রাজশাহীতে বাসায় গিয়ে আ.লীগ নেতাকে হত্যার চেষ্টা


নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানা (পূর্ব) আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিকুর রহমানকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে রাজশাহী মহানগরীর মুন্সিডাঙ্গা মহল্লায় বাড়িতে গিয়ে দুই ব্যক্তি তাকে হত্যার চেষ্টা চালান। পরে দুঃসাহসিক অভিযান চালিয়ে পুলিশ দুজনকে আটক করেছে। তবে কেন হত্যার চেষ্টা সে প্রশ্নের উত্তর মিলছে না।

আটক একজনের নাম ওয়াহিদ মুরাদ জামিল ওরফে লিংকন (৫৬)। তিনি নগরীর উপশহরের একটি চারতলার নিজের ফ্ল্যাটে থাকেন। আটকের পর ওয়াহিদ পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি ‘এভারেস্ট হোমস লিমিটেড’ নামের একটি ডেভেলপার কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক। একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন বলেও দাবি করেছেন। ওয়াহিদের আমেরিকার নাগরিকত্ব রয়েছে বলেও তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন।

তাঁর সঙ্গে আটক অন্যজনের নাম সজল আলী (২৫)। তিনি ওয়াহিদের গাড়িচালক, দেহরক্ষী এবং ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেন। রাতে মদ্যপ অবস্থায় আওয়ামী লীগ নেতা কালুকে হত্যার জন্য পিস্তল হাতে বাড়ির সামনে গিয়েছিলেন ওয়াহিদ। কিন্তু কেন এই হত্যাচেষ্টা তা পুলিশকে বলেননি। কালু রাজশাহীর সিটিহাট পশুহাটের অন্যতম ইজারাদার। ওয়াহিদের সঙ্গে আগে কখনও কোনদিন দেখাও হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

রাতে ওয়াহিদ ও সজল আলী আওয়ামী লীগ নেতা কালুর বাসার সামনে যখন যান তখন ওয়াহিদের হাতে পিস্তল ছিল। ওয়াহিদ বাড়ি লক্ষ্য করে প্রথমেই এক রাউন্ড গুলি চালান। তারপর গলির দিকে আরেক রাউন্ড গুলি করেন। শব্দ শুনে তিনতলা থেকে নেমে এলেন আতিকুর রহমান কালু। তখনই ওপাশ থেকে তিন রাউন্ড গুলি করা হয়। লোহার ফটক পেরিয়ে গুলি ভেতরে যেতে পারেনি বলে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান কালু। তিন রাউন্ড গুলি ছোড়ার পর দুজন পালিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বোয়ালিয়া থানা পুলিশ।

এরপর দুজনকে ধরতে রাতেই অভিযান শুরু করা হয়। ভোররাতে উপশহরের একটি বাসা থেকে দুজনকে আটক করা হয়। বাসায় তল্লাশি চালিয়ে প্রাইভেটকার ছাড়াও অস্ত্র ও গুলি জব্দ করা হয়। ওয়াহিদের ঘরে পাওয়া গেছে একটি অত্যাধুনিক শর্টগান, ৮৭ রাউন্ড শর্টগানের তাজা কার্তুজ, ১৩টি খোসা, একটি অত্যাধুনিক পিস্তল, ৩১ রাউন্ড পিস্তলের তাজা গুলি, ছয়টি খোসা এবং তিনটি ম্যাগজিন।

ওয়াহিদের এমন হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ নেতা আতিকুর রহমান কালু বলেন, আমি ওয়াহিদকে চিনি না। কেন হত্যার চেষ্টা তা জানি না। এটা পুলিশকেই খতিয়ে দেখতে বলেছি।’

বোয়ালিয়া থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘কেন এই হত্যা চেষ্টা সে বিষয়ে আটক দুজনও কিছু বলছেন না। আমরা জানার চেষ্টা করছি।’ তিনি জানান, আটক দুজনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা হবে। একটি মামলা করবেন আতিকুর রহমান কালু। পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার কারণে পুলিশও একটি মামলা করবে বলেও জানান তিনি।

এসবি/আরআর/এআইআর