স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যক্রমে জনগণ হতাশ, ক্ষুদ্ধ: ওয়ার্কার্স পার্টি

  • 1
    Share

সাহেব-বাজার ডেস্ক : বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় এক প্রস্তাবে বলা হয়েছে, করোনার এই মহামারীর সময় স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যক্রমে জনগণ হতাশ এবং ক্ষুব্ধ। তারা এই দুর্যোগ মুহূর্তে কোনভাবেই স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখতে পারছে না। তাই করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে জনগণকেই নিজেদের সুরক্ষার দায়িত্ব নিজেদেরই তুলে নিতে হবে। শনিবার সকালে এই ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়।

পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন সভায় সভাপতিত্ব করেন। সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা রাজনৈতিক রিপোর্ট করেন। সভা থেকে ওয়ার্কার্স পার্টি দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়হীনতা দূর করে সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতি বাস্তবায়নে অবিলম্বে স্বাস্থ্যখাতে কাঠামোগত পরিবর্তন আনার দাবি জানিয়েছে। পার্টির প্রস্তাবে বলা হয়, করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার এখন প্রায় একই জায়গায় ওঠানামা করলেও দেশ সংক্রমণের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসেছে তা বলা যাবে না। বরং ঈদকে কেন্দ্র করে এর বিস্ফোরণ ঘটার আশঙ্কা বেশি।

ওয়ার্কার্স পার্টি বলেছে, করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কারে সহযোগিতার ক্ষেত্রেও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ যেভাবে গয়ংগচ্ছ চালে চলছে তাতে পৃথিবীতে ভ্যাকসিন আবিষ্কার হলেও বাংলাদেশের মানুষের তা পাওয়ার সম্ভাবনা কম। ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের সাথে যোগাযোগ করা, বিশেষ করে চীনের উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনের তৃতীয় পর্যায়ে ট্রায়ালে অনুমোদন দেয়ার ক্ষেত্রে গড়িমসি এর প্রমাণ। অথচ ব্রাজিল ও সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের দেশে এই কার্যক্রম শুরু করেছে।

ওয়ার্কার্স পার্টির প্রস্তাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর করোনা সংক্রমণ রোধে ভাল নম্বর পাওয়ার আত্মতৃপ্তিমূলক বক্তব্যের সমালোচনা করে বলা হয়, উনি সম্ভবত নিজেই নিজেকে নম্বর দিচ্ছেন। বাংলাদেশে করোনা মৃত্যুহারের সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মৃত্যু হারের তুলনাও কতখানি নির্বোধের আনন্দ দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মৃত্যুহার তার প্রমাণ। ওয়ার্কার্স পার্টির প্রস্তাবে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় সামগ্রিক দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়হীনতার সমালোচনার মুখে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পদত্যাগকে ইতিবাচক আখ্যা দিয়ে বলা হয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ যদি ওসবের নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে সরে যেতেন তাহলেও দেশবাসী মনে করত যে এদের সবার বোধোদয় হয়েছে।

ওয়ার্কার্স পার্টির প্রস্তাবে বন্যা পরিস্থিতিতে জনজীবনে দুর্ভোগে দুঃখ প্রকাশ করে বলা হয়, এখানেও বাঁধ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে চুরি, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা এই বন্যা পরিস্থিতিকে আরও সংকটপূর্ণ করেছে। প্রস্তাবে বন্যাত্তর পুনর্বাসনে সর্বোত উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান হয়। ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সভা সংবিধান ও প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত নীতির বিপরীতে গিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকলসমূহ বন্ধ করে দেয়া, পাট পণ্যবাজার অন্যের হাতে তুলে দেয়া, পাটকলের জমি ও সম্পদ লুটপাটকে আনুষ্ঠানিকতার শামিল বলে উল্লেখ করা হয় এবং অবিলম্বে ওই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে রাষ্ট্রায়ত্ব খাতে পাটকল আধুনিকরণের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

কেন্দ্রীয় কমিটির সভার শুরুতে অকাল প্রয়াত পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান কাবুল, ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম, জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, সাংস্কৃতিক নেতা কামাল লোহানী, বিশিষ্ট অধ্যাপক প্রকৌশলী জামিলুর রেজা চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ ও এক মিনিট নিরবতা পালনের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

শোক প্রস্তাব পাঠ করেন পলিটব্যুরো সদস্য কামরূল আহসান। সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন পলিটব্যুরো সদস্য নুর আহমদ বকুল, পার্টির তহবিল সংক্রান্ত রিপোর্ট করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তপন দত্ত চৌধুরী। ভার্চুয়াল সভায় সংযুক্তি ছিলেন পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য আনিসুর রহমান মল্লিক, ড. সুশান্ত দাস, মাহমুদুল হাসান মানিক, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম হক্কানী প্রমুখ।

ভার্চুয়াল আলোচনায় অংশ নেন পলিটব্যুরো সদস্য হাজী বশিরুল আলম, জ্যোতি শংকর ঝন্টু, কেন্দ্রীয় সদস্য নজরুল ইসলাম, লিয়াকত আলী লিকু, নজরুল ইসলাম, আবু হানিফ, সেকান্দর আলী, জাকির হোসেন রাজু, দেবাশিষ প্রামানিক দেবু, জোবায়দা পারভীন, কাজী মাসুদ, হাফিজুর রহমান, কিশোর রায়, শাহানা ফেরদৌসী লাকী, মুর্শিদা আক্তার নাহার, সবদুল হোসেন খান, আবু বকর, মহিবুল মোড়ল, অ্যাডভোকেট কিসলু, পাওয়ার চৌধুরী, কাজী মাহমুদুল হক সেনা প্রমুখ।

এসবি/এআইআর


  • 1
    Share