সৌদিপ্রবাসী সাথীর আকুতি, ‘এ নরক থেকে মুক্তি চাই’


সাহেব-বাজার ডেস্ক: ‘আমি আর নির্যাতন সহ্য করতে পারছি না, দিন দিন আমার অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। এ নরক থেকে আমি মুক্তি চাই। আমাকে যেভাবেই হোক এখান থেকে মুক্ত করার ব্যবস্থা কর। না হলে আমি নিজেই নিজের জীবনকে শেষ করে দেব।’

সৌদি আরবে গিয়ে নির্যাতনের শিকার সাথী বেগম ভিডিও কলে বাড়ির লোকজনকে এভাবেই নিজের অসহায়ত্বের কথা বলে তাকে বাঁচানোর আকুতি জানান।

সাথী বলেন, ‘শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারে অসুস্থ হয়ে তিন তিনবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। সারাদিন কাজ করালেও এরা খেতে দেয় না, ঘুমাতে গেলে অত্যাচার বেড়ে যায়। কোন শান্তি নেই’।

জানা গেছে, ৬ মাস আগে সংসারের সচ্ছলতা ফেরানো ও অসুস্থ ছেলের চিকিৎসার টাকা জোগাড়ের জন্য স্থানীয় দালাল আনোয়ার হোসেনের মাধ্যমে সৌদিতে পাড়ি জমান সদর উপজেলার দোস্তপাড়া এলাকার সাইফুলের স্ত্রী সাথী বেগম। সেখানে রাজধানী রিয়াদের অহেলা নামক মহল্লার একটি বাড়িতে তাকে কাজ দেওয়া হয়।

সাথীর পরিবারের সদস্যরা জানায়, ভালো জায়গায় কাজের কথা বলে সৌদিতে নেওয়া হলেও এক মানসিক রোগীকে দেখাশোনার কাজ দেওয়া হয় সাথীকে। দিনে দিনে সাথী নিজেই এখন মানসিক রোগীতে পরিণত হয়েছেন। শারিরীক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে সাথী বেশ কয়েকবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এখন দেশে ফেরার আকুতি জানাচ্ছেন। দেশে ফিরিয়ে না আনলে আত্মহত্যা করে সাথী নিজের জীবন শেষ করার কথাও বলেছে পরিবারকে।

সাথীর সাথে এ প্রতিবেদকের কথা হলে তিনি জানান, এক মানসিক রোগীর দেখাশোনার দায়িত্ব পড়েছে তার ওপর। সেই নারী ও বাড়ি লোকজন তার ওপর নানা ভাবে অত্যাচার নির্যাতন চালায়। নির্যাতনের বিষয়টি ওই নারীর ছেলেরা জানলেও কোন পদক্ষেপ না নিয়ে তারাও উল্টো মানসিক নির্যাতন চালায়।

সাথী বলেন,‘সারা দিনে খাবার খেতে দেয় না, আমি রান্না করে খেতে গেলেও ভাতের থালা ফেলে দেওয়া হয়। মারধর করে প্রতিনিয়ত, রাতের বেলা ঘুমাতে গেলেও ঘুমাতে দেওয়া হয় না। এখন এখানে বন্দি অবস্থায় আছি, নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে একদিন পালিয়ে যাই। পরে পুলিশ ধরে এনে আবার এই বাড়িতে রেখে যায়। আমি দেশে ফিরতে চাই। দেশে ফিরিয়ে না নিলে নিজের জীবন শেষ করে দেব প্রয়োজনে।’

এদিকে স্ত্রীর ওপর নির্যাতন খবরে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন সাথীর রিকশাচালক স্বামী সাইফুল ইসলাম। তিনি বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোন ফল না হতাশ হয়ে পড়েছেন। আর চুক্তি অনুযায়ী বেতনও মিলছে না, তাই সাইফুলের বড় ছেলেও তার মাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

সাথীর স্বামী সাইফুল ইসলাম জানান, স্থানীয় দালাল আনোয়ার হোসেন ভাল কাজ দেওয়ার কথা বলে তার স্ত্রীকে সৌদিতে পাঠায়। এখন তার ওপর অত্যাচার নির্যাতন চালানো হচ্ছে। এসব কথা বলতে গেলে তারা তাকে মারতে আসে, হুমকি দেয়।

সাইফুল বলেন, আমি আমার স্ত্রীকে ফেরত চাই। তাকে দেশে আনা হোক। বিষয়টি জানিয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রনালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলেও জানান সাইফুল।

এদিকে দালাল আনোয়ার হোসেনের খোঁজে তার বাড়িতে গেলে ছেলে ও স্ত্রী জানায়, সাথী বিদেশে অনেক ভালো আছে, আপনাদের মাথা ঘামানোর দরকার নেই এসব নিয়ে। তবে সাথীর স্বামীর দাবি, তারা মিথ্যা বলছে।

বটতৈল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিন্টু ফকির জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা বিব্রত, আনোয়ারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। সাইফুল লিখিত অভিযোগ করলে বিষয়টি তিনি দেখবেন বলেও জানান।

এসবি/জেআর