‘শনিবার বিকেল’ সেন্সরে আটকে, ‘ফারাজ’ পাচ্ছে মুক্তি


সাহেব-বাজার ডেস্ক: বলিউড নির্মাতা হংসল মেহতার ‘ফারাজ’ চলচ্চিত্র আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাচ্ছে। ২০১৬ সালের ১ জুলাই ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছেন। চলচ্চিত্রে ফারাজ নামে এক তরুণের সেই দিনের বীরত্ব ও ত্যাগ পর্দায় তুলে ধরা হয়েছে।

তবে একই ঘটনার ছায়া অবলম্বনে বাংলাদেশে নির্মিত মোস্তফা সরোয়ার ফারুকীর ‘শনিবার বিকেল’ এখনও সেন্সরেই আটকে আছে। ‘শনিবার বিকেল’ মুক্তি না দেওয়া নিয়ে বহু দিন ধরেই আলোচনা হয়ে আসছে। বাংলাদেশের ঘটনা নিয়ে ভারতে নির্মাণ ‘ফারাজ’ মুক্তির দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার পর ফের আলোচনায় ‘শনিবার বিকেল’।

‘শনিবার বিকেল’ মুক্তির ব্যাপারে এবং পর্দায় গল্প বলার স্বাধীনতা চেয়ে দীর্ঘ দিন ধরে আলোচনা চলছে। গত বছর ২৫ আগস্ট ঢাকায় চলচ্চিত্রের কলাকৌশলীরা একত্র হয়ে কাঁটাতার সামনে রেখে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে ‘শনিবার বিকেল’ মুক্তির জোর দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি চলচ্চিত্রটির সেন্সর ছাড়পত্র না পাওয়ার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়। তবে এ নিয়ে নানা অঙ্গনে আলোচনা হলেও সেন্সর বোর্ড কর্তৃপক্ষ এতোদিন পেরিয়ে গেলেও কোনোকিছুই জানায়নি।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট নিয়ে ভারতে নির্মিত ‘ফারাজ’ মুক্তির বিষয়ে ইতোমধ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নির্মাতা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে লিখেছেন, প্রিয় বাংলাদেশ। প্রিয় তথ্য মন্ত্রনালয়। গুলশানের হোলি আর্টিজান নিয়ে নির্মিত ভারতীয় ছবি “ফারাজ” মুক্তি পাচ্ছে ফেব্রুয়ারীর ৩ তারিখ। আর এই বঙ্গদেশের এক অধম ফিল্মমেকার ঐ ঘটনার অনুপ্রেরনা নিয়ে “শনিবার বিকেল” বানিয়ে আজকে চার বছর সেন্সরে আটকা। আমাদের ছবি আর্টিজানের ঘটনা পুনর্নির্মাণ করে নাই, এমন কি ঐ ক্যাফের ভিতরের কোনো চরিত্র পুনর্নির্মাণও করে নাই! তার পরও এই সাজা পাওয়ার একমাত্র কারণ কি এই দেশের নাগরিক হওয়া? ধন্যবাদ সব কিছুর জন্য। ইতিহাস নিষ্ঠুর। সে সব কিছু মনে রাখে।’

ফারুকীর ব্যক্তিগত প্রদর্শনীতে নির্মাতা মোরশেদুল ইসলাম ‘শনিবার বিকেল’ চলচ্চিত্রটি দেখেছেন। এ নিয়ে তিনি লিখেছেনও পরে। তিনি বলেছেন, ‘এ ছবিতে বাংলাদেশ এবং এ দেশের মানুষের মানবিক গুণাবলিকে করা হয়েছে মহিমান্বিত। হলি আর্টিজানের সেই নৃশংস ঘটনা আমাদের সবার ব্যক্তিজীবনে যে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছিল, এই ছবি আমাদের সেই ক্ষত উপশমে এবং বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলেই আমার বিশ্বাস।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক, গবেষক আ-আল মামুন বলেন, ‘ফারাজ মুক্তি পাচ্ছে শনিবার বিকেল মুক্তি পাচ্ছে না এই তুলনা চলে না। একই ঘটনা অবলম্বনে চলচ্চিত্র দুইটি নির্মিত হলেও দুইটির গল্প আলাদা হতে পারে। তবে বিষয় হচ্ছে শনিবার বিকেল মুক্তি দিতে হবে। সিনেমা এভাবে আটকে রাখা ঠিক না।’

ভারতে ‘ফারাজ’চলচ্চিত্রটির প্রযোজনা করেছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান টি সিরিজ। বিএফআই লন্ডন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে গত বছর সিনেমাটির প্রিমিয়ার হয়েছে।

২০১৬ সালের ১ জুলাই সংঘটিত হওয়া এ নৃশংস সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাস্থলে মৃত্যুর মুখেও বন্ধুদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন ২০ বছরের তরুণ ফারাজ আইয়াজ হোসেন। সন্ত্রাসীরা এ দিন দেশি-বিদেশি ২২ জনকে হত্যা করে। এ ঘটনাটি সেসময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে নানাভাবে প্রকাশ পায়। সেখান থেকেই গল্পগুলোকে নিজের মতো করে হুবহু সন্নিবেশ করেন পরিচালক।

ভ্যারাইটিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে হংসল মেহতা বলেন, এই গল্পের মাধ্যমে গভীরভাবে দেখানো হয়েছে ধর্মীয় বিষয়গুলো বিভিন্ন মানুষের কাছে কী অর্থ বহন করে। গল্পটি তরুণদের মনে গভীরভাবে নাড়া দিবে। আমি যখন ঘটনাগুলো পড়ি, একটি বেকারিতে সন্ত্রাসীদের হামলা হয়েছে এবং সেখানে অনেক মানুষ জিম্মি, তখনই আমি আবিষ্কার করি এখানে অবিশ্বাস্য মুহূর্ত রয়েছে। আমি বলব, এটা তরুণদের গল্প, একইসঙ্গে আমাদের সময়ের গল্প।’