রাজশাহীতে তিন অভিযানে পাঁচ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার

  • 11
    Shares

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী মহানগরীতে আলাদা তিনটি অভিযান চালিয়ে ছয়জন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরমধ্যে নগরীর রাজপাড়া থানা দুজন এবং বোয়ালিয়া থানা তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। রাজপাড়ায় গ্রেপ্তার হওয়া দুজন শহরের অত্যন্ত দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারী হিসেবে পরিচিত। দুজনেই দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন মাদক সেবন করেন।

এ দুজন হলেন- নগরীর বোয়ালিয়া থানার হেতেমখা এলাকার সিরাজুল ইসলাম (২৪) ও শেখপাড়ার এলাকার কাউসার আহম্মেদ শাকিল (২৫)। রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানান, একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটানোর পরই অভিযান চালিয়ে তাদের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুজন পুলিশকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে পালানোর চেষ্টা করলেও ধাওয়া দিয়ে তাদের ধরা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া মালামালসহ নগদ সাড়ে ৭ হাজার টাকা ও ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত একটি চাকু উদ্ধার হয় এবং তাদের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, চাঁপাইনবাগঞ্জ জেলার সদর থানার রাজারামপুর গ্রামে সুমি আক্তার, তার ভাগ্নী শারমিন খাতুন ও খালাতো বোন রিয়া আক্তার ভাগ্নে সোহাগের চিকিৎসার জন্য বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীতে আসেন। চিকিৎসা শেষে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তারা সকলে অটোরিক্সা যোগে দুপুর দেড়টাটায় রাজপাড়া থানার সিপাইপাড়ায় পৌঁছালে সিরাজুল ও শাকিল মোটরসাইকেল যোগে এসে চাকুর ভয় দেখিয়ে তাদের কাছে থাকা একটি ভ্যানেটি ব্যাগ, একটি পার্স ব্যাগ ও অন্যান্য জিনিসপত্রসহ নগদ ১০ হাজার টাকা জোরপূর্বক কেড়ে নেয়।

ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিকের সার্বিক দিক নির্দেশনায় রাজপাড়া থানার ওসি মাজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই শাহীন আকতার, এসআই কাজল কুমার নন্দী ও তাদের টিম গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পেছনের এলাকা থেকে ছিনতাইকারী সিরাজুল ইসলাম ও কাউসার আহম্মেদ শাকিলকে আটক করে। এ সময় আসামীদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া ভ্যানেটি ব্যাগ, পার্স ব্যাগ ও অন্যান্য জিনিসপত্রসহ নগদ সাড়ে ৭ হাজার টাকা উদ্ধার হয় এবং তাদের ব্যবহৃত একটি পালসার মোটরসাইকেল জব্দ করে। গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এদিকে বোয়ালিয়া থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার তিনজনের মধ্যে একজনের নাম মো. অমিত (২৪)। তাঁর কাছ থেকে ছিনতাই করা ছয়টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার অমিত নগরীর দরগাপাড়া এলাকার মো. আরিফের ছেলে। তিনি চন্দ্রিমা থানার আসাম কলোনী রবের মোড় এলাকায় ভাড়া থাকেন। মোবাইল ফোন ছাড়াও তাঁর কাছ থেকে ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত চাকুসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়েছে।

বোয়ালিয়া থানার ওসি নিবারন চন্দ্র বর্মন জানান, বুধবার সন্ধ্যায় নগরীর মনিচত্বর এলাকায় অমিত ও মহিদুল ইসলাম নামের দুই যুবক খোরশেদ আলম (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে ছুরি দেখিয়ে তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেন। এ সময় খোরশেদ চিৎকার করতে শুরু করলে পুলিশ পালানোর সময় আসামি অমিতকে আটক করে। তবে তার সহযোগী মহিদুল পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। ওসি জানান, এ ব্যাপারে দুজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার অমিতকে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

বোয়ালিয়া গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন- নগরীর চন্দ্রিমা থানার মেহেরচন্ডি কড়াইতলা এলাকার জাহেদুল ইসলাম ওরফে জহুরুল ওরফে রেন্টু (৩৫) ও সাধুর মোড়ের আলীমুজ্জামান আলীম (৩২)। এরা ছিনতাই ছাড়াও চাঁদাবাজি ও অপহরণের সঙ্গে জড়িত বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ওসি জানান, গত ১০ জানুয়ারি সাদাব নামের এক কিশোর বর্ণালীর মোড় থেকে হেঁটে উপশহর তার বন্ধুর বাসায় যাওয়ার পথে বিকেল ৪টায় উপশহর উত্তরা ক্লিনিকের মোড়ে পৌঁছামাত্র আসামী জাহেদুল ও আলীমুজ্জামান সাদাবকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি রিক্সা যোগে রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন গলি রাস্তা ঘুরে ঘুরে সর্বশেষ আলিফ-লাম-মিম ভাটার মোড়ে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে আসামিরা সাদাবের কাছে থাকা মোবাইল ফোন হতে তার মায়ের কাছে ফোন দিয়ে নিজেকে ১৯ নং ওয়ার্ডের নেতা পরিচয় দিয়ে বলেন, আপনার ছেলে আমার হেফাজতে আছে, তাকে মারার জন্য লোক ঠিক করা হয়েছে, আপনি দ্রুত ২০ হাজার টাকা পাঠান, টাকা না দিলে আপনার ছেলেকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে। সাদাবের মা মোছাঃ শাহানা আক্তার (৪৪) আসামিদের ভয়ে তাৎক্ষণিক ১৫ হাজার ৩০০ টাকা বিকাশে প্রেরণ করেন। টাকা পাঠানোর ৩৫ মিনিট পর তার ছেলে বাসায় ফিরে আসে। আসামিরা তাকে ছেড়ে দেয়ার সময় প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে তার কাছে থাকা মোবাইল ফোন সেটটি কেড়ে নেয়।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে বুধবার রাত ৮টায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলের আশেপাশের আরএমপির সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা ও সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সহযোগিতায় তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিউমার্কেট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় আসামীদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়। এ নিয়ে মামলা হয়েছে। আসামি জাহেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক ছিনতাই, ডাকাতির প্রস্তুতি ও মাদকের মামলা রয়েছে।

এসবি/আরআর/জেআর


  • 11
    Shares