সিনেমাশূন্য আরও একটি ঈদ

  • 7
    Shares

সাহেব-বাজার ডেস্ক: করোনা ভাইরাস(কোভিড-১৯)’-এর কারণে স্থবির আজ সারা বিশ্ব।বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে। যার কারণে চার মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ ছিলো প্রায় সকল ধরনের কার্যক্রম।

অন্যান্য সেক্টরের মতো চলচ্চিত্র পাড়াতেও করোনার প্রভাব লক্ষণীয়। বন্ধ ছিলো সকল শুটিং।তবে সম্প্রতি শর্ত সাপেক্ষে ফের শুরু হয়েছে শুটিং। শুটিং শুরু হলেও খুলেনি সিনেমা হল। গত ১৮ মার্চ থেকে চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতি, প্রদর্শক সমিতিসহ সংশ্লিষ্ট সব সমিতি মিলে হল বন্ধের ঘোষণা দেয়। প্রথমে ২ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধের ঘোষণা এলেও পরে করোনো পরিস্থিতি খারাপ এখন পর্যন্ত হল বন্ধ রয়েছে। যার ফলে গত রোজার ঈদেও খোলেনি সিনেমা হল।ফলে কোটি কোটি টাকা লোকসান হয়েছে চলচ্চিত্র শিল্পের।

এদিকে আসছে কোরবানি ঈদেও খুলছে না দেশের সিনেমা হল। সম্প্রতি তথ্য মন্ত্রণালয়ে প্রদর্শক সমিতির নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে এ সিদ্ধান্ত জানান তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘করোনার প্রকোপ চলাকালীন সময়ে দেশে বন্যার আঘাত এসেছে। এমন সময় সিনেমা হল খোলা ঠিক হবে না। কারণ করোনা বা বন্যায় শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে সিনেমা চালানো সম্ভব নয়। পাশের দেশ ভারত কিংবা পাকিস্তানেও সিনেমা হল খুলছে না।’

চলচ্চিত্র শিল্পের স্বর্ণালী যুগ ফিরিয়ে আনতে কাজ হচ্ছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন,’চলচ্চিত্র শিল্পকে বাঁচানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিক। তিনি অনেক কিছুই করছেন সিনেমার সোনালি দিন ফিরিয়ে আনতে। তিনি আমাদের প্রতিনিয়ত নানা নির্দেশনা ও পরামর্শ দেন। সবকিছু ভেবেচিন্তে মনে হচ্ছে এ মুহূর্তে সিনেমা হল চালু করা সঠিক সিদ্ধান্ত হবে না। আমরা আরও ধীরে এগুতে চাই এই ব্যাপারে।’

এদিকে তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা শেষে প্রদর্শক সমিতির উপদেষ্টা মিঁয়া আলাউদ্দিন জানান, প্রদর্শক সমিতির নেতাদের দাবি ছিল ঈদে সিনেমা হল খুলে দেওয়া হোক। কিন্তু সরকার এখনই এ সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে না। তাই ঈদ উপলক্ষে সিনেমা হল খুলবে না। দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এ নিয়ে আবার আলোচনা হবে।

এদিকে পর পর দুই ঈদে সিনেমা হল না খোলায় বিপাকে পড়েছেন সিনেমা হল গুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি কাজী শোয়েব রশিদ বলেন, সিনেমা হল যদি না বাঁচে প্রযোজক সিনেমা বানালে কোন লাভ নেই। সিনেমা বাঁচাতে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।

সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন উজ্বল বলেন, ‘সিনেমা ও সিনেমা হল বাঁচাতে সরকারি প্রণোদনা জরুরি। আমরা সরকারের কাছে প্রণোদনার দাবি জানিয়েছি। আশা করি এটি দ্রুত বাস্তবায়ন হবে।’


  • 7
    Shares