রাজনীতি ও আমার ভাবনা: আবদুল মতিন


১। র-রাষ্ট্র যন্ত্র।
২। জ-জনগণ।
৩। ন-নিয়ম কানুন বা আইন শৃঙ্খলা।
৪। ত-তহবিল বা অর্থ।

র-রাষ্ট্রযন্ত্র
রাজনীতির চার অক্ষরের বিশ্লেষণ নিয়ে আমার লেখা। এই চার অক্ষরের সমন্বয় না থাকলে সেটা হবে নষ্ট বা অপরাজনীতি। গল্প দিয়ে শুরু করা যাক। এক রাজ্যের রাজামশাই পণ্ডিতকে নিয়ে রাজপ্রাসাদের ছাদে হাঁটাহাঁটি করা অবস্থায় নিচে দেখতে পান একজন ভদ্রলোককে দুইজন মিলে টানাটানি করে এবং এক সময় চাকু বের করে বলে—‘তোর কাছে যা আছে বের করে দে, তা না হলে জীবন শেষ করে দেবো।’ লোকটি ভয়ে যা কিছু ছিল বের করে দিল। এই অবস্থা দেখে রাজামশাই পণ্ডিতকে বলেন, কি করে দিনেদুপুরে আমার রাজ্যে প্রকাশ্যে ছিনতাই হচ্ছে? পণ্ডিত উত্তরে বলেন প্রদীপ আলো দেয় ঠিক, কিন্তু প্রদীপের নিচে অন্ধকার থাকে।

আমার বিশ্বাস কোনো দেশের বিশেষ পরিস্থিতির বৈপ্লবিক উপাদান থেকেই ইতিহাস নতুন নেতৃত্ব তৈরি করে। সেই পাল রাজাদের আমল থেকে সেন রাজা, স্বাধীন সুলতানী আমল, মোগল আমল, মুশির্দাবাদে নবাবী আমল, বৃটিশ আমল, পাকিস্তানি আমল, শেখ মুজিব ও স্বাধীন বাংলার অভ্যূদ্বয়। এই কয়েক শতাব্দীর ইতিহাস ঘাটলে দেখা যাবে নদীর মতোই ইতিহাস তার নিজস্ব স্রোতের গতিতে আকাবাঁকা পথে এগোনোর সময় পুরোনো বসতি ভেঙে নতুন বসতি গড়ে তুলে।

তারই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ স্বাধীনতার ডাক দেন। ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে পাকহানাদার বাহিনী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি রাখেন। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ। ১৯৭১ সালে ২৫শে মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধু গ্রেপ্তার হলে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। মুক্তিযুদ্ধ থেকে এ পর্যন্ত ১৪ জন ব্যক্তিত্ব দেশ শাসন করেছেন।

মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে লাখো শহীদের রক্তে ও মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে ১৯৭১ সালে ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম হয়। ১৯৭২ সালে ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কারামুক্ত হয়ে দেশে ফিরেন ১০ জানুয়ারি। সেই সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেন। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সংবিধান রচিত হয়Ñ জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষ এই চার মূলনীতির ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা হবে এটাই স্বাভাবিক।

যুদ্ধবিধস্ত স্বাধীন বাংলাদেশের অবকাঠামো, খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল। এই সুযোগে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের স্বীকারে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ পরিবারের ১৭ জন সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এই হত্যার মধ্যে দিয়ে নষ্ট রাজনীতি বা অপরাজনীতি শুরু হয়। শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনা সেই সময় জার্মানীতে স্বামী এমএ ওয়াজেদ মিয়ার কাছে অবস্থানকালে ভাগ্যচক্রে প্রাণে বেঁচে যান। বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি খোন্দকার মোশতাক আহমেদ রাষ্ট্রপতি ছিলেন ১৯৭৫ সালের ৬ নভেম্বর পর্যন্ত। বঙ্গবন্ধু খুনিদের রক্ষার জন্য সেই সময় ইনডেমনিটি বিল পাশ করা হয়।

৩ নভেম্বর ও ৭ নভেম্বর ক্যুÑএর প্রেক্ষাপটে বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিযুক্ত হন। তবে ওই সময় নেপথ্যে থেকে দেশ চালান তৎকালীন সেনা প্রধান জিয়াউর রহমান। এর বছরখানেক মাথায় জিয়াউর রহমান প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব নিয়ে সরাসরি দেশ পরিচালনা শুরু করেন। তখন ‘পুতুল রাষ্ট্রপতি’ হিসেবে স্বপদে বহাল থাকেন বিচারপতি সায়েম। ১৯৭৭ সালে ২১শে এপ্রিল জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। ১৯৭৮ সালে ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠা করেন নিজের দল বিএনপি।

পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ‘বিস্মিল্লাহির রহমানির রাহিম’ সংযোজন করা হয়। ১৯৮১ সালের ৩০মে আততায়ীর হাতে নিহত হন। জিয়াউর রহমান নিহতের পর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন বিচারপতি আবদুস সাত্তার। রাষ্ট্রপতি হিসেবে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে থাকলেও নেপথ্যে ছিলেন তৎকালীন সেনা প্রধান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। এরপর ২৪ মার্চ সাত্তারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করেন এরশাদ।

এইচএম এরশাদ সেনা প্রধানের পদ ছেড়ে ১৯৮৩ সালের ১১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। ১৯৮৮ সালে সংবিধান অষ্টম সংশোধীর মাধ্যমে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করা হয়। সেই সময় ছাত্র জনতা গণআন্দোলনের মধ্যে দিয়ে ১৯৯০ সালের ৬ই ডিসেম্বর এইচএম এরশাদের পতন ঘটে। এরশাদের পতনের মধ্য দিয়ে বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহম্মেদ ১৯৯০ সালের ৬ই ডিসেম্বর থেকে অস্থ্ায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে ১৯৯১ সালের ৯ই অক্টোবর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন এবং নির্বাচনের মাধ্যমে ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। বেগম খালেদা জিয়াকে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।

এ সময় রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থার পরিবর্তন করে সংসদীয় পদ্ধতি চালু করে। সরকারের ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার কিছুদিন আগে ক্ষমতায় থেকে বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচন করেন। কিন্ত সেই সময় প্রধান বিরোধীদল আওয়ামীলীগসহ বেশ কিছু রাজনৈতিক দল ওই নির্বাচন বর্জন করে। সেই নির্বাচনে জিতে খালেদা জিয়া দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসেন।

তবে আন্দোলনের মুখে সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার হিসেবে সাবেক বিচারপতি হাবিবুর রহমানের কাছে ১৯৯৬ সালের ৩০ মার্চ ক্ষমতা হস্তান্তার করেন। বিচারপতি হাবিবুর রহমান সপ্তম সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সেই বছরের ২৩ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আওয়ামী লীগ সরকার প্রতিষ্ঠার পর ১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর সপ্তম জাতীয় সংসদে ইনডেমনিটি আইন বাতিল করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারীদের বিচারের পথ প্রশস্ত করেছিল।

সরকারের ৫ বছর মেয়াদ শেষ করে ২০০১ সালের ১৫ই জুলাই ক্ষমতা হস্তান্তর করেন তত্ত্ববধায়ক সরকারের প্রধান বিচারপতি লতিফুর রহমানের হাতে। বিচারপতি লতিফুর রহমান অষ্টম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলে ওই বছরের ১০ অক্টোবর বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসেন। ২০০১ সালে চারদলীয় জামাত বিএনপির নেতৃত্বে দেশে সাম্প্রদায়িক শক্তির আবির্ভাব হয়। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে সেই সময় আওয়ামীলীগের সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালায় এবং আওয়ামীলীগের নেত্রী আইভি রহমানসহ অনেক নেতাকর্মী নিহত হয়।

কিন্তু ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা। এই নষ্ট বা অপরাজনীতির বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে ১৪ দল গঠন করে। সারাদেশে স্লোগানে স্লোগানে বলা হয় চার দলীয় সরকার আর না, আর না। তুমুল আন্দোলনের মুখে বেগম খালেদা জিয়া ২০০৬ সালে ২৯ আক্টোবর তত্ত্বাবধায়ক সরকার হিসাবে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।

এই অপরাজনীতির বিরুদ্ধে রাজপথে বিক্ষোভ এবং অবরোধ শুরু হয়। ১/১১ সরকারের সময় ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ২০০৭ সালের ১২ই জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফখরুদ্দিন আহম্মেদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। ফখরুদ্দিন আহম্মেদ প্রায় দুই বছর ক্ষমতায় থাকেন। সেই সময় জননেত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী করেন। ড. ফখরুদ্দিন আহম্মেদ ৯ম সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ২০০৯ সালের ৬ই জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।

দুর্গম পথ পেরিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্ভীক নেতৃত্বের অধিকারী শেখ হাসিনা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করে বাংলাদেশকে বিশ্বের উচ্চ শিখরে নিয়ে গেছে তার জন্য ধন্যবাদ জানাই। দেশে আজ অবকাঠামো উন্নয়ন হচ্ছে ঠিক, কিন্তু শিল্পকল কারখানা বন্ধ করে উন্নয়নশীল দেশে পৌঁছানো যায় কিনা তা ভাবার বিষয়। সুশাসন, দুর্নীতিমুক্ত অসাম্প্রদায়িক মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাক।

জ-জনগণ
একটি দেশের রাষ্ট্রযন্ত্রের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক অঙ্গাঅঙ্গীভাবে জড়িত। আমাদের সংবিধানে আছে খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান এই চারটি মৌলিক চাহিদা পূরণ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু জনগণ আজ দিশেহারা নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ডিজেলসহ সব ধরণের জ্বালানী তেলের দাম আকাশচুম্বী। নিত্যপণ্য দ্রব্যমূল্য ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে এসে জনগণকে আস্থায় নিয়ে আনতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থা আজ বাণিজ্যিকীকরণ করা হয়েছে। একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা দরকার। মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত দিন আনে দিন খাই মানুষের ছেলেমেয়েরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত।

আমরা বলে থাকি শিক্ষার জন্য এসো, সেবার জন্য যাও। কিন্তু বাস্তবে উল্টো চিত্র। আজ দেশের এমন কোন অফিস আদালত নেই যে, ঘুষ ও দুর্নীতি হয় না? প্রাইভেট কোচিংয়ের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা অর্জন করার মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করছে। শিক্ষাজাতির মেরুদণ্ড বলা হয়। কিন্তু বর্তমানে অর্থ জাতির মেরুদণ্ড এবং শিক্ষা কারাদণ্ড ও সত্য মৃত্যুদণ্ড।

স্বাস্থ্য সকল সুখের মুল। কিন্তু আমাদের দেশে চিকিৎসা ব্যবস্থা কি তাই? চিকিৎসা ব্যবস্থায় দেখা যায়, হাসপাতাল গুলো অব্যবস্থাপনায় ভরা এবং ডাক্তারের রোগ নির্ণয় বেশিক্ষেত্রে সঠিক নয়। সরকারি হাসপাতালে রোগ নির্ণয় যন্ত্রপাতি বেশির ভাগই নষ্ট। একজন রোগী ডাক্তার কাছে গেলে বিভিন্ন ধরণের টেস্ট করতে বলা হয়, যার টেস্ট ফি ব্যয়বহুল। যার ফলে পাশ^বর্তী দেশসহ বিভিন্ন দেশে চিকিৎসা করতে যায়। ফলে দেশের চিকিৎসার প্রতি আস্থা কমে যাচ্ছে।

ভূমিহীনদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভূমিহীনদের একটি বাড়ি একটি খামারের ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন তার জন্য ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে অনেক ভূমিহীন এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত দলীয়করণের কারণে।

ন-নিয়ম কানুন বা আইনশৃঙ্খলা
রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা জনগণের প্রতি সঠিকভাবে প্রয়োগ করা দায়িত্ব সরকারের। পাশাপাশি জনগণের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়াও আবশ্যক। আমাদের দেশের পুলিশ প্রশাসনসহ রাষ্ট্রযন্ত্রের কর্মকর্তারা দলীয়করণের মাধ্যমে আইনের অপব্যবহার করা হচ্ছে। ব্রিটিশ শাসকরা ভারতবর্ষের প্রজাদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ১৮৬১ সালে পুলিশের আইন প্রণয়ন করা হয়। তা আজও বহাল আছে। স্বাধীন বাংলাদেশের ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই দমনমূলক আইন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

ত-তহবিল বা অর্থ
তহবিল বা অর্থ সংসার থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে অর্থই হচ্ছে চাবিকাঠি। একটি পরিবারের স্বচ্ছলতা না থাকলে, পারিবারিক কলহ বাড়ে, দেশের ক্ষেত্রেও অর্থের ভীত শক্তিশালী না হলে জনগণের আস্থা সেই সরকারের প্রতি থাকেনা। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে পাশাপাশি স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি বেড়েই চলেছে। এ অবস্থায় সরকারের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও আমলা নির্ভর থেকে ফিরে আসা দরকার। গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের সরকার, জনগণ দ্বারা সরকার এবং জনগণের জন্য সরকার।

লেখক: সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, রাজশাহী মহানগর।