মানবতার সেবায় দিন-রাত অবিরাম ছুটছেন ব্রিগেড সদস্যরা


এম এইচ নাহিদ

প্রচণ্ড রোদ বা মুষলধারে বৃষ্টি, সাথে বজ্রপাতের ভয়ঙ্কর গর্জন কিংবা করোনায় মৃত্যুভয়-সবকিছুকে তুচ্ছ করে দিন-রাত অবিরাম ছুটছেন মানবতার ফেরিওয়ালা ‘শহীদ জামিল ব্রিগেড’-এর সদস্যরা। “অ্যাম্বুলেন্স লাগবে” কিংবা “অক্সিজেন চাই”-কয়েক সেকেন্ডের একটা ফোন কলেই ১৫ মিনিটের মধ্যে দরজায় হাজির হচ্ছেন ব্রিগেড সদস্যরা। সেখানে কোন দল বা কোন ধর্মের লোক, ধনী নাকি গরিব-তা বিবেচ্য বিষয় না।

জামিল ব্রিগেডের কাছে বিবেচিত হচ্ছে মানুষ হিসেবে। কারণ তারা মানবসেবার ব্রত নিয়ে মাঠে নেমেছেন। তারা সেই আদর্শকে ধারণ করেন, যে আদর্শের লড়াইয়ে জীবন দিয়েছেন শহীদ ডা. জামিল আকতার রতন। জামিল মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের যেমন স্বপ্ন দেখতেন, তেমনি স্বপ্ন দেখতে পড়ালেখার পাঠ চুকিয়ে ডাক্তার হয়ে মানব সেবা করবেন। বেঁচে থাকলে হয়তো করোনার এই মহাসঙ্কটে জামিল জীবনবাজি রেখে ছুটতেন মানুষের সেবায়। কিন্তু সে স্বপ্ন পূরণ হতে দেয়নি ঘাতকের দল। ৩৩ বছর আগে ১৯৮৮ সালের ৩১ মে স্বাধীনতাবিরোধী মৌলবাদী জামাত-শিবিরের খুনিরা তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। কিন্তু ওরা জানে না-‘মৃত্যুতে স্বপ্ন মরে না’।

জামিলের মানবসেবার সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ নিয়ে করোনার এই মহাসংকটে জীবনবাজি লড়াইয়ের প্রতিজ্ঞায় ৫ জুন রাজশাহী কলেজ চত্বরে ৫০ জন সদস্য নিয়ে শুরু হয় ‘শহীদ জামিল ব্রিগেড’-এর যাত্রা। রাজশাহীর গণমানুষের নেতা উত্তরজনপদের মেহনতি মানুষের লড়াইয়ের সাথী বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড ফজলে হোসেন বাদশার পরামর্শ, আন্তরিক সহযোগিতায় ‘জামিল ব্রিগেড’ এখন নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে।

৩০০ জন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন ব্রিগেডের প্রধান সমন্বয়ক ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য ও রাজশাহী মহানগর সাধারণ সম্পাদক কমরেড দেবাশিষ প্রামানিক দেবুর নেতৃত্বে। নগরজুড়ে এখন একটাই নাম, মানবতার ফেরিওয়ালা ‘শহীদ জামিল ব্রিগেড’। স্থানীয় কিংবা জাতীয় প্রথম সারির গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হচ্ছে জামিল ব্রিগেডের সংবাদ। অনলাইন পোর্টাল ও ইলেট্রনিক্স চ্যানেলগুলোতেও জামিল ব্রিগেডের খবর প্রচারিত হচ্ছেন প্রতিদিন। স্বপ্রণোদিত হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করছেন সাধারণ মানুষ। জামিল ব্রিগেডের কার্যক্রমের কথা প্রচার হচ্ছে রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনারের মুখেও। ব্রিগেডের কার্যক্রম দেখে সাধারণ মানুষ বলছেন, এরই নাম স্বার্থহীন মানবসেবা।

প্রায় মাসাধিককাল যাবত রাজশাহী মহানগরীতে জামিল ব্রিগেডের লাল বাহিনীর সদস্যরা নিজেদের জীবনকে তুচ্ছ করে মানবতার সেবায় কাজ করছেন। প্রথমে মাস্ক বিতরণ, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের লিফলেট, হ্যান্ডস্যানিটাইজার বিতরণ দিয়ে শুরু করলেও এখন অ্যাম্বুলেন্স ও অক্সিজেন সেবা দিচ্ছেন বিনামূল্যে। কেবল তাই নয়, করোনায় আক্রান্ত মৃত ব্যক্তির দাফনে পরিবার ভয় পেলে ব্রিগেডের সদস্যরা ধর্মীয় রীতি মেনে মৃতদেহের সৎকারও করছেন। সার্বক্ষণিক সেবাদানের জন্য চালু রেখেছেন একাধিক হটলাইন নাম্বার।

প্রচণ্ড বৃষ্টিতে কিংবা গভীর রাতে ফোন করলেই ১৫ মিনিটের মধ্যে ব্রিগেড সদস্যরা হাজির হচ্ছেন অ্যাম্বুলেন্স অথবা অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে। মাবতার ফেরিওয়ালা জামিল ব্রিগেডের সদস্যরা বলছেন, শহীদ জামিল আমাদের প্রেরণা। আমরা লড়াইয়েও আছি, সংকটকালে মানুষের পাশে থাকব জানবাজি রেখে। তারা রাজশাহী সহ ৫ জেলার মানুষ বাঁচাতে দাবি তুলেছেন ৬ দফা বাস্তবায়নের জন্য। সেবার পাশাপাশি এ দাবিতে তারা স্বাস্থ্যমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপিও দিয়েছেন। দাবি বাস্তবায়নে করেছেন মানববন্ধন। মানুষের জন্য মানুষের পাশে আছে ‘শহীদ জামিল ব্রিগেড’। লেখক: সাবেক ছাত্রনেতা।

 

 

এসবি/এমই