত্রে কাজ হারিয়েছেন ৯৭ হাজারেরও বেশি মানুষ। যা গত বছরের তুলনায় ৬৪৯ শতাংশ বেশি বলে জানিয়েছে ব্লুমবার্গ।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২২ সাল থেকে এই পর্যন্ত মার্কিন ই-কমার্স জায়ন্টি অ্যামাজন ছাঁটাই করছে ১৮ হাজার কর্মীকে। ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা ১১ হাজার কর্মী, মাইক্রোসফট ১০ হাজার কর্মীকে, সেলসফোর্স ৮ হাজার কর্মীকে, এইচপি ৬ হাজার কর্মী, টুইটার ৩ হাজার ৭০০ কর্মী এবং সিগেট ৩ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করতে চলেছে।

প্রযুক্তিক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা এই মুহূর্তে বিপুল ছাঁটাইয়ের কারণ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই)-কে দায়ী করছেন। কারন এআই-এর পেছনে বিনিয়োগের পরিমাণ ক্রমেই বাড়াচ্ছে প্রযুক্তি সংস্থাগুলো। এতেই টান পড়ছে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর কোষাগারে।

অন্যদিকে প্রযুক্তিক্ষেত্রে বর্তমানে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তাতে এই মুহূর্তে এআই-এর পেছনে বিনিয়োগ কমানোর ঝুঁকি নিতে চাইছে না কোনও কোম্পানি। এ দিকে সংস্থার আয় বৃদ্ধির নতুন পথও পাওয়া যাচ্ছে না। স্বভাবতই কর্মী ছাঁটাই করে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার মরিয়া চেষ্টা চলছে। সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে টালমাটাল অর্থনীতির কারণে।

গত অক্টোবরে দেখা যায়, ২০২১ সালের তুলনায় গুগলের মুনাফা কমে গিয়েছিল ২৭ শতাংশ। যা অর্থের হিসাবে ১ হাজার ৩৪০ কোটি ডলার।

এসবি/এআইআর