সোনালি আঁশে সুদিনের আশা


সাহেব-বাজার ডেস্ক : সোনালি আঁশের সুদিন ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বর্তমানে পাট থেকে তৈরি হচ্ছে ২৩৫ রকমের আকর্ষণীয় ও মূল্যবান পণ্য। পাট থেকে তৈরি হচ্ছে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ। বিশ্ববাজারে প্রায় ৫০ হাজার কোটি পাটের ব্যাগের চাহিদা রয়েছে।

এর ১০ শতাংশ বাজার দখল করতে পারলে বছরে আয় করা সম্ভব ৫০ হাজার কোটি টাকা। পাট খাতের বৈশ্বিক রপ্তানি আয়ের ৭২ শতাংশ এখন বাংলাদেশের দখলে। এ জন্য পাটের সুদিন ফেরাতে চায় সরকার।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানির বিপরীতে নগদ সহায়তার প্রথম কিস্তির ২০০ কোটি টাকা ছাড় করেছে অর্থ বিভাগ। প্রণোদনার টাকায় যেন অনিয়ম না হয়, সে জন্য আটটি শর্ত দেওয়া হয়েছে। গত ২৮ আগস্ট প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কাছে পাঠানো চিঠিতে এসব শর্তের কথা জানানো হয়।

এদিকে  মঙ্গলবার সদস্য মিলগুলোকে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএ)। জরুরি ভিত্তিতে নগদ সহায়তার টাকা ব্যাংক থেকে সংগ্রহের জন্য যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাকে পাঠানো চিঠিতে অর্থ বিভাগের তরফ থেকে বলা হয়েছে, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে ভর্তুকি ব্যবস্থাপনার আওতায় পাটজাত দ্রব্য খাতে প্রথম কিস্তি বাবদ ২০০ কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুকূলে ছাড় করা হয়েছে।

সরকারের শর্তগুলো হলো- প্রথম কিস্তিতে ছাড় করা অর্থ দিয়ে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের অনুকূলে খাতভিত্তিক নগদ সহায়তা ও ভর্তুকি পরিশোধ করতে হবে। নগদ সহায়তার দাবি পরিশোধের পর নিরীক্ষায় প্রাপ্য অর্থের চেয়ে বেশি নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট অর্থ আদায় করে গ্রহীতার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্যবস্থা গ্রহণের পর তা অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগে জানাতে হবে।

নগদ সহায়তার অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত সব আর্থিক বিধিবিধান, অনুশাসন ও বিভিন্ন খাতে বরাদ্দের নীতিমালা মানতে হবে। অর্থগ্রহীতাকে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছে অঙ্গীকার দিতে হবে যে, প্রাপ্যতার অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ বা অন্য কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে যে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে এবং প্রদত্ত অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য থাকবে।

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছর শেষে রপ্তানি খাতে নগদ সহায়তা ও ভর্তুকি পরিশোধে বিদ্যমান পদ্ধতি এবং এর প্রভাব সম্পর্কে একটি বিস্তারিত মূল্যায়ন প্রতিবেদন অর্থ বিভাগে পাঠাতে হবে, যা নগদ সহায়তা গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান সরবরাহ করবে। কেবল প্রয়োজন অনুযায়ী সংযুক্ত তহবিল থেকে অর্থ তোলা যাবে।

অর্থ বিভাগ সূত্র আরও জানিয়েছে, ছাড় করা অর্থের ভিত্তিতে মহাহিসাব নিরীক্ষক (সিজিএ) ডেবিট অথরিটি জারি করবে এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে প্রাপ্ত ভর্তুকি দাবির বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারি হিসাব করে রপ্তানি ভর্তুকি পরিশোধ করতে পারবে।

এদিকে নতুন অর্থবছরে পাট খাতেও আশা জাগতে শুরু হয়েছে। গত ২০২১-২২ অর্থবছরে অন্য সব খাত ভালো করলেও কেবল পাট খাতেই রপ্তানি কমেছিল। ইপিবির তথ্যে দেখা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি থেকে ৬ কোটি ৩৯ লাখ ১০ হাজার ডলার দেশে এসেছে। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ১৭ শতাংশ।

এসবি/এমই