ভালোবাসার অভাব

  • 14
    Shares

সবনাজ মোস্তারী স্মৃতি

 

মাঝে মাঝে বুকের ভেতর হু হু করে উঠে। ইচ্ছে করে তাকে ফোন দেয়। হাতের মাঝে ফোনটা নিয়ে নাম্বার বের করি তবে শেষমেষ আর ফোনটা করা হয় না। কারণ তার বারণ ছিল। শেষ যেদিন আমাদের দেখা হয় সেদিন বারবার করে বলেছিলাম আমাদের কথা বলাটা বন্ধ করো না।

সে হাসিমুখে বলেছিলো কথা না বলাটায় ভালো। আমি সব কিছু বাদ দিয়ে আবারও বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলেছিলাম ‘ফ্রেন্ড’। সে তার হাত বাড়িয়ে দেয়নি। মুখের ওপর বলেছিলো তার কোনো প্রয়োজন নেই। আমি কিছু বলতে পারিনি। চলে আসার সময় একটা কথায় বলেছিলাম তাকে ‘ভালোবাসি তোমাকে’। সে বলেছিলো এখনো এই সব কিছুর মানে হয় না।

তার কথা শুনে ভীষণ কান্না পেয়েছিল। তার কাছ থেকে চোখের পানি লুকানোর জন্য আমি আর ঘুরে তাকায়নি। চলে এসেছিলাম বুকের মাঝের লুকানো পাথরগুলো নিয়ে।

সব সময় একা লাগে। কিছু একটা না থাকার বা না পাবার শূন্যতা বুকের মাঝে সবসময় গিজগিজ করে তবুও হাসিমুখে ঘুরে বেড়ালেও মনে মনে নিজেকে খুব বেশি অসহায় আর একা লাগে।
তাকে একদিন বলেছিলাম আমার ভীষণ একা লাগছে একটু কথা বলবে আমার সাথে? সে রেগে আমাকে বলেছিলো একাকিত্বের মানে বুঝ! আমি নাকি একাকিত্বের মানেই বুঝি না। সেদিন আমি তার কথায় মেনে নিয়েছিলাম। আমি হয়তো একাকিত্বের মানেই বুঝি না, না পাবার কষ্টের মানেই বুঝি না। অথচ সে সব বুঝে। পৃথিবীর সমস্ত না পাবার কষ্ট সে নাকি বুঝে।

তবে তার এই জীবনটা সেই নিজেই বেছে নিয়েছিলো। সে আমাকে কখনো বুঝেনি। বোঝার চেষ্টাও করেনি। কখনো আমার এবং আমার ভালোবাসার কদর সে করেছি। সে সব সময় ছুটে চলেছিলো মরিচিকার পিছনে অথচ সে আমাকে বলে আমি নাকি মরিচিকার পিছনে ছুটছি। তার প্রত্যেকটা কথায় আমাকে ভীষণ ভাবে আঘাত করলেও মাঝে মাঝে কিছু কথা আমাকে হাসায়।

আমি তাকে মাঝে মাঝে ফোন দেয়। তার গলার স্বর শোনার জন্য। তাতেই আমার আনন্দ। সে সত্যি আমার নম্বর চেনে না নাকি না চেনার অভিনয় করে সেটা আমি জানি না। তবে আমি যখন তাকে ফোন দেয় আর সে রিসিভ করে সালাম দেয় তখন আমার ভীষণ আনন্দ হয়। মানুষ হয়তো এভারেস্ট জয় করেও এত আনন্দ পাবে না। এই আনন্দ শুধু মাত্র তার গলার স্বর শোনার আনন্দ।

আজ ভীষণ একা লাগছে। অন্যদিনের থেকে দ্বিগুন বেশি। তার সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করছে, তার পাশে বসতে ইচ্ছে করছে। তাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে ইচ্ছে করছে।তার বুকের মাঝে মাথা গুজে বলতে ইচ্ছে করছে ‘ভালোবাসি তোমাকে’।

আমি জানি তার পাশে বসার মত, কথা বলার, ঘোরার মত মানুষের অভাব নেই। তবে তাকে ভালোবাসার মত মানুষের বড্ড অভাব রয়েছে।

না অভাব বললে ভুল হবে আমিতো তাকে ভীষণ ভালোবাসি তবে অভাব কেমন করে হয়। সে শুধু আমাকে বুঝলো না।তবে তবে আমার মন বলে সে একদিন ঠিক বুঝতে পারবে আমাকে এবং আমার ভালোবাসাকে। একদিন পুরোপুরি হয়ে সে আমার কাছে ফিরে আসবে। আমি সেদিন এর জন্য অপেক্ষা করছি।

ভালোবাসতে সবাই পারে তবে অপেক্ষা কজন করে। আমি না হয় অপেক্ষা করলাম। অপেক্ষা হচ্ছে ভালোবাসার শুদ্ধতম প্রতীক। অপেক্ষায় অনেক কষ্ট থাকলেও এর মাঝেই আমি আনন্দ খুঁজে পাই। না পাবার আবার আনন্দ হয় নাকি এটা সবার মনে হলেও আমার কাছে আনন্দ মনে হয় এই ভেবে যেদিন সে ফিরে আসবে সেদিন আমাকে বুকের মাঝে শক্ত করে জরিয়ে ধরে বলবে এই যে দেখো আমি ফিরে এসেছি। তোমার ভালোবাসার শুদ্ধতম প্রতীকের ইতি টেনে তোমাকে ভালোবেসে তোমার কাছে ফিরে এসেছি।

কেনো আমার মনে হয় সে ফিরে আসবে তা আমি জানি না তবে বারবার মনে হয় সে ফিরবে। ফিরতে তাকে হবেই।

ফিরে না আসলে আমার ভালোবাসা পূর্ণতা পাবেনা। হয়তো পূর্ণতা দেবার জন্যই মনে হয় সে ফিরে আসবে।প্রত্যেকটা মানুষ চাই তার ভালোবাসার পূর্ণতা দিতে।

আমিও তো একজন রক্তে মাংসে গড়া মানুষ তাই হয়তো। তবে মাঝে মাঝে মানুষ জাতিটাকে আমার ভীষণ ঘৃণা লাগে। তখন নিজেকেও ঘৃণা লাগে আমি একজন মানুষ বলে।

আচ্ছা এত ভালোবাসার পরও কেমন করে পারে সে আমাকে ফিরিয়ে দিতে। মানুষ বলেই পারে। আমি যদি কোনো কুকুর বিড়ালকে ভালোবাসতাম তবে তারা আমাকে কখনো ফিরিয়ে দিতো না। আমার সাথেই থাকতো আমাকেও ভীষণ ভালোবাসতো।

আমার ভীষণ মন আনচান করে তার জন্য। কতবার যে ভেবেছি আত্মহত্যা করবো তবে ওই যে মায়া, মায়ার টানে তা আর করে উঠতে পারিনি। মায়ার টানে বারবার মনে হয় তার মুখ।আমি আত্মহত্যা করলে তাকে ভালোবাসবে কে?

তার যে ভালোবাসার মানুষের বড্ড অভাব।

 

এসবি/এমই


  • 14
    Shares