শিবিরের হাতে নিহতদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ তৈরির দাবি


নিজস্ব প্রতিবেদক: মৌলবাদীদের হাতে নিহত সকল শহীদদের স্মরণে স্মৃতিসম্ভ নির্মাণের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর সাবেক ও বর্তমান নেতারা। শহীদ জুবায়ের চৌধুরী রিমুর ২৯তম মৃত্যুবার্ষিকীতে এই দাবি জানানো হয়।

নেতৃবৃন্দ বলেন, একাত্তরের পরাজিত শক্তি জামায়াত শিবিরের হাতে মতিহার চত্বরে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী প্রাণ দিয়েছে। শিবিরের হামলায় পঙ্গুত্ববরণ করছেন অনেক শিক্ষার্থী। শুধু ছাত্রমৈত্রী না রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে হামলার শিকার হয়েছে বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। প্রাণও হারিয়েছেন অনেক নেতা। তাদের স্মরণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের কাছে একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরির দাবি করা হয়। সে স্মৃতিস্তম্ভে সকল শহীদদের নাম থাকবে।

সোমবার বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর নেতা শহীদ জুবায়ের চৌধুরীর রিমুর ২৯তম হত্যাবার্ষিকী পালন হয়। এদিন বেলা ১১টায় দলীয় টেন্ট থেকে শোকর‌্যালি বের হয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে শহীদ শামসুজ্জোহা হলের সামনে শহীদ রিমুর স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা জানান নেতৃবৃন্দ। এর আগে শহীদ স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন ও শপথবাক্য পাঠ করান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা ও ওয়ার্কার্স পার্টির মহানগর সভাপতি লিয়াকত আলী লিকু।

শ্রদ্ধা জানানো শেষে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ছাত্রমৈত্রীর কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক ও রাজশাহী মহানগর সভাপতি ওহিদুর রহমান ওহি। সভায় বক্তরা জামায়াত শিবিরসহ সকল ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে বলেন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ করে আমরা স্বাধীনতা লাভ করি। কিন্তু পাকিস্তানী প্রেতাত্মা ঘাতক জামায়াত শিবির এখনও দেশে আছে। তাদের নিবন্ধন বাতিল হলেও নিষিদ্ধ করা হয়নি।

বক্তারা বলেন, দুর্গাপূজা আসলে একটি গোষ্ঠী অস্থিতিশীল করার উপায় খুঁজে। তারা চায় না বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক একটি রাষ্ট্র হোক। এই দেশে সকল ধর্মের মানুষ সমান। সব ধর্মের মানুষ দেশ স্বাধীনে ভূমিকা রেখেছে তাই অবিলম্বে সকল ধর্মভিত্তিক দল নিষিদ্ধ করা এখন সময়ের দাবি।

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রমৈত্রীর সাবেক সভাপতি ও ওয়ার্কার্স পার্টির রাজশাহী মহানগর সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ প্রামানিক দেবু, সাবেক ছাত্রনেতা ও যুবমৈত্রীর সম্মেলন প্রস্তুত কমিরি আহ্বায়ক মতিউর রহমান মতি, ছাত্রমৈত্রীর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়ক তানভীর ইসলাম নাইম, সদস্য মেহেদী হাসান। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন জেলা ছাত্রমৈত্রীর হাফিজুর রহমান হাফিজ।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, সাবেক ছাত্রনেতা আবদুল মতিন, নাজমুল করিম অপু, আলী আফতাব তপন, শামীম ইমতিয়াজ সুমন, আকসারুজ্জামান সুমন, মোহায়মিনুল হক রানা, বিমান চক্রবর্তী, ছাত্রমৈত্রীর মহানগর সহ-সভাপতি সাকিব আল হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় সরকার প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে ছাত্রশিবিরের সন্ত্রাসীদের পরিকল্পিত হামলায় নিহত হন বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী নেতা শহীদ জুবায়ের চৌধুরী রিমু। সবাই টিভি রুমে থাকায় কিছু বোঝার আগেই সশস্ত্র শিবির কর্মীদের হামলার শিকার হন হলের ছাত্ররা। শিবির সন্ত্রাসীরা পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বিভিন্ন রুমে রুমে তল্লাসী চালায় এবং বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর নেতা কর্মীদের খুঁজে খুঁজে নৃশংসভাবে হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়।

এই পৈশাচিকতার এক পর্যায়ে শিবির সন্ত্রাসীরা ছাত্রমৈত্রী নেতা বিশ্ববিদ্যালয় টিমের মেধাবী ক্রিকেটার এবং ক্যাম্পাসের জনপ্রিয় মুখ জুবায়ের চৌধুরী রিমুকে সামনে পেয়ে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। কেটে দেয়া হয় রীমুর হাত-পায়ের রগ। এতেই সন্তুষ্ট হয়নি ঘাতকেরা। মেঝেতে পড়ে থাকা রীমুকে কুপিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে।

 

এসবি/এমই