রাজশাহীতে মাছের দাম কম, তবু নেই ক্রেতা

  • 44
    Shares

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীতে গত তিন দিন ধরেই বাজারে মাছের আমদানি অনেক বেশি। ব্যবসায়ীদের কাছে থরে থরে সাজানো নানা রকমের মাছ। আমদানি বেশি হওয়ায় দাম কমেছে প্রতিটি মাছের। কিন্তু দাম কমলেও বাজারে নেই মাছের ক্রেতা। বিক্রেতারা বসে থাকছেন ক্রেতার আশায়।

রাজশাহীতে হঠাৎ করেই মঙ্গলবার ও বুধবার পুকুরে অক্সিজেন স্বল্পতায় ৬১৬ মেট্রিক টন মাছ মারা যায়। ফলে চাষিরা তড়িঘড়ি করে মাছ বিক্রি করতে শুরু করেন। এত মাছ বাজারে একসাথে আসায় হঠাৎ করেই মাছের দাম কমে যায়। ফলে ক্রেতারা তুলনামুলক অনেক কম দামে মাছ কিনতে পারেন। অনেকেই একসাথে ১৫ থেকে ২০ কেজি মাছ কিনেছেন। দুই দিনে অতিরিক্ত মাছ কেনার কারণে শুক্রবার বাজারে মাছের ক্রেতার সংকট দেখা যায়। মাছের দাম অস্বাভাবিক কম হলেও ক্রেতার দেখা পাচ্ছিলেন না মাছ বিক্রেতারা। বাজারে বসে অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে তাদের।

তবে নগরীর সাহেববাজারের অনেক মাছ বিক্রেতাই বলেছেন, মাছের দাম কমে যাবার কারণে ইলিশ মাছ দায়ী। বাজারে হঠাৎ ইলিশের আমদানিও অনেক বেড়ে গেছে। কমেছে দাম। তাই যারা এখন মাছ কিনতে আসছেন তারা ইলিশই কিনছেন। ফলে অন্য মাছের দামও অনেক কমে গেছে।

শুক্রবার বাজারে ইলিশের কেজি ছিলো ৪০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত। অথচ তিন দিন আগেই ইলিশের দাম ছিলো কেজি প্রতি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত। পবা মাছের দাম কমেছে কেজি প্রতি ১৬০ টাকা করে। পবার দাম কয়েকদিন আগে ৪৬০ টাকা কেজি থাকলেও এখন দাম ছিলো ৩০০ টাকা।

রূপচাঁদার দাম কমেছে কেজি প্রতি ২০০ টাকা করে। রুপচাঁদার দাম ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি হলেও দাম ছিলো ৮০০ টাকা। তেমনি দাম কমেছে রুই মাছেরও। রুই মাছ ২৫০ টাকা কেজি হলেও দাম কমে ১৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। কাতল মাছের দাম কমেছে কেজি প্রতি ৪০ টাকা করে। এর দাম কেজি প্রতি ২২০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। মৃগেল মাছের দাম কমেছে কেজি প্রতি ২০ টাকা করে। মৃগেল মাছ এখন ১৬০ টাকা কেজিতেই কিনতে পারছেন ক্রেতারা।

দাম কমেছে কৈ, পাঙ্গাস, মাগুরেরও। কৈ ও পাঙ্গাস মাছের দাম কমেছে কেজি প্রতি ২০ টাকা করে। কৈ মাছ এখন ১৮০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। তেমনি ১০০ টাকা কেজিতে পাঙ্গাস মাছ কিনতে পারছেন ক্রেতারা। মাগুর মাছের দাম কমেছে কেজি প্রতি ১৫০ টাকা করে। তিন দিন আগে ৫০০ টাকা কেজিতে পাওয়া গেলেও এখন ৩৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। বোয়াল মাছের দাম কমেছে কেজি প্রতি ২৫০ টাকা করে। এখন বোয়াল মাছ ৩৫০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে।

দাম কমেছে চিংড়ি, চিতল ও পাতাসী মাছেরও। চিংড়ি মাছের দাম, কমেছে কেজি প্রতি ৪০০ টাকা করে। এখন চিংড়ি মাছ ৬০০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। চিতল মাছের দাম কমেছে কেজি প্রতি ১০০ টাকা করে। চিতল মাছ ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। দাম কম পাতাসী মাছেরও। পাতাসী মাছের দাম কমেছে কেজি প্রতি ২০০ টাকা করে। পাতাসী মাছ দুই দিন আগেও ৬০০ টাকা কেজি থাকলেও শুক্রবার দাম কমে ৪০০ টাকা হয়েছে।

মাছ নিয়ে বাজারে বসে ছিলেন বিক্রেতারা মোকলেস হোসেন। তিনি বলেন, আজকে মাছের বাজারের খুব খারাপ অবস্থা। ইলিশের জন্যই দাম কমেছে অন্য মাছের। এত কম দামেও মাছ বিক্রি করতে পারছি না।

মাছ কিনতে গিয়েছিলেন এনামুল হোসেন। তিনি বলেন, গত কয়েকদিন ধরেই সব কিছুর দাম অনেক বেশি বেড়েছেৎ। একমাত্র আজ মাছের দামটাই কম। মাছ ছাড়া সবকিছুর দাম বাড়তি।

এসবি/এসএসকে/জেআর


  • 44
    Shares