রাজশাহী বিভাগে তিনজন ডুবুরি!

  • 2
    Shares

নিজস্ব প্রতিবেদক : খাল-বিল, নদী-নালায় প্রায়ই ঘটছে মানুষের ডুবে যাওয়ার ঘটনা। অনেক সময় মরদেহটিও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তখন ভরসা করতে হচ্ছে ডুবুরিদের ওপর। কিন্তু রাজশাহী বিভাগে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি মাত্র তিনজন। বিভাগের আট জেলায় উদ্ধার তৎপরতা চালাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় তাঁদের।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাজশাহী সদর স্টেশনে যে তিনজন ডুবুরি আছেন তাঁরা হলেন- জুয়েল রানা, রিপন হোসেন ও মো. রওশন। মো. নুরুন্নবী নামে আরেকজন ডুবুরি ছিলেন। তিনি পদোন্নতি পেয়ে লিডার হয়েছেন। ফলে তিনজনকেই এখন কাজ করতে হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিসের রাজশাহীর কর্মকর্তারা বলছেন, রাজশাহী সদর স্টেশন ছাড়া বিভাগের অন্য কোন জেলায় ডুবুরি নেই। কখনো কখনো একটি উদ্ধার অভিযান চালানোর সময় আরেক জায়গায় ডুবে যাওয়ার খবর আসে। তখন একটি ছেড়ে আরেক জায়গায় যাওয়া যায় না। আবার একটি অভিযান শেষ করে আরেক জায়গায় যেতে দেরি হয়ে যায়।

ফায়ার সার্ভিস বিভাগের তথ্যমতে, ডুবে মারা যাওয়ার ঘটনা বেশি ঘটে বর্ষাকালে। অনেক ঘটনার তথ্য ফায়ার সার্ভিসে আসে না। তবে ডুবে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় জীবিত বা লাশ উদ্ধার না হলেই ফায়ার সার্ভিসকে বলা হয়। রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত এমন ১৭টি ডাক পেয়েছে রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। তাঁরা ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছেন একজন।

গত ২১ আগস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরমোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের একটি খালে ডুবে মারা যায় রাশেদুল ইসলাম নামে এক কিশোর। স্থানীয়রা চাঁপাইনবাবগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। তারপর রাজশাহী থেকে ডুবুরি দল যেতে বিকাল হয়ে যায়। ডুবুরি দল দেড় ঘণ্টা চেষ্টার পর রাশেদুলের মরদেহ উদ্ধার করে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক ছাবের আলী প্রামাণিক জানান, তাঁদের অফিসে ডুবুরির পদই নেই। পদ সৃষ্টির জন্য তিনি জানিয়েছিলেন। অন্তত জেলা পর্যায়ের স্টেশনগুলোতে ডুবুরি দল থাকা উচিত বলেও মনে করেন এই কর্মকর্তা।

রাজশাহীর তিন ডুবুরির লিডার মো. নুরুন্নবী বলেন, আমি ডুবুরি হিসেবে চাকরিতে যোগ দিয়েছি ১৯৯০ সালে। তখন দেশে ২৫ জন ডুবুরি নিয়ে ফায়ার সার্ভিসে এই বিভাগ চালু হয়। কিন্তু এখনও ডুবুরির সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিদর্শনে এলে আমরা জানাই, এটির প্রয়োজনীয়তা কত বেশি। এখন আবার কিছু নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে বলে শুনেছি।

দীর্ঘদিন ডুবুরি হিসেবে কাজ করা এই ব্যক্তি বলেন, আগে সাঁতার জানা মানুষের সংখ্যা বেশি ছিলো। তখন ডুবে যাওয়ার ঘটনা কম ঘটত। এখন নতুন প্রজন্মের বেশিরভাগই সাঁতার জানে না। তাঁরা নৌভ্রমণে বের হয়ে কিংবা শখ করে গোসলে নেমে দুর্ঘটনায় পড়ে। ফলে ডুবুরিদের কাজ বেড়েছে। এখন তিনজনকে আট জেলায় কাজ করতে হিমশিম খেতে হয়।

রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক আব্দুর রশিদ বলেন, আমাদের এখানে তিনজন ডুবুরি, তাঁদের জন্য একটা গাড়ি আর প্রয়োজসীয় সরঞ্জমাদি। বিভাগের যেকোনো জেলায় দুর্ঘটনার খবর পেলে তাঁরা সেখানে গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। কিন্তু জনবল সংকটে আমরা মাঝেমাঝেই বিড়ম্বনায় পড়ি। কারণ একটি উদ্ধার কাজ চলাকালে আরেকটির খবর এলে দ্বিতীয় টিম দেয়ার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, ডুবুরিদের একজন লিডার আছেন। তাঁকে ধরলে চারজন হয়। তাঁদেরও দুইভাগে কাজ করানোর সুযোগ নেই। কারণ, একটি টিম অভিযানে গেলে দ্বিতীয় টিমের কাছে আর সরঞ্জাম থাকে না। দড়ি, অক্সিজেনসহ যেসব সরঞ্জাম লাগে, সেগুলো দ্বিতীয় টিমকে দেয়া যায় না। আবার গেলেও দূরের পথে যেতে অনেক সময় লেগে যায়। এ কারণে স্থানীয়রা কখনো কখনো নাখোশও হন।

তিনি আরও বলেন, আমাদের সীমাবদ্ধতা আমরা সদর দপ্তরে জানিয়েছি। ইতোমধ্যে মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে জন্য কিছু ডুবুরি নিয়োগ দেয়া হয়েছে, কিন্তু সেগুলো শূন্য পদের বিপরীতে। আমাদের এখানে পদ শূন্য নেই, সে কারণে আমরা পাইনি।

এসবি/আরআর/এমই


  • 2
    Shares