‘পরিচ্ছন্ন’ নগরীর সড়কে ময়লার স্তূপ

  • 30
    Shares

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাজানো-গোছানো পরিপাটি এক শহর রাজশাহী। পরিচ্ছন্নতা আর বিশুদ্ধ বাতাসের জন্য পদ্মাপাড়ের এ শহরের খ্যাতি দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও। অথচ এই শহরেরই একটি সুন্দর সড়কের পাশে ফেলা হয় আশপাশের মহল্লার বাড়িগুলোর সব ধরনের ময়লা-আবর্জনা। সেই ময়লার স্তুপ থেকে আসা দুর্গন্ধের কারণে মানুষকে পথ চলতে হয় নাক চেপে।

নগরীর কোর্ট স্টেশন এলাকায় বন্ধগেট বিলশিমলা থেকে কাশিয়াডাঙ্গা সড়কের পাশে ফেলা হয় এমন ময়লা-আবর্জনা। রাতে ভাগাড়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সারাদিন বাসারবাড়ি, খাবারের হোটেলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ময়লা এনে ফেলা হয় এখানে। আর এসব ময়লা পাখি, মুরগি, ছাগল আর কুকুরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেয়। এতে উৎকট দুর্গন্ধ ছড়ায়। নষ্ট হয় পরিবেশ।

শুধু এই স্থানটিই নয়। নগরীর আরও কয়েকটি জায়গায় বড় সড়কের ধারে দিনভর ফেলে রাখা হচ্ছে ময়লা আবর্জনা। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নগরীর সিঅ্যান্ডবি মোড়, কোর্ট স্টেশন রোড, মাদ্রাসা মাঠের পাশে, ঐতিহ্য চত্বর, উপহার সিনেমা হল রোড, কাজলা, শিরোইল, আরডিএ মার্কেটের পেছনসহ বেশ কিছু এলাকায় অস্থায়ি ভাগাড় করা হয়েছে। কোন কোন এলাকায় রাস্তার পাশে, আবার কোন এলাকায় রাস্তার উপরেই ময়লার স্তুপ রয়েছে। বৃষ্টি হলে এসব ময়লা আরও বেশি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে যাচ্ছে। ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। রাতে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা এসব স্থান থেকে ময়লা নিয়ে গিয়ে ফেলে আসে নির্ধারিত ভাগাড়ে।

রাজশাহীর সাহেববাজার এলাকার বাসিন্দা সজিব আলী বলেন, রাজশাহী একটা সুন্দর শহর। শুধু কিছু কিছু স্থানে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় ময়লার কারণে দুর্গন্ধ সহ্য করতে হয়। কোর্ট স্টেশন এলাকার ভাড়াটিয়া সারোয়ার হোসেন বলেন, এই রাস্তাটা খুবই সুন্দর করে নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু এই একটা স্থানে রাস্তার পাশে ময়লার স্তুপ। এটা সরিয়ে নিলে ভালো হয়।

জানতে চাইলে সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন ডলার বলেন, রাজশাহী শহরে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৩০০ মেট্রিক টন বর্জ্য হয়। এগুলো প্রথমে বাসাবাড়ি বা প্রতিষ্ঠান থেকে সংগ্রহ করে নির্ধারিত জায়গায় জমা করা হয়। এরপর রাতে তা ট্রাকে করে ভাগাড়ে ফেলে আসা হয়। দিনের এসব ময়লা যেন রাস্তার পাশে না রাখতে হয়, সে জন্য পর্যায়ক্রমে নগরজুড়ে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নির্মাণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সমস্যা সমাধানের জন্য আমাদের কাজ চলছে। পাঁচটি এসটিএস হয়ে গেছ। আরও ছয়টি নির্মাণের জন্য টেন্ডার হয়েছে। এগুলো হলে রাস্তায় আর ময়লা পড়বে না।

এসবি/আরআর/জেআর


  • 30
    Shares