রামেকে রোগী কমলেও কমছে না মৃত্যু

  • 32
    Shares

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। উত্তরের সবচেয়ে বড় এ হাসপাতালটিতে এখন রোগী কমলেও মৃত্যু কমছে না। বরং জুনের মৃত্যুর রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে জুলাইয়ে। অথচ জুন মাসে যে রোগীর চাপ ছিল, তা এখন নেই। তারপরও মৃত্যু না কমার কারণ হিসেবে চিকিৎসকেরা বলছেন, দেরি করে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কারণেই মৃত্যু কমছে না।

রামেক হাসপাতালে গোটা জুন মাসে মারা গেছেন ৪০৫ জন। আর জুলাইয়ে মাসে মারা যান ৫৩৫ জন। আগস্ট মাসের প্রথম দিনে মারা গেছেন আরও ১৮ জন। এদের মধ্যে ছয়জন করোনা পজিটিভ ছিলেন। অন্য সাত জন মারা গেছেন করোনার উপসর্গ নিয়ে। এছাড়া করোনা নেগেটিভ হয়েও মারা আরও পাঁচজন।

জুন মাসে শয্যা সঙ্কটের কারণে অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমে না গেলে হাসপাতালে কোন রোগী ভর্তি নেয়া হতো না। অথচ এখন হাসপাতালে শয্যা খালি থাকছে।

রোববার সকাল ৮টায় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ৪৩৩ জন। হাসপাতালে করোনা ডেডিকেটেড শয্যার সংখ্যা ৫১৩টি। এখন হাসপাতালে এলে কোন রোগীকেই ফিরিয়ে দেয়া হয় না। সবাই ভর্তি হতে পারেন। কিন্তু ঈদের আগে ও পরে থেকে হাসপাতালে এখন রোগীর চাপই কমে গেছে। সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ৫৩ জন। আর ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪৬ জন।

এখন প্রতিদিন যারা মারা যাচ্ছেন তাঁদের বেশিরভাগই ভর্তি করার কম সময়ের মধ্যেই মারা যাচ্ছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, গ্রাম থেকে রোগী আসছেন দেরি করে। ফুসফুস এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত থাকছে যে শেষ মূহুর্তে কিছু করার থাকছে না।

রামেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, গ্রামের রোগীরা অসচেতন। তাঁরা অনেকেই আক্রান্ত হওয়ার পর বুঝতে পারছেন না। এ ছাড়া লকডাউন, ঈদ এসব কারণেও জ্বর-সর্দি নিয়ে হাসপাতালে আসার আগ্রহ কম। কিন্তু ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যখন শ্বাসকষ্ট শুরু হচ্ছে, তখন আসছেন। এরপর হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা কিংবা আইসিইউ দিয়েও কোন কাজ হচ্ছে না।

পরিচালক বলেন, মারা যাওয়াদের মধ্যে আবার বড় একটি অংশ বয়স্ক। এদের বয়স ৬০ বছরের উপরে। তাদের আরও অনেক রোগ থাকে। হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিক সমস্যা, কিডনী জটিলতা থাকে। আর অন্য রোগে আক্রান্তরা করোনায় আক্রান্ত হলে তাদের ঝুঁকিটাও বেড়ে যায়।

রাজশাহীর সিভিল সার্জন ড. কাইয়ুম তালুকদার বলেন, আমার কাছে মনে হচ্ছে হাসপাতলে যারা আসছে, তাঁরা বেশি খারাপ অবস্থায় আসছে। যার কারণে তাদের অক্সিজেন দিয়েও রিকভারি করা যাচ্ছে না। এ জন্য আমরা উপসর্গ দেখা দিলেই পরীক্ষা করাতে বলছি, যেন শরীরের অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে তাঁরা হাসপাতালে ভর্তি হতে পারে। সে জন্য উপজেলা পর্যায়েও এখন করোনার র‌্যাপিড এন্টিজেন টেস্ট হচ্ছে।

মৃত্যু না কমার কারণ হিসেবে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলী বলছেন, অনেকেই আক্রান্ত হয়ে খারাপ অবস্থাতেও বাড়িতে থাকছেন। মনে করছেন, ভালো হয়ে যাবেন। যখন তাঁরা খুব খারাপ হয়ে যায় তখন হাসপাতালে আসছে। তখন তাঁদের বাঁচাতে পারা যাচ্ছে না। দ্রুত ডাক্তারদের পরামর্শ না নিলে বা হাসপাতালে ভর্তি না হলে মৃত্যু হার কমানো যাবে না বলেও মনে করেন তিনি।

রোগী মারা যাওয়ার পর অনেক স্বজনই অভিযোগ করছেন, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) শয্যা না পাওয়ায় তাঁর স্বজন মারা গেছে। কেননা, হাসপাতালে এখনও আইসিইউ’র জন্য সিরিয়ালে থাকছেন অন্তত ৩০ জন রোগী।

এ প্রসঙ্গে রামেক অধ্যক্ষ বলছেন, ‘আমাদের হাসপাতালে আইসিইউ’র সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এর মধ্যেই ম্যানেজ করে চলতে হচ্ছে। এ অবস্থায় রোগী খারাপ হওয়ার আগেই যদি চিকিৎসকের কাছে যান, তাহলে আইসিইউ’র প্রয়োজনই হবে না। এ জন্য নিজেদের সতর্ক থাকতে হবে। ইগনোর করলে হবে না।’

এসবি/এমই


  • 32
    Shares