রাত পোহালেই ঈদ-উল-আজহা

  • 1
    Share

সাহেব-বাজার ডেস্ক : ত্যাগের মহিমা নিয়ে বছর ঘুরে আবার এসেছে ঈদ-উল আজহা। রাত পোহালেই ঈদ-উল-আজহা। শনিবার দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ঘরে ঘরে পালিত হবে ঈদের উৎসব। সারাদেশ টানা পাঁচমাস ধরে করোনায় আক্রান্ত। এর মধ্যেই চলছে স্মরণকালের দীর্ঘস্থায়ী বন্যা। লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দী। বিশুদ্ধ খাবার পানির সঙ্কট। করোনা ও বন্যার ধকল সহ্য করেও সর্বোচ্চ ত্যাগের প্রস্তুতি নিয়েছে বাঙালি মুসলমানরা। গবাদিপশু কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহ্ প্রতি অপার আনুগত্য এবং সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের বহির্প্রকাশ ঘটাবেন এদিনে। শনিবার সকালে ঈদের নামাজ শেষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আল্লাহর নামে পশু কোরবানিতে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন।

তবে ঈদ-উল-ফিতরের মতো ঈদ-উল-আজহার উৎসবও স্বাস্থ্যবিধি মেনে পালনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই হাটে পশু কেনা-বেচা চলছে। এবারও ঈদের নামাজ মসজিদে আদায় করার জন্য আগেই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ফলে করোনার কারণে ঈদ-উল-আজহায়ও ঈদগাহে হচ্ছে না কোন জামাত। মসজিদেই আদায় করতে হবে। নামাজ শেষে কোলাকুলির দৃশ্যও এই ঈদে চোখে পড়বে না। সামাজিক দূরত্ব মেনে এক কাতার অন্তর তিনফুট দূরত্বে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতে হবে। এছাড়া রাজধানীতে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কোরবানি করার জন্য ইতোমধ্যে সিটি কর্পোরেশন থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে এ বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে।

গত মার্চ মাসের ৮ তারিখ থেকে দেশে করোনা সংক্রমণ শুরু হয়েছে। এর পর এই ভাইরাস দেশে মহামারী আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিনই তিন হাজারের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। মারাত্মক এই ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে প্রথমদিকে সারাদেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও জীবিকার প্রয়োজনে তা শিথিল করা হয়েছে। করোনার প্রভাবে দেশের অর্থনীতি যখন বিপর্যস্ত ঠিক তখনি দেশে বন্যা হানা দিয়েছে। টানা ৩৫ দিন ধরে দেশের লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দী। প্রতিদিনই ডুবছে নতুন নতুন এলাকা।

বন্যার্ত এলাকায় জীবন-জীবিকা সচল করার জন্য সরকারের ত্রাণ তৎপরতা চলছে। ঠিক এমনি এক কঠিন পরিস্থিতিতে খুশির বারতা নিয়ে এসেছে ঈদ-উল-আজহা। হাজারো কষ্টের মধ্যে থেকেও ঈদের দিন আনন্দের বহির্প্রকাশ থাকবে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ঘরে ঘরে।

এদিকে ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয নেত্রী রওশন এরশাদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বাণীতে তাঁরা দেশবাসীকে পবিত্র ঈদ-উল-আজহার শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি মুসলিম উম্মার শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। কোরবানির মহান ত্যাগে বলীয়ান হয়ে দেশ সেবায় আত্মনিয়োগ করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, বছর ঘুরে আবার পবিত্র ঈদ-উল-আজহা আমাদের মাঝে এসেছে। পবিত্র ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে আপনাকে এবং আপনার পরিবারের সবাইকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। করোনাভাইরাস মহামারীর সব অন্ধকার কাটিয়ে ঈদ-উল-আজহা সবার মাঝে আনন্দ বয়ে আনবে। ত্যাগের মহিমায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ ও জনগণের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

করোনাভাইরাসের বিস্তার বন্ধে স্বাস্থ্য নির্দেশিকাগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করার জন্য সকলকে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘ভাল থাকুন এবং সুরক্ষিত থাকুন, ঈদ মোবারক!’ একটি অডিও বার্তায় দেশবাসীকে তিনি ঈদ-উল-আজহার শুভেচ্ছা জানান।

মোবাইল ব্যবহারকারীদের কাছে তাদের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বার্তাটি পৌঁছানো হয়।

রাত পোহালেই পালিত হবে ঈদ-উল-আজহা। ত্যাগ স্বীকারের অনন্য মহিমার দিন ঈদ-উল-আজহা। বিশ্বের মুসলমানদের অন্যতম প্রধান পবিত্র ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানও এটি। দিনটিকে ঘিরে ইতোমধ্যে সারাদেশে শুরু হয়েছে আনন্দ ও উৎসবের বন্যা। করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই এবারও বসেছে কোরবানির একাধিক পশুর হাট। তবে গতবারের মতো এবার পশুহাটের কেনাবেচায় আনন্দ নেই। পরিবারের সবাই দলবেঁধে ছুটতে পারছে না কোরবানির পশু কিনতে। স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী পশুর হাটে একসঙ্গে দুজনের বেশি প্রবেশ করা যাবে না। ফলে এবার হাটে কেনাবেচা থাকলেও ভিড় অনেক কম। এর বাইরে এবার অলনাইনে জমে উঠেছে কেনাবেচনা। অনেকে বাড়তি সতর্কতা হিসেবে অনলাইনেই কেনাবেচার ওপর নির্ভর করছেন।

ঈদের নামাজের বিধিনিষেধ: গত ঈদ-উল-ফিতরের ন্যায় এবারও ঈদ-উল-আজহার নামাজ মসজিদে বসেই আদায় করতে হবে। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আগেই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। গত ১৪ জুলাই ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে ঈদ-উল-আজহার নামাজ আদায়ে ভাইরাস সংক্রমণ রোধে মসজিদে জামাত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো পরিহার করতে হবে। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে সারা বিশ্বসহ বাংলাদেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে মুসল্লিদের জীবন ঝুঁকি বিবেচনা করে এ বছর ঈদ-উল- আজহার জামাত ঈদগাহ বা খোলা জায়গার পরিবর্তে নিকটস্থ মসজিদে আদায় করতে হবে। প্রয়োজনে একই মসজিদে একাধিক জামাত আদায় করা যাবে।

ঈদের নামাজের জামাতের সময় মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। নামাজের পূর্বে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। মুসল্লিরা প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন। প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসা থেকে অজু করে মসজিদে আসতে হবে। অজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধ নিশ্চিত করতে মসজিদে অজুর স্থানে সাবান বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে। মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সাবানপানি রাখতে হবে।

ঈদের নামাজের জামাতে আগত মুসল্লিকে অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না। ঈদের নামাজ আদায়ের সময় কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে দাঁড়াতে হবে এবং এক কাতার অন্তর অন্তর কাতার করতে হবে। শিশু, বৃদ্ধ, যে কোন ধরনের অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদেও সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি ঈদের নামাজের জামাতে অংশগ্রহণ করবেন না। সর্বসাধারণের সুরক্ষা

এসবি/এআইআর


  • 1
    Share