মমতার জয়ের ‘নেপথ্য নায়ক’ কে এই প্রশান্ত?


সাহেব-বাজার ডেস্ক: হ্যাট্রিক করে তিন তিনবার মুখ্যমন্ত্রী সোজা কথা নয়। মমতার রাজনৈতিক কৌশল বলতেই হবে। কিন্তু কী ছিল তার কৌশল; নানা কৌতূহল ঘুরপাক খাবে যে কারও। এ রকম সেয়ানা রাজনীতিবিদের কথা কে না জানতে চায়! কিন্তু তিনি কী একাই ছিলেন এই জয় কৌশলে? সংবাদমাধ্যমের পর্যবেক্ষণ বলছে, নির্বাচনের আগে দলের পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া প্রশান্ত কিশোরের অবদানও রয়েছে এর পেছনে। মমতার জয়ের একজন ‘নেপথ্য নায়ক’ তিনি।

সংবাদমাধ্যমের খবর, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন সামনে রেখে প্রশান্ত কিশোরকে নিয়োগ করেছিলেন দলের পরামর্শক হিসেবে। প্রশান্ত কিশোর এ দায়িত্ব নেওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসকে জেতানোর জন্য কাজ শুরু করেন। তিনি মমতাকে নিত্যনতুন পরামর্শ দিয়ে তৃণমূলকে এগিয়ে নেন। মমতার নতুন নতুন প্রকল্পের কথা ঘোষণা করে কার্যত তার জয়ের পথকে প্রশস্ত করে তুলেন।

নির্বাচনের আগে প্রশান্ত বারবার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছিলেন, তৃণমূলই জিতবে এবার। বিজেপি তিন সংখ্যার অংকেও পৌঁছাতে পারবে না। তারা আটকে থাকবে দুই সংখ্যায়ই। যদি বিজেপি তিন সংখ্যার আসন পায়, তবে তিনি নিজের সংস্থা আইপ্যাক ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায় চলে যাবেন।

ভোটের ফল গণনায় তার সেই কথাই বাস্তবে প্রমাণিত হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, অক্ষরে অক্ষরে মিলেছে মমতার ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের (পিকে) কথা। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় ২৯৪টি আসন থাকলেও নির্বাচন চলাকালে দুই প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে সেখানে ভোট স্থগিত হয়। যে ২৯২টি আসনের ভোট গণনা হয়েছে, এরমধ্যে ২১৩টিতেই এগিয়ে আছে তৃণমূল কংগ্রেস, যেখানে তাদের জয়ের জন্য প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। অপর দিকে বিজেপি এগিয়ে আছে মাত্র ৭৭টি আসনে।

তবে প্রশান্ত কিশোরের এই ভূমিকা মেনে নিতে পারেনি তৃণমূলের একাংশ। প্রশান্ত কিশোরের সমালোচনাও করেন তারা। কারণ তাকে কয়েক কোটি রুপির চুক্তিতে নিয়োগ করেছিলেন মমতা এবং তার ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবু দমে থাকেননি প্রশান্ত কিশোর।

কিন্তু এবার সেই প্রশান্ত কিশোর চাইছেন রাজনীতির ময়দান ছাড়তে। এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়ে দিলেন তিনি। তার যুক্তি আরও বহু জিনিস শেখা বাকি। সে কারণেই আপাতত রাজনীতির মঞ্চ থেকে ছুটি নিচ্ছেন। তিনি চান আপাতত তার সংস্থা আইপ্যাকের দায়িত্ব নিক তরুণ প্রজন্মের কেউ।

প্রশান্ত কিশোর বার বার বলেছিলেন বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে চলেছে তৃণমূল। এ দিনের ফল দেখে তার মুখে মৃদু হাসি। বললেন, এত বড় জয় কীভাবে এল, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। কিন্তু মানুষ তৃতীয়বারের মতো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চাইছে, এটা নিশ্চিত।

পশ্চিমবঙ্গে বিজয়ের লড়াইয়ে নেমে এবার কোনো চেষ্টার কমতি করেনি বিজপি। বাইরে থেকে এসেছেন বহু হেভিওয়েট নেতা। এই আসা-যাওয়া নিয়ে নানা সময়ে সুরও চড়িয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ এ প্রসঙ্গেও মুখ খুলতে দেখা যায় প্রশান্ত কিশোরকে। প্রশান্ত কিশোরে কথায়, প্রতিদিন কেন্দ্রীয় স্তরের রাজনৈতিক নেতারা এ রাজ্যে আসছিলেন, বিজেপির লোকবল অর্থবল দুইই ছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মতো এত বড় রাজ্যে জয় সুনিশ্চিত করতে সেটুকুই যথেষ্ট ছিল না।

বিজেপি কেন এত বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়ল, সে বিষয়েও স্পষ্ট বক্তব্য রয়েছে তার। তার যুক্তি, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে প্রচারে ২০১৯-এর তত্ত্বই খাটাতে চেয়েছে। এ রাজ্যের ভোটের জন্য কোনো আলাদা তত্ত্ব তুলে ধরতে সক্ষম হয়নি এই দল।

প্রশান্ত কিশোর অতীতে ২০১৮ সালে কাজ করেছেন নরেন্দ্র মোদির দলের হয়ে। কাজ করেছেন বিহারে জেডিইউ-র হয়েও। বেশির ভাগ সময়ে জয় এসেছে। কিন্তু জিততে জিততেও যেন ক্লান্ত প্ৰশান্ত কিশোর। আজ বললেন, আমি কখনও টিম এ কখনও টিম বি-এর হয়ে কাজ করেছি। এবার আমার বিরতি নেওয়ার সময় এসেছে।

এত নিখুঁত বিশ্লেষণ ক্ষমতা, এত নৈপুণ্য, তবু নিজেকে আজও ছাত্রই মনে করেন প্রশান্ত কিশোর। ভুলগুলোকে এখনও পড়তে পারেন হাতের তালুর মতো। অকপট হয়ে আজ বললেন, আমি রাজনীতি করতে গিয়ে বহু ভুল করেছি। আমার বহু জিনিস শিখতে হবে। আপাতত এই স্থানটি আমার ছেড়ে দেওয়া উচিত।

এসবি/জেআর