শান্তি ও কল্যাণের পক্ষে বাংলাদেশ

  • 1
    Share

করোনা দুর্যোগ মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলোকে কাজ করানোর ক্ষেত্রে জাতিসংঘের কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে বরাবরের মতো এবারও তিনি বাংলায় ভাষণ দেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে। আমরা জানি, জাতিসংঘে বাংলাদেশ সদস্যপদ লাভের পর ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রথম বাংলায় ভাষণ দিয়ে বাংলাকে বিশ্বদরবারে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান। এবারের অধিবেশনে সময়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় করোনা ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সংকটসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ছয় দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। রোহিঙ্গা ইস্যুতে পুনর্বার তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, মিয়ানমারকে অবশ্যই রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

করোনা দুর্যোগ বর্তমান বিশ্ববাস্তবতায় যে প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে, এর জন্য তিনি বৈশ্বিক সংহতি ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর যে আলোকপাত করেছেন, নিঃসন্দেহে তা দূরদর্শী ও প্রশংসনীয়। কভিডমুক্ত একটি বিশ্ব গড়ে তুলতে সবার জন্য সর্বজনীন ও সাশ্রয়ী মূল্যে টিকাপ্রাপ্যতা নিশ্চিতকরণে যে জোর তিনি দিয়েছেন, তা বিশেষ গুরুত্ববহ বলে আমরা মনে করি। আমরা দেখছি, করোনার টিকার ক্ষেত্রে এখনও অব্যাহত রয়েছে বৈষম্য। এর আগে বুধবার জো বাইডেন ‘হোয়াইট হাউস গ্লোব কভিড-১৯ সামিট :এন্ডিং দ্য প্যানডেমিক অ্যান্ড বিল্ডিং ব্যাক বেটার হেলথ সিকিউরিটি’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল সম্মেলনের আয়োজন করেন। তিনিও কভিড-১৯ অতিমারির অবসানে ঐক্যবদ্ধভাবে বিশ্বের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ও অন্যদের প্রতি অনুরূপ আহ্বানই জানিয়েছেন।

করোনা টিকার মেধাস্বত্ব উন্মুক্ত করে দেওয়ার বিষয়টি জোরালোভাবে সামনে আসার প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বান আরও নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আমরা মনে করি। আশা করা যায়, দ্রুতই তা উন্মুক্ত হবে এবং এমতাবস্থায় বাংলাদেশও যুক্ত হতে পারবে বৈশ্বিক উদ্যোগে। জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত সংকট এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশসহ অধিক ক্ষতিগ্রস্ত ও ভুক্তভোগী দেশগুলোর বাস্তবতা গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেওয়ার ব্যাপারে ফের যে নতুন প্রস্তাবনা ও তাগিদ প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন, এরও ইতিবাচক উদ্যোগ ধনী ও কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর কাছে প্রত্যাশিত। আমরা দেখছি, এ পরিবর্তন ক্রমেই বিপদাশঙ্কা বাড়াচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন, ধনী অথবা দরিদ্র কোনো দেশই এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া থেকে নিরাপদ নয়।

আমরা এই সম্পাদকীয় স্তম্ভেই লিখেছিলাম, ধনী-শিল্পোন্নত ও কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর এর দায় এড়ানোর অবকাশ নেই। এ জন্য তাদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি করণীয় সবকিছুই করতে হবে। নিপীড়ন-নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গাদের দায়িত্ব বহন করে চলেছে বছরের পর বছর বাংলাদেশ। বাস্তুচ্যুত এই বিপুল জনগোষ্ঠীর বোঝা বইতে গিয়ে বাংলাদেশকে যে নানামুখী সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে, তা বিশ্ব সম্প্রদায়ের দ্রুত আমলে নেওয়া উচিত। মিয়ানমারে রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে যে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে, এর নিরসনে বিশ্ব সম্প্রদায়ের জোরদার ভূমিকা-সহযোগিতা বাংলাদেশ যৌক্তিক কারণেই প্রত্যাশা করে। মিয়ানমার যেভাবে তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গ করে চলেছে, বর্তমান আধুনিক বিশ্বে তা বিস্ময়কর ও দুঃখজনক। প্রধানমন্ত্রী এও যথার্থ বলেছেন, সংকটের সৃষ্টি মিয়ানমারে, সমাধানও মিয়ানমারে।

আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য- রোহিঙ্গাদের মানবিক, মর্যাদাপূর্ণ ও নাগরিক অধিকার দিয়ে নিজভূমে তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার দায় মিয়ানমারেরই। আমরা চাইব, বিশ্বনেতারা মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ মিয়ানমার সরকার কর্তৃক সৃষ্ট সব অপরাধের ব্যাপারে নৈতিক তাগিদে উচ্চকণ্ঠ হবেন। সন্ত্রাস, সহিংসতা, উগ্রবাদের বিরুদ্ধে ও শান্তির পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান সুস্পষ্ট। শান্তি ও মানবকল্যাণের পক্ষে দেশে-বিদেশে লড়াই জারি রাখতেই হবে।

এসবি/জেআর


  • 1
    Share