মাস্ক নিয়ে গবেষণা কোনটি বেশি কার্যকর?

  • 1
    Share

সাহেব-বাজার ডেস্ক : মাস্ক নিয়ে মানুষের মনে নানা প্রশ্ন। মাস্ক ব্যবহার করব, কী করব না, কোন মাস্ক ব্যবহার করব। সিডিসি কী বলছে? ডব্লিউএইচও কী বলছে? বড় বড় ডাক্তার কী বলছে? বর্তমান প্রেক্ষাপটে নিউইয়র্ক সিটি মেয়র বাইরে বের হলেও মাস্ক ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন। নিউইয়র্কে সিটি মেয়র কিংবা গভর্নর কোনো পরামর্শ দিয়ে থাকলে বুঝতে হবে, এটি তাদের উপদেষ্টাদের পরামর্শ। বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাবের সময়ে মাস্ক ব্যবহারের প্রসঙ্গ এসেছে এবং সেই সঙ্গে নানান প্রশ্নের সূত্র ধরে নানা ধরনের গবেষণা হয়েছে।

২০১৪ সালে বিভিন্ন ধরনের মাস্ক সম্পর্কিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, এন-৯৫ মাস্ক শতকরা ৯৫ ভাগ ক্ষুদ্র কণা আটকে যেতে পারে। ক্ষুদ্র কণা বলতে এখানে কণার আকৃতি ০.৩ মাইক্রন ধরা হয়েছে। ক্ষুদ্র কণার আকৃতি নিয়ে অনেকের মধ্যে দ্বিমত আছে। সার্জিক্যাল মাস্ক, যেটি অপারেশনের সময় সার্জনরা ব্যবহার করে থাকেন, করোনার এই বিশ্ব মহামারীর সময়ে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সার্জিক্যাল মাস্ক। এ ক্ষেত্রে শতকরা ৪০ ভাগ কার্যকর আর ডেন্টাল মাস্ক কার্যকর শতকরা ৬০ ভাগ। গবেষণায় বলা হয়েছে, সুতি কাপড়ের মাস্ক শতকরা ৩০ ভাগ কার্যকর।

রুমালের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, এক পরতের পাতলা রুমাল কার্যকর শতকরা ২ ভাগ কিন্তু চার পরতের রুমালে রুমাল শতকরা ১৩ ভাগ কার্যকর। ২০১০ সালে এনআইওএসএইচ পরিচালিত একই রকম আরেকটি স্টাডিতে দেখা গেছে, টি-শার্টের কাপড় দিয়ে বানানো মাস্ক শতকরা ১০ ভাগ এবং সোয়েট শার্ট ফেব্রিক দিয়ে বানানো মাস্ক শতকরা ২০ থেকে ৪০ ভাগ সুরক্ষা দিচ্ছে। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, তোয়ালে শতকরা ৪০ ভাগ এবং স্কার্ফ ১০ থেকে ২০ ভাগ সুরক্ষা দেয়। সর্বশেষ ২০২০ সালে ৩ এপ্রিল নেচার মেডিসিনের গবেষকরা দেখেছেন, সার্জিক্যাল মাস্ক ফুসফুসে সংক্রমণযোগ্য ভাইরাসের উপস্থিতি কমায়। ২০১১ সালে বেজিংয়ে ও সার্জিক্যাল মাস্কসহ অন্যান্য গবেষণায় প্রায় একই রকম তথ্য দিয়েছে।

কোভিড-১৯ -এর এ বিশ্ব মহামারীতে মাস্ক নিয়ে এত যাচাই-বাছাই করার সময় নেই। যারা স্বাস্থ্যকর্মী, রোগীর সেবা করছেন, তাদের জন্য এন-৯৫ মাস্ক অবশ্যই লাগবে। এটাই মাস্কের মধ্যে সবচেয়ে কার্যকর। তবে এটি পরে কাজ করা সহজ নয়। সার্জিক্যাল মাস্ক সহজলভ্য কিন্তু এখন সেটিরও সংকট চলছে। এটি না পেলে কাপড়ের তৈরি মাস্ক পরা যেতে পারে। এসব করোনাকালীন প্রথমদিককার তথ্য।

সম্প্রতি ডাবল মাস্ক ব্যবহারের বিষয়টি বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে। যে কোনো পাবলিক ট্রান্সপোর্টে মাস্ক ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। কোন অফিসে, বদ্ধঘরে মাস্ক ব্যবহারের নির্দেশনা আছে। কারণ এন-নাইন্টি ফাইভ মাস্ক ছাড়া আর কোনো মাস্কই এককভাবে খুব বেশি সুরক্ষা দিতে পারছে না। তবে এন-৯৫ মাস্ক শুধু প্রফেশনালদের জন্য, মানে হাসপাতলে কর্মরতদের জন্য প্রযোজ্য। দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য এটি উপযোগী নয়। কাজেই কীভাবে সর্বোচ্চ সুরক্ষা পাওয়া যায়, তা নিয়ে ইতোমধ্যে বেশকিছু গবেষণা হয়েছে। এসব গবেষণার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ডাবল মাস্ক। ডাবল মাস্ক নিয়ে এ গবেষণায় মূলত বাজারে যেসব কাপড়ের মাস্ক এবং সার্জিক্যাল মাস্ক রয়েছে, সেগুলো নিয়ে গবেষণা।

গবেষণায় কাপড়ের ওপর কাপড়ের মাস্ক, সার্জিক্যাল মাস্কের ওপর সার্জিক্যাল মাস্ক, কাপড়ের ওপর সার্জিক্যাল মাস্ক অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। গবেষণায় দেখা গেছে, সার্জিক্যাল মাস্কের ওপর কাপড়ের মাস্ক ব্যবহারে সবচেয়ে বেশি সুরক্ষা পাওয়া যায়। তবে কাপড়ের মাস্কটি হবে দুই স্তরের। মাস্কটি এমন কাপড় বা ফেব্রিক দিয়ে তৈরি হবে, যার ভেতর দিয়ে শ্বাস নেওয়া যায়। এমনভাবে ডিজাইন করতে হবে, যাতে সেটি মুখম-লের ওপর লেগে থাকে। মাস্কের নাকের অংশে ‘নোজ ওয়্যার’ থাকতে হবে, যা দিয়ে মাস্কটি নাকের ওপর লাগানো যায়।

‘নোজ ওয়্যার’ নাকের অংশ দিয়ে বাতাস বেরিয়ে যাওয়া বন্ধ করবে। তবে খুব বেশি মোটা কাপড়ের মাস্ক, যা দিয়ে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, সেটি ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে। যে মাস্কে বাইরের দিকে বাতাস বেরিয়ে যাওয়ার ভালব বা ভেন্ট রয়েছে, সেগুলো ব্যবহার করতে বারণ করা হয়েছে। কারণ এ ভেন্ট বা ভালব দিয়ে জীবাণু বেরিয়ে আসতে পারে। প্রথমদিকে ফেসশিল্ড ব্যবহারের কথা বলা হলেও এটির কার্যাকারিতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

শিশুর জন্য দুই স্তরের কাপড়ের মাস্ক ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। এমন মাস্ক পছন্দ করতে বলা হয়েছে, যেটি নাকের উপরিভাগ ও মুখম-লের চারপাশ এবং থুতনির নিচের অংশ ঢেকে রাখে। তবে স্কার্ফ বা ওড়না দিয়ে মুখম-ল ঢেকে রাখা মাস্কের বিকল্প হিসেবে মনে করা যাবে না। তবে সিডিসি দুই বছরের নিচের শিশুদের মাস্ক ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন।

 

এসবি/এমই


  • 1
    Share