রাজশাহীতে টিকার এসএমএসে বিড়ম্বনা

  • 130
    Shares

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় গত ১৩ জুলাই থেকে দেয়া শুরু হয়েছে মর্ডানা ইঙ্কের টিকা। উপজেলাগুলো দেয়া হচ্ছে সিনোভ্যাকের টিকা। টিকার কনফার্মেশন এসএমএস নিয়ে ভোগান্তিতে পরেছে টিকা গ্রহেচ্ছুকরা। দ্বিতীয় দফার টিকার রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়েছে গত ৭ জুলাই। কিন্তু অনেকে এই টিকার রেজিস্ট্রেশন করলেও এখনও কনফার্মেশন এসএমএস যায়নি।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেখা যায়, স্বাস্থ্যবিধি না মেনে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকে টিকার কার্ড নিয়ে গেলেও তাদের এসএমএস না আসার কারণে ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। এনিয়ে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, দ্বিতীয় দফায় টিকার রেজিস্ট্রেশন করলেও এসএমএস আসছে না। তাই বাধ্য হয়ে আসতে হচ্ছে মেডিকেলে। কিন্তু মেডিকেল থেকে জানানো হচ্ছে এসএমএস না গেলে টিকা দেয়া যাবে না।

হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, দেখা গেছে উপচেপড়া ভিড়। পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরা থাকলেও টিকা নিতে আগ্রহীদের চাপে স্বাস্থ্যবিধিতে নজরদারি হয়নি। সিরিয়াল পেতে টিকা নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন অনেকে। রেড ক্রিসেন্টের সেচ্ছাসেবীরা টিকার কার্ড আর এসএমএস দেখে বলে দিচ্ছেন বুথ নাম্বার। যাদের এসএমএস আসেনি তাদের চলে যেতে বলা হচ্ছে।

নগরীর নওদাপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও প্রাক্তন স্কুলশিক্ষক আবদুর রহমান প্রায় দেড় ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু অভ্যর্থনা ডেস্কে গেলে এসএমএস না আসার কারণে তাঁকে ফিরিয়ে দেয়া হয়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, গত ৮ তারিখে টিকার রেজিস্ট্রেশন করেছি কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন এসএমএস আসেনি। কিন্তু আমার পরে রেজিস্ট্রেশন করে অনেকে টিকা পেয়েছে।

টিকার রেজিস্টেশন করেছিলেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরেফিন রহমান। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নোটিশ দিয়েছে টিকার রেজিস্ট্রেশন করার জন্য। সার্ভারে সমস্যার কারণে ৮ তারিখে টিকার রেজিস্ট্রেশন করি। কিন্তু এখনও এসএমএস আসেনি। এসএমএস বাদে টিকা দেয়া হচ্ছে কি না দেখতে মেডিকেলে এসেছিলাম। কিন্তু এখানে এসএমএস বাদে টিকা দেয়া হচ্ছে না।

তবে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের টিকাকর্মী ও সেচ্ছাসেবীরা বলছেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের গাফলতির কারণেই টিকা গ্রহণেচ্ছুদের এমন বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হচ্ছে প্রতিদিন। তারা যদি সঠিক ভাবে ডাটা এন্টির কাজগুলো করতো তাহলে সকলের কাছে টিকার কনফার্মেশেন এসএমএস যেত। তাহলে আমরাও কাউকে ঘুরিয়ে দিতাম না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজশাহী মহানগরীতে তিনটি কেন্দ্রে টিকা দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রাজশাহী পুলিশ লাইন হাসপাতালে দেয়া হচ্ছে পুলিশদের জন্য। সেনা হাসপাতালে দেয়া হচ্ছে সেনাবাহিনীর জন্য ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেয়া হচ্ছে নগরবাসীর জন্য। এছাড়াও জেলার নয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেয়া হচ্ছে সিনোফার্মের টিকা। উপজেলাগুলো ভীড় লক্ষ্য না করা গেলেও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। এই কেন্দ্রে প্রতিদিন গড়ে দেড় হাজার করে মানুষ টিকা দিচ্ছেন। যদিও রাজশাহীতে প্রতিদিন টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে তিন হাজারের বেশি। গত ১৩ জুলাই থেকে দ্বিতীয় দফায় টিকা দেয়া শুরু হয়েছে। এরপর থেকে এসএমএস জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেসদৌস বলেন, এসএমএস টিকাদান ও মজুদের বিষয়গুলো রাজশাহী সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ দেখে। রাজশাহী মহানগর এলাকায় রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্তদের এসএমএস পাঠানোর দায়িত্ব রাজশাহী সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন রাজশাহী মহানগরীতে এ পর্যন্ত টিকার রেজিস্ট্রেশন করেছেন ২৭ হাজার মানুষ। গত ৭ ও ৮ জুলাই রেজিস্ট্রেশন হয়েছে ১১ হাজার। আমরা প্রতিদিন রাজশাহী মেডিকেলে গড়ে দেড় হাজার করে টিকা দিচ্ছি। এজন্য এক সাথে এতগুলো মানুষকে কনফার্মেশন এসএমএস দেয়া সম্ভব না।

তিনি বলেন, আমরাও শুনেছি অনেকে টিকা কেন্দ্র থেকে গিয়ে ফিরে আসছেন। কিন্তু সবার কাছে এসএমএস পৌছাবে। সিটি করপোরেশন মূলত ডাটা এন্টির কাজ করে। সুরক্ষা ওয়েব সাইট থেকে এসএমএস যায়। হয়তো দুয়েকদিনের মধ্যে সবার কাছে টিকার এসএমএস চলে যাবে।

এসবি/এমই


  • 130
    Shares