ভাত নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন মা, ফেরেনি ছেলে

  • 40
    Shares

সাহেব-বাজার ডেস্ক: সকালে বাড়ি থেকে না খেয়ে বেরিয়েছিলেন ছেলে হাফিজার রহমান। এরপর দুপুরে বাড়ি ফিরলে মা হালিমা বিবি ছেলেকে পিঁড়িতে বসিয়ে থালায় ভাত বেড়ে দেন। হাফিজার ভাত মুখে দেবেন, এমন সময় তাকে ডাক দেন প্রতিবেশী বাচ্চু। সেই ডাকে ভাতের থালা রেখেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান হাফিজার, খেয়ে বের হওয়ার জন্য তাকে পেছন থেকে ডাকতে থাকেন মা। হাফিজার জানান, ফিরে এসে খাবেন। ভাত নিয়ে মা অপেক্ষা করতে থাকেন।

দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়, ছেলের আর খোঁজ নেই। পরে জানতে পারেন ছেলে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ নিতে গেছেন। এর ১৫ দিন আগে হাফিজার মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য নাম লেখান। থালায় ভাত রেখে তিনি সেই যে বাড়ি থেকে বের হন, এর সাত মাস পর জানা যায়, সম্মুখযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিতে তিনি শহীদ হয়েছেন।

ছেলের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে যাওয়ার সেদিনের স্মৃতির কথা মনে হতেই শহীদ জননী হালিমা বিবির গলা ভারি হয়ে আসে। বয়সের ভারে পরিষ্কার করে কথা বলতে পারেন না তিনি। অনেক কথা তার মনেও নেই। তবে ভাত রেখে ছেলের চলে যাওয়ার সেদিনের কথা আজও ভুলতে পারেননি।

শিবগঞ্জ উপজেলার সাদুল্যাপুর গ্রামের মৃত খেজমতুল্লার ছেলে হাফিজার চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার সময় তার বয়স ছিল ১৯। সাত মাস যুদ্ধ করার পর ১৯৭১ সালের ১৩ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন তিনি।

স্মৃতিচারণ করে হালিমা বিবি বলেন, আমি গর্ববোধ করি আমার ছেলে দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছে। এর জন্য আমার পরিবার যেন আজীবন সঠিক সম্মানটুকু পায়। নাতি শাহীন মোহাম্মদের জন্য সরকারি চাকরির ব্যবস্থা এবং হাফিজারের নামে এলাকায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের দাবি জানান তিনি।

শিবগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আব্দুল বারী জানান, হাফিজার উপজেলার মধ্যে একমাত্র শহীদ মুক্তিযোদ্ধা। তার নামে উপজেলা সদরে শহীদ হাফিজার রহমান মিলনায়তন ও একটি রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে। হাফিজারের মা ছেলের মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পেয়ে আসছেন।

এসবি/জেআর


  • 40
    Shares