রক্ত-বমির উপরে পড়েছিলেন তারেক শামসুর রেহমান

  • 2
    Shares

সাহেব-বাজার ডেস্ক: বেডরুমের বাথরুমের সামনে মেঝেতে রক্ত ও বমির উপর মুখ থুবড়ে পড়েছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক তারেক শামসুর রেহমানের মরদেহ। সংবাদ পেয়ে গৃহকর্মী, সিকিউরিটি গার্ড ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে পুলিশ সদস্যরা ফ্ল্যাটের দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।

তখন দেখা যায় ড. তারেক শামসুর রেহমানের মরদেহ পড়ে আছে ঘরের পাশে থাকা বাথরুমের বাইরের মেঝেতে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার (১৭ এপ্রিল) সকাল ১০টায় গৃহকর্মী তারেক শামসুর রেহমানের ১৩০৪ নম্বর ফ্ল্যাটের দরজায় বার বার কড়া নাড়েন। কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ভবনের সিকিউরিটি গার্ডকে জানান। পরে গৃহকর্মী ও সিকিউরিটি গার্ড অনেকবার কড়া নেড়ে কোনো সাড়া না পেয়ে আশপাশের ফ্ল্যাটের লোকজনকে ডেকে নিয়ে আসেন। আশপাশের লোকজনও কোনো সাড়া না পেয়ে বিষয়টি তুরাগ থানা পুলিশকে জানালে ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের বর্ণনা অনুযায়ী, বাথরুমের দরজার সামনে রক্ত ও বমির উপর পড়েছিল ড. তারেক শামসুর রেহমানের মরদেহ। তার পা দুটি ছিল বাথরুমের ভেতরে, শরীরের বাকি অংশ দরজার সামনে। তার পরনে ছিল সাদা রঙের স্যান্ডো গেঞ্জি ও কালো রঙের প্যান্ট। ডান পায়ে একটি মোজা পরা ছিল। তারেক শামসুর রেহমানের মরদেহের আশপাশে অনেক রক্তও দেখতে পান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

প্রতিবেশী মাহমুদুর হোসেন রাসেল বলেন, আমরা এসে দরজায় অনেক ধাক্কাধাক্কি করে স্যারের সাড়া পাইনি। পরে পুলিশকে জানালে পুলিশ এসে স্যারের ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তখন পুলিশের সঙ্গে আমরাও ভেতরে প্রবেশ করি। ভেতরে গিয়ে দেখতে পাই, স্যারের মরদেহ ফ্ল্যাটের বাথরুমের দরজার সামনে বমি ও রক্তের উপর পড়ে আছে।

ওই প্রতিবেশী বলেন, ৭ বছর ধরে উচ্চরক্তচাপ ডায়াবেটিস ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছিলেন তিনি। আমি স্যারকে একাধিকবার শ্বাসকষ্টের জন্য ওষুধ এনে দিয়েছি। আমরা ধারণা করছি, স্যার হয়তো সেহরির সময় ঘুম থেকে উঠেছিলেন, তখন হয়তো তার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে।

ড. তারেক শামসুর রেহমানের খালাতো ভাই বদরুল আলম বলেন, তার স্ত্রী এবং এক কন্যা যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। এই ফ্ল্যাটে তিনি একাই থাকতেন। তার স্ত্রী এবং সন্তানের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। তার ভাইয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। ওদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী করণীয় আমরা ঠিক করব। আমার জানামতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের উত্তরা জোনের সহকারী কমিশনার এস শচীন মল্লিক বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি অধ্যাপক তারেক শামসুর রেহমান হার্ট অ্যাটাক করেছিলেন। তবে আমরা সব বিষয়কে সামনে রেখেই তদন্ত করছি। সিআইডির ক্রাইম সিন এসে আলামত সংগ্রহ করেছে। তবে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

এসবি/জেআর


  • 2
    Shares