রাজশাহীতে বেড়েছে ঘোল-মাঠার চাহিদা

  • 39
    Shares

নিজস্ব প্রতিবেদক: সারাবছরই ঘোল আর মাঠা বিক্রি করেন গৌড় ঘোষ। আগে ২০ লিটার দুধের ঘোল-মাঠা বিক্রি হতো। এখন ১২০ লিটার দুধের ঘোল-মাঠাতেও বাজারের চাহিদা মেটাতে পারছেন না গৌড়। তিনি বলছেন, প্রতিবছর রোজায় ঘোল-মাঠার চাহিদা বেজায় বাড়ে। এবার লকডাউন চললেও চাহিদা ভাল।

গৌড় ঘোষের বাড়ি রাজশাহী মহানগরীর কুমারপাড়া ঘোষপাড়া এলাকায়। গৌড়ের বাবা অনিল চন্দ্র ঘোষও ঘোল-মাঠা বানাতেন। ছোটবেলায় বাবার হাতেই গৌড় শিখেছেন ঘোল-মাঠা তৈরির কলাকৌশল। অনিল চন্দ্র ঘোষ মারা গেছেন অনেক দিন আগেই। তবে বাবার দেখানো কৌশলে ঘোল-মাঠা তৈরি করে বিক্রি করেন গৌড়। এখন তাঁর বয়স ৪০। অন্তত ২৫ বছরে ধরে রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজারে ফুটপাতে বসে ঘোল-মাঠা বিক্রি করেন গৌড় ঘোষ।

বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) বিকালে সাহেববাজারে গৌড়ের সঙ্গে তাঁর ভাই অসিত ঘোষ, অসিম ঘোষ ও উৎপল ঘোষ এবং ভাতিজা অর্পিত ঘোষকেও পাওয়া গেল। টুলের ওপর ঘোলের বোতল সাজিয়ে একটু দূরে দূরে বসেছিলেন তাঁরা। সবাই বিক্রি করছিলেন নিজের মত করে।

গৌড় জানালেন, মূলত তিনিই ঘোল ও মাঠা তৈরি করেন। রোজায় এসবের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। ক্রেতা সামলাতে তাঁকে একা হিমশিম খেতে হয়। এখন লকডাউনে তাঁর ভাই-ভাতিজারা বাড়িতে বসে আছেন। তাই সবাইকে নিয়েই তিনি ঘোল-মাঠা বিক্রি করছেন। লাভ যা হবে সবাই ভাগাভাগি করে নেবেন। তাহলে এই লকডাউনেও সবার দু’পয়সা আয় হবে।

গৌড় জানান, প্রতিদিন তিনি এখন ১২০ লিটার দুধের ঘোল ও মাঠা তৈরি করেন। সবই বিক্রি হয়ে যায়। লকডাউন ও রোজার আগে বড়জোর ২০ লিটার দুধের ঘোল-মাঠা বিক্রি হতো। এখন ক্রেতা বাড়লেও আগের রমজান মাসের মত নয়। লকডাউনের কারণে এবার সেই তুলনায় ক্রেতা কম। আগের বছরগুলোতে তিনি রমজানে শুধু ১৫ হাজার টাকার খালি বোতলই কিনতেন। এবার লকডাউনে বিক্রি কম হতে পারে এমন আশঙ্কায় কারখানা থেকে বোতল কেনেননি। রেস্তোরাঁ থেকে পুরনো পানির বোতল সংগ্রহ করেই ঘোল-মাঠা বিক্রি করছেন।

গৌড়ের কাছে ঘোল কিনতে গিয়ে মুরাদুল ইসলাম (৪০) নামে এক ব্যক্তি বলেন, প্রতিবছর রোজায় ইফতারের পর তিনি ঘোল অথবা মাঠা পান করেন। এতে তাঁর তৃষ্ণা মেটে। শরীরের ক্লান্তিও দূর হয়। মুরাদুল বলেন, বাজারে নানারকম পানীয় পাওয়া যায়। কিন্তু বেশিরভাগই ভেজাল। রোজা রেখে সেগুলো পান করলে শরীরের ক্ষতি। আমি ঘোলের ওপরেই নিশ্চিন্তে ভরসা রাখতে পারি। ঘোষেরা এতে ভেজাল কোন কেমিক্যাল মেশান না। ঘোষ আমার দীর্ঘদিনের চেনা।

আরেক ক্রেতা সাইফুল ইসলাম (৫৫) জানালেন, ইফতারের সময় একটু মাঠা খাবেন বলে এই লকডাউনে তিনি হাঁটতে হাঁটতে চলে এসেছেন সাহেববাজারে। তাঁর বাড়ি নগরীর হেতেমখাঁ এলাকায়। সাইফুল বলেন, মাঠা খাওয়ার অভ্যাস পুরনো। ঘোলও ভাল লাগে। সারাদিন রোজা রাখার পর একটু মাঠা খেলে ভাল লাগে। ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। এটা পেটের জন্যও ভাল।

নগরীর কল্পনা সিনেমা হলের মোড়ে ঘোল-মাঠা বিক্রি করছিলেন বিশ্বজিৎ ঘোষ (৩০)। তিনি জানালেন, তাঁর বাবা রণজিৎ ঘোষও সারাবছর ঘোল-মাঠা বিক্রি করেন। দাদা ডুগু ঘোষও ছিলেন এই পেশায়। বিশ^জিতের কনফেকশনারি দোকান আছে। রোজায় ঘোল-মাঠার চাহিদা বাড়ে বলে তিনি এগুলো বিক্রি করেন। তাঁর বাবাও শহরের অন্য স্থানে বিক্রি করেন। রোজায় রোজ তাঁদের বাড়িতে ১৪০ লিটার দুধের ঘোল-মাঠা তৈরি হয়। বাবা-ছেলে মিলে এসব বিক্রি করেন। একেকজন আড়াই থেকে তিন হাজার টাকার বিক্রি করেন। লাভ থাকে প্রায় হাজার টাকা।

রনজিৎ জানান, এক লিটার ঘোলের দাম ৫০ টাকা। মাঠার দাম লিটারপ্রতি ১০০ টাকা। দুটোরই চাহিদা সমান। রোজায় বেশ ভাল বিক্রি হচ্ছে। লকডাউন না থাকলে আরও বেশি বিক্রি হতো। রসজিৎ বলেন, পুরো রাজশাহী শহরে পুরনো প্রায় ১৫ জন মানুষ সারাবছর ঘোল-মাঠা বিক্রি করেন। রোজা এলে মৌসুমি আরও অন্তত ৩০ জন ব্যবসায়ী যোগ দেন এ পেশায়।

এসবি/আরআর/জেআর


  • 39
    Shares