বেনামী গল্প

  • 15
    Shares

 

সবনাজ মোস্তারী স্মৃতি

 

আমি এত ভালো পিস্তুল চালাতে পারবো কখনো ভাবিনি। নিজের একদম অবাক করা একটা ব্যাপার, যে আমি কখনো পিস্তুল হাতে নিয়েই দেখিনি সে আমি একদম তাক অনুযায়ী পিস্তুল চালালাম।

উমার পিস্তুলের গুলিতে সালেহ খান এখন মাটিতে পড়ে আছেন। উমা এগিয়ে গেলো সালেহ খানের নাকের কাছে হাত দিয়ে দেখলো, না শ্বাস-প্রশ্বাস চলছে না। লোকটা তাহলে আমার কাছেই শেষমেষ খুন হলেন, মনে মনে উমা কথাগুলো বললো।

তবে এখন লাশটা লুকিয়ে ফেলতে হবে, কেউ দেখে নিলে বা জানাজানি হলে উমার বড় বিপদ হয়ে যাবে।

আর উমা চাই না তার কোনো ক্ষতি বা বিপদ হোক। তাই খুব তাড়াতাড়ি লাশটা নিজের গাড়িতে তুলে নিলো। তাড়াতাড়ি লাশটা নদীতে ফেলে তাকে এখানে ফিরতে হবে।

উমা খুব সাবধানতার সাথেই সব কিছু করলো। কারো বোঝার ক্ষমতা নেই এখানে একটু আগে কেউ একজন খুন হয়েছে।উমা রওনা দিলো পদ্মা নদীর উদ্দেশ্যে।

বর্ষাকাল একদম ভরা নদী। উমার গাড়ি থামলো একদম পদ্মা নদীর ধার ঘেঁষে। হাতঘড়িটার দিকে দেখে রাত ১১ টা ১৯ মিনিট। উমার মুখে হাসি ফুটে উঠে দুটোই প্রাইম নম্বর দেখে। আশেপাশে ভালো মত তাঁকিয়ে দেখে উমা, না কোথাও কেউ নেই। রাত না হলে উমার খুব সমস্যা হয়ে যেতো। যা হয় ভালোর জন্য হয়। উমা তাড়াতাড়ি গাড়ি থেকে সালেহ খানের লাশ বের করে পদ্মা নদীতে ফেলে দেয়। নদীর ঢেউ অনেক। আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ। সে চাঁদের আলো উমার মুখের উপর পড়ছে। উমার মুখে একটা ক্লান্তির মলিন হাসি।

উমা আর দেড়ি না করে গাড়িতে গিয়ে বসে। রওনা দেয় তার গন্তব্যে। এক সপ্তাহ আগে কানাডা থেকে দেশে ফিরে একটা টিভি চ্যানেলে জয়েন করেছে। বেশি দিনের জন্য দেশে না আসলেও যে কয়েকমাস দেশে থাকবে সে কয়েকমাস বাড়িতে বসে থাকতে যেনো না হয় তাই জয়েন করেছে কাজে।

সালেহ খানের সাথে সেখানেই পরিচয় উমার। লোকটাকে দেখে খুব সহজ সরল মনে হলেও আসলে ভিতরে ভিতরে তিনি একটা অমানুষ ছিলেন। উমার সাথে সালেহ খানের কোনো রকম শত্রুতা ছিলো না। তবে সালেহ খান যা করেছেন তা দেখার পর উমা তার নিজের রাগ সামলিয়ে রাখতে পারেনি।

সালেহ খান তার টিভি চ্যানেলের সুনাম বাড়ানোর জন্য এমন জঘন্য কাজ করতে পারেন তা হয়তা কেউ কল্পনাও করতে পারবে না। কারণ সালেহ খানের মুখোশ ভেদ করে ঢুকতে এতদিন কেউ পারেনি। তিনি নিজের সুবিধার জন্য একটা পুরো দরিদ্র পরিবারকে যেভাবে আগুনে পুড়িয়ে মারলেন সেটা নিজের চোখে দেখার এবং পুরো ষড়যন্ত্রটা জেনে যাবার পর উমা আর পারেনি চুপ করে থাকতে। সরাসরি সালেহ খানকে জিজ্ঞেস করে কেনো তিনি এমনটা করলেন। সালেহ খান প্রচণ্ড বিরক্ত হয়ে বলেছিলেন তুমি বুঝবে না, এখন হোটেলে গিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমাও। আমার কাজ আমাকে করতে দাও।

উমা বলে তা অবশ্য ঠিক আপনার কাজ আপনাকে করতে দেওয়া উচিত।

আপনি কি আমার সাথে একটু হোটেল পর্যন্ত যাবেন? আপনার গাড়ি নিতে হবে না। আমার গাড়িতেই। দরকার হলে ফেরার সময় আমার গাড়ি নিয়েই ফিরবেন। সালেহ খান উমার গাড়িতে উঠে। উমা লক্ষ্য করে তাদের কেউ দেখেছে কিনা এক সাথে বেরুতে।

না, কেউ দেখেনি। কিছুটা পথ আসার পর একটা ফাকা নির্জন জায়গায় উমা গাড়ি থামায়। দুজনে গাড়ি থেকে নামে। উমা সালেহ খানের সাথে কথা কাটাকাটি করে। সালেহ খান রাগের মাথায় হেঁটেই চলে যেতে থাকলে উমা পিছন থেকে ডাক দেয় সালেহ খানকে। সালেহ খান ঘুরে তাকাঁলেই প্রচণ্ড শব্দে আশে পাশের গাছে বসে থাকি পাখিরা উড়ে যায় আরেক গাছে। সালেহ সাহেব পরে যান মাটিতে। নিজের পিস্তুলে নিজেই খুন হলেন সালেহ খান। ব্যাপারটা বেশ ইন্টারেস্টিং!

দেশে এসে যে একজন খুন হবে উমার হাতে এটা উমা কখনো ভাবেনি। তাহলে তনিমাকে সে লোক দিয়ে খুন করাতো না। নিজের হাতেই খুন করতো। বেশি আনন্দ হত এতে তার। যায় হোক যা হবার তাই হবে।

উমা হোটেলে গিয়ে নিজের রুমে ঢুকে ফ্রেশ হয়ে জানালার ধারে গিয়ে একটা সিগারেট ধরালো। আকাশটা বেশ সুন্দর দেখাচ্ছে পূর্নিমার চাঁদের কারণে।

এই সময় উমার একটা উক্তি মনে হলো ‘পূর্ণিমার চাঁদ যেনো ঝলসানো রুটি’ কে যেনো এ উক্তিটি বলেছেন সেটা উমার এই মুহুর্তে মনে পড়ছে না। মনে করার চেষ্টাও করছে না।

রাত অনেক হয়েছে, উমার তবুও ঘুম আসছে না। অনেক দিন বাদে দেশে ফিরেছে তবু কেনো যেনো ভালো লাগছে না কিছুই।

আচ্ছা স্বনন এখন কোথায় আছে? কেমন আছে ছেলেটা? কত দিন কথা হয় না, দেখা হয় না! স্বনন হয়তো আমাকে ভুলে গেছে, তবে আমি ভুলিনি খুব মনে পরে ওকে।

ধুর! উমা স্বননের কথা ভাবতে চাই না।

হাতের সিগারেট শেষ হলে আরেকটা সিগারেট ধরায় উমা। এ ভাবেই রাত পার করে ভোরের দিকে ঘুমোতে যায়।

তিন দিন পর সারা শহর তোলপার শুরু, খবরের কাগজে, টিভিতে সব জায়গাতেই একই খবর শিল্পপতি সালেহ খান হঠাৎ করেই নিখোঁজ। তিনি কি স্বেচ্ছায় গা ঢাকা দিয়ে আছেন নাকি এর পিছনে রয়েছে বড় কোনো ষড়যন্ত্র জানতে চোখ রাখুন……..

উমা খুব আগ্রহ সহকারে কলিগদের সাথে বসে আলোচনা করে সালেহ খানের নিখোঁজের বিষয়ে। তবে পুলিশ কোনো ক্লু খুঁজে পাচ্ছেন না।

কেটে গেলো একটা মাস। সালেহ খান এখনও জীবিত আছে নাকি মৃত পুলিশ তা বের করতে পারেনি। এক মাত্র উমায় জানে সালেহ খান আর এই পৃথিবীতে নেই। তিনি নিখোঁজ নন, তিনি খুনের শিকার হয়েছেন উমার কাছেই।

উমার তিন মাস দেশে থাকার কথা থাকলেও দেড় মাসের মাথায় সে কানাডা ফিরে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর তার ফ্লাইট। এ কদিন খারাপ যায়নি, দেশে বেশ ভালো সময় কাটিয়েছে উমা।

 

এসবি/এমই


  • 15
    Shares