শুক্রাণুতে মিলেছে করোনার অস্তিত্ব

  • 1
    Share

সাহেব-বাজার ডেস্ক : মহামারি করোনা ভাইরাসে করাল থাবায় স্তব্ধ পুরো পৃথিবী। সংক্রমণ তো কোনোভাবেই থামছে না, তার ওপর গবেষণায় পাওয়া যাচ্ছে নতুন নতুন তথ্য। এবার বিজ্ঞনীরা গবেষণায় দেখেছেন শক্রাণুতেও পাওয়া গেছে করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব।

এতদিন লালা রসে তার উপস্থিতির কারণে চুম্বন করা বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা ছিল। এছাড়া করমর্দনে ছিল মানা। ফলে কতটুকু ঘনিষ্ঠতা নিরাপদ, তা নিয়ে চিন্তায় ছিলেন স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ। এবার সেই কফিনে পোঁতা হয়ে গেল শেষ পেরেকটিও।

স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা, কিছুদিন আগে ১২ জন মৃদু উপসর্গের কোভিড রোগীকে নিয়ে এক গবেষণা করেছেন। রোগ সেরে যাওয়ার পর তাঁদের শুক্রাণুতে ভাইরাসের কোনও চিহ্ন ছিল না। ফলে ভাবা হয়েছিল, যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে রোগ ছড়াবে না। তাঁদের সে আশায় ছাই পড়েছে এবার। হাসপাতালে ভর্তি গুরুতর অসুস্থ কম বয়সি ৩৮ জন রোগীর সিমেন স্টাডি করেন বিজ্ঞানীরা।

১৫ জনের শুক্রাণু নেওয়া হয় রোগের জটিল পর্যায়ে। তার মধ্যে ৪ জনের শুক্রাণুতে ভাইরাসের হদিস মেলে। বাকি ২৩ জন দেন রোগ একটু সামলে যাওয়ার পর। তাঁদের মধ্যেও দু’জনের সিমেন পজিটিভ। চীনে হওয়া এই স্টাডিটি বিজ্ঞানীরা প্রকাশ করেছেন ‘জার্নাল অব আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন নেটওয়ার্ক ওপেন’-এ।

এই স্টাডি থেকে তো বোঝা যাচ্ছে, রোগ হালকাভাবে থাকলে ও পুরোপুরি সেরে গেলে ভয় নেই! আর বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রোগ তো হালকাই থাকে! চিন্তা জটিল রোগীদের নিয়ে। তবে বিভিন্ন গবেষণা থেকে যা জানা গেছে, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষদেরই রোগ জটিল হয় বেশি। তাঁদের দু’এক মাস ধাতস্থ হতে দিলে হয়তো সমস্যা মিটে যাবে। তা হলে বিজ্ঞানীরা এত চিন্তায় পড়লেন কেন?

তার কারণ হচ্ছে দু’এক মাসেই যে সমস্যা মিটবে, এমন নাও হতে পারে। কারণ শুক্রাশয়, চোখ, প্ল্যাসেন্টা, ভ্রুণ ও কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র হল এমন জায়গা, যেখানে ভাইরাস থেকে যেতে পারে দিনের পর দিন। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার হাত সেখান পর্যন্ত পৌঁছে চট করে তাদের ধ্বংস করতে পারে না।

কোনও ব্যাকেটিরিয়া, ভাইরাস বা অন্য কিছুর সূত্রে শরীর যখন ভয়ানক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তাকে উদ্ধার করতে উঠে পড়ে লাগে। যত বিপর্যয় জটিল রূপ ধরে, তত মরিয়া হয়ে ওঠে ইমিউনিটি। জীবাণু মারতে এমন সব রাসায়নিকের ক্ষরণ বাড়াতে শুরু করে, যাদের প্রভাবে মন্দ হয় বেশি। প্রবল প্রদাহ শুরু হয়ে যায় শরীর জুড়ে। গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যঙ্গগুলি তাল সামলাতে না পেরে একে একে খারাপ হতে শুরু করে।

বিপর্যয় নেমে আসে শরীরে। প্রকৃতি হয়তো শরীরের এই কয়েকটি গুরুতর অংশকে এই বিপদের হাত থেকে বাঁচাতে চায়। তাই সে এমন ব্যবস্থা করেছে, যাতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার বাড়াবাড়ি এ সব অংশে না পৌঁছায়। সেই কারণেই এ সব জায়গার ভাইরাস কিছু দিন নিশ্চিন্তে বসবাস করতে পারে।

তবে বিষয়টি নতুন কিছু নয়। বিজ্ঞানীরা জানতেন সবই। তবে সেই জানা কথা নতুন রূপে তাঁদের কাছে এসে হাজির হয় ২০১৩-২০১৬-এই সময়কালে, যখন ওয়েস্ট আফ্রিকান ইবোলা ভাইরাস তার শাখা-প্রশাখা মেলছে। রোগ সেরে যাওয়ার পর বছর তিনেক পর্যন্ত কারও কারও শুক্রাণুতে ইবোলা ভাইরাসের হদিস পাওয়া যায়। যৌন সংসর্গের মাধ্যমে সে ছড়ায় বেশ কয়েক মাস পর্যন্ত।

এদিকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, কোভিড রোগীর শুক্রাণুতে পাওয়া গেছে শুধু ভাইরাসের আরএনএ-টুকু। আরএনএ আছে মানেই যে জীবিত ভাইরাসটিও আছে, এমন নয়। আর সে না থাকলে সংক্রমণের আশঙ্কা নেই। তবে স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা বলছেন, হাত যেমন ধুচ্ছেন, মাস্ক যেমন পরছেন ঠিক তেমন ভাবে শারীরিক সম্পর্কের সময় গর্ভনিরোধক ব্যবহার করুন।

এসবি/এআইআর


  • 1
    Share