রাজশাহীর চার পৌরসভায় নির্বাচন চলছে


নিজস্ব প্রতিবেদক : পৌরসভা নির্বাচনের চতুর্থ ধাপে রোববার রাজশাহীর চারটি পৌরসভায় ভোটগ্রহণ চলছে। পৌরসভাগুলো হলো, গোদাগাড়ী উপজেলার গোদাগাড়ী, তানোরের তানোর, পবার নওহাটা এবং বাগমারার তাহেরপুর। এর মধ্যে শুধু গোদাগাড়ীতে ভোট হবে ইভিএমে। বাকি তিনটিতে ভোট হবে ব্যালটে।

গোদাগাড়ী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে লড়ছেন চারজন। তারা হলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অয়েজ উদ্দীন বিশ্বাস (নৌকা), আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল ইসলাম বাবু (নারিকেল গাছ), বিএনপির প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া রুলু (ধানের শীষ) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী জামায়াত নেতা ড. ওবায়দুল্লাহ (জগ)। এদের মধ্যে মনিরুল ইসলাম বাবু বর্তমান মেয়র।

১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রথম শ্রেণির গোদাগাড়ী পৌরসভায় ভোটার রয়েছেন ৩২ হাজার ২৯৭ জন। গোদাগাড়ীতে ৯টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৯ জন ও সংরক্ষিত তিনটি ওয়ার্ডে নারী কাউন্সিলর পদে ১৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

তানোর পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী তিনজন। তারা হলেন, আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী ইমরুল হক (নৌকা), বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মিজানুর রহমান মিজান (ধানের শীষ) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মালেক (নারিকেল গাছ)। এদের মধ্যে মিজান পৌরসভার বর্তমান মেয়র। আর আব্দুল মালেক বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী।

১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত তানোর পৌরসভাটি এখনো ‘গ’ শ্রেণিভুক্ত। তানোর পৌরসভায় ভোটার ২৪ হাজার ৬৬৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১২ হাজার ৩৮ জন ও নারী ভোটার ১২ হাজার ৬২৯ জন।

বাগমারার তাহেরপুর পৌরসভা নির্বাচনে লড়াইয়ের মাঠে রয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ (নৌকা), বিএনপির প্রার্থী আবু নঈম শামসুর রহমান মিন্টু (ধানের শীষ)। এদের মধ্যে আবুল কালাম আজাদ বর্তমান মেয়র। আর আবু নঈম শামসুর রহমান মিন্টু পৌরসভার সাবেক মেয়র।

নওহাটা পৌরসভায় মেয়র পদে প্রার্থী রয়েছেন তিনজন। নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন হাফিজুর রহমান হাফিজ, ধানের শীষের প্রার্থী বর্তমান মেয়র শেখ মো. মোকবুল হোসেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নারিকেল গাছ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী আবদুল বারী খান। নওহাটায় মোট ভোটার ৪৩ হাজার ৮৪২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২১ হাজার ৬৫৩ জন এবং নারী ২২ হাজার ১৮৯ জন।

নওহাটা পৌরসভাটি রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) পবা, এয়ারপোর্ট ও শাহমখদুম থানা এলাকায় পড়েছে। এর মধ্যে পবা ও এয়ারপোর্ট থানা এলাকার ১৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণের জন্য ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আরএমপি। আরএমপি কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক পুলিশ লাইন্সের প্যারেড মাঠে নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন।

আরএমপি জানিয়েছে, নওহাটার ১৯টি কেন্দ্রে নির্বাচনসুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ৯টি মোবাইল টিম, ২টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, ২টি চেকপোস্ট এবং ৭টি স্ট্যান্ডবাই টিম রাখা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য রায়টগিয়ারসহ স্পেশাল রিজার্ভ,ওয়াটার ক্যানন ও এপিসি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, নির্বাচন উপলক্ষে শুক্রবারের মধ্যেই সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। চারটি পৌরসভায় শান্তিপূর্ণভাবে সুষ্ঠু একটি নির্বাচন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 

এসবি/এমই