শতাধিক মৃত্যুর সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল বিড়াল


সাহেব-বাজার ডেস্ক : আদুরে মিঁউ মিঁউ ডাক, বারবার গা ঘেঁষে আদর পেতে চাওয়ার অনুনয় কার না ভালো লাগে! বাড়িতে একটা বিড়াল থাকা মানে ঘরময় একটা আদর–আদর ব্যাপার চলে আসা। দিন শেষে ঘরে ফেরার পর আদর পাওয়ার জন্য পায়ে-পায়ে ঘুরে বেড়াতে যেমন এদের জুড়ি নেই ঠিক তেমনি তারা কিছু অদ্ভুত ক্ষমতার অধিকারীও হয়ে থাকে।

আমেরিকার রোড আইল্যান্ডের ‘স্টিয়ার হাউস নার্সিং অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার’-এ বাস করত ‘অস্কার-দ্য হসপিস ক্যাট’ নামের এক বিড়াল। আশ্চর্য ভাবে মৃত্যুর সঠিক ভবিষ্যৎবাণী করার ক্ষমতা ছিল আমেরিকার এই বিড়ালের। আর সেই কারণেই বিখ্যাত এই বিড়াল।

হাসপাতাল এবং শুশ্রূষাকেন্দ্রে বিভিন্ন প্রাণী, বিশেষ করে বিড়ালের সংস্পর্শে রেখে কিছু অসুস্থ রোগীকে সুস্থ করার চেষ্টা করানো হয়। এই বিড়ালদের ‘থেরাপি ক্যাট’ বলা হয়। রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে অস্কারকে থেরাপি ক্যাট হিসেবেই কাজে লাগানো হত। ২০০৫ সাল থেকে শুশ্রূষাকেন্দ্রে থাকতে শুরু করে অস্কার। ওই চিকিৎসাকেন্দ্রে অস্কারসহ মোট ছয়টি থেরাপি ক্যাট ছিল।

২০০৭ সাল নাগাদ অস্কার খবরের শিরোনামে উঠে আসে। ‘নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিন’-এ ‘জেরিয়াট্রিশিয়ান’ ডেভিড ডোসার লেখা একটি নিবন্ধে প্রথম প্রকাশ্যে আসে অস্কারের কাহিনি।

ডোসার দাবি, অস্কার অসুস্থ রোগীদের মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে তাদের বিছানায় গিয়ে ঘুমাতো। অর্থাৎ এই চিকিৎসাকেন্দ্রের কোনো কর্মী যদি দেখতেন যে, অস্কার কোনো রোগীর বিছানায় গিয়ে ঘুমাচ্ছে, তারা ধরে নিতেন যে ওই রোগীর মৃত্যু নিশ্চিত। এক কথায়, রোগীদের মৃত্যু নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারত অস্কার।

ডোসার ২০১০ সালে লেখা বই, ‘মেকিং রাউন্ডস উইথ অস্কার: দ্য এক্সট্রাঅর্ডিনারি গিফট অব অ্যান অর্ডিনারি ক্যাট’-এ অস্কারের বিভিন্ন কাণ্ড নিয়ে বিস্তারিতভাবে লেখা রয়েছে। ওই চিকিৎসাকেন্দ্রে সাধারণত মানসিক রোগীদের চিকিৎসা হত। তবে ‘থেরাপি ক্যাট’ হিসেবে আনা হলেও রোগীদের প্রতি অস্কারের আচরণ মোটেও বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল না। বেশির ভাগ সময়ই সে একা একা থাকত। তাকে কেউ কাছে টানার চেষ্টা করলে সে বিরক্তই হত। হাসপাতালের অনেক কর্মী তাকে ‘মেজাজি বিড়াল’ বলেও ডাকতেন।

অস্কার প্রায় ছ’মাস ওই চিকিৎসাকেন্দ্রে থাকার পরে হাসপাতাল কর্মীরা লক্ষ করেন, সে প্রায়ই রোগীদের পাশে গিয়ে ঘুমাতে পছন্দ করে। আর এর ঠিক কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওই রোগীর মৃত্যু হয়।

জোয়ান টেনো নামে এক চিকিত্সকের এই বিষয়টি প্রথমে নজরে আসে। পরে তিনি লক্ষ করেন যে, রোগীদের মারা যাওয়ার দু’ঘণ্টা আগে সেখানে এসে উপস্থিত হয় অস্কার।

অস্কার বার বার এ রকম করার পর কর্মীরা তার ‘ক্ষমতা’ সম্পর্কে এক প্রকার নিশ্চিত হয়ে যান। অস্কারকে কোনো রোগীর পাশে ঘুমাতে দেখলেই সেই রোগীর প্রতি বিশেষ যত্ন নিতে শুরু করতেন চিকিৎসকরা। তবে শেষরক্ষা আর হত না। ২০১৫ সাল পর্যন্ত অস্কার প্রায় ১০০ জনের মৃত্যুর ভবিষ্যদ্বাণী করেছে বলে ওই হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মীদের দাবি।

চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি কিছু দিন অসুস্থ থাকার পর অস্কারের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ১৭ বছর।

 

এসবি/এমই