রাজশাহীতে হোটেল কক্ষ যেন সোনার হরিণ

  • 63
    Shares

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভর্তি পরীক্ষার জন্য ৩ থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত হোটেলে সিট সংকট দেখা দিয়েছে। একটি হোটেল কক্ষ যেন সোনার হরিণ এখানে। হোটেলের রুম খুঁজতে পরীক্ষার্থীর বন্ধু কিংবা স্বজনরা হন্যে হয়ে ঘুরছেন। হোটেল কর্তৃপক্ষ বলছেন, সপ্তাহখানেক আগেই বুকিং দেওয়া শেষ। ভর্তি পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থী, অভিভাবকদের পদচারণে মুখর থাকে রাজশাহী। বিপুল শিক্ষার্থীর আবাসন সুবিধার চাপ সামলাতে বড় ভূমিকা রাখে হলগুলো।

তবে এবার হল বন্ধ রেখেই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত কর্তৃপক্ষের। ফলে চাপ বেড়েছে আবাসিক হোটেলগুলোয়। রাজশাহী আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি খন্দকার হাসান কবির জানান, রাজশাহী শহরে ছোট বড় মিলিয়ে আবাসিক হোটেল ৬০ থেকে ৬৫টি। এতে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার মানুষকে রাখা সম্ভব। প্রতি বছরই রাবির ভর্তি পরীক্ষার সময় হোটেলের একটি কক্ষের জন্য হাহাকার দেখা দেয়।

মহানগরীর সাহেববাজারের নাইস ইন্টারন্যাশনাল হোটেলটির ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর মোল্লা বলেন, ‘আমাদের রুমগুলো সব এসি। তাই চাহিদাও বেশি। দুই সপ্তাহ আগেই বুকিং শেষ। প্রতিদিন অন্তত ১০০ ফোন রিসিভ করছি, সবাই রুমের জন্য ফোন করছেন। আমরা দিতে পারছি না। অনেকে সশরীরে আসছেন রুম খুঁজতে। তাদেরও ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে।’ রেলগেট এলাকার হোটেল গুলশানের ব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ জানালেন, তাদের হোটেলে সব শ্রেণির কক্ষে ৭২ জনকে রাখার ব্যবস্থা আছে। এক সপ্তাহ আগে বুকিং শেষ হয়ে গেছে। এখন আর বুকিং নেওয়া সম্ভব নয়। তিনিও প্রতিদিন ৩০-৩৫ জনকে ফিরিয়ে দিচ্ছেন। হোটেল ডালাস ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপক মো. আলমগীর বলেন, এখনো অনেক মেস খোলেনি। আবার মেসে অভিভাবকদেরও থাকার সুযোগ নেই। সে কারণেই রাবির ভর্তি পরীক্ষার সময় প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের খুব বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।

৪ অক্টোবর রাবিতে ‘সি’ ইউনিটের (বিজ্ঞান) পরীক্ষা। পরদিন ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষাও তিন শিফটে হবে। ৬ অক্টোবর ‘বি’ ইউনিটের (বাণিজ্য) পরীক্ষা। সব মিলিয়ে আসবেন প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার শিক্ষার্থী। আগের বছরগুলোয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল, রিডিং রুম, পেপার রুম, মসজিদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরেই বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা অবস্থান করলেও এবার কোথাও তাদের থাকতে না দেওয়ার এক রকম সিদ্ধান্ত আছে।

এদিকে রাজশাহীতে ছোট বড় মিলিয়ে মেস আছে প্রায় ৫ হাজার। সেখানে ১ লাখের বেশি শিক্ষার্থী থাকেন। রাজশাহী মহানগরী মেস মালিক সভাপতি এনায়েতুর রহমান জানান, রাবির পরীক্ষা নিয়ে যে সমস্যা তা নিয়ে তারাও ভাবছেন। রাবি উপাচার্য, জেলা প্রশাসক ও নগর পুলিশের কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা করে তারা একটা সিদ্ধান্ত নেবেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘ সময় হলগুলো বন্ধ থাকায় সেগুলোর সংস্কারকাজ করতে হচ্ছে। আমাদের শিক্ষার্থীরা কষ্ট করে বাইরে থেকেই পরীক্ষা দিচ্ছে। তাদের বঞ্চিত করে বাইরের শিক্ষার্থীদের জন্য হলগুলো খুলে দেওয়া সম্ভব নয়।’

এসবি/জেআর


  • 63
    Shares