বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের দোকানিদের মুখে হাসি

  • 4
    Shares

সাহেব-বাজার ডেস্ক: দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে খুলেছে ক্যাম্পাসের ভেতরের খাবার হোটেল, ফটোকপি, স্টেশনারি ও লাইব্রেরিসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিক্রির দোকান। শিক্ষার্থীদের কেন্দ্র করে জীবিকা চালানো এ মানুষগুলোর মুখে হাসি ফুটতে শুরু করেছে। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় বাড়ছে দোকানে।

ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, টুকিটাকি চত্বর, পরিবহন মার্কেট, স্টেডিয়াম মার্কেট, স্টেশন বাজারসহ আশপাশ এলাকার ব্যবসায়ীরা বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন।

টুকিটাকি চত্বরের খাবার হোটেল মালিক আবুল হোসেন জানান, ক্যাম্পাস খোলা থাকা অবস্থায় এ দোকান থেকে মালিক ও কর্মচারী মিলিয়ে ১৭ জনের সংসার খুব ভালোভাবেই চলতো। কিন্তু গত দেড় বছরে সবাইকে খুব কষ্টে দিন পার করতে হয়েছে। কেউ দিনমজুর কেউ ভাড়া করা অটোরিকশার চালক হিসেবে কাজ করেছেন। এতদিন পর দোকান খুলতে পেরে খুশি তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটে সবচেয়ে বেশি চলে কম্পিউটার সংশ্লিষ্ট কাজ। এই মার্কেটে প্রায় ৫০টি দোকান রয়েছে। পরিবহন মার্কেটের দোকান মালিক সমিতির সভাপতি জাহিদ হাসান জানান, দেড় বছর ধরে বন্ধ থাকায় বেশিরভাগ দোকানের কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক ও মাদারবোর্ড নষ্ট। প্রিন্ট করার মেশিনও নষ্ট হয়েছে অনেকের। সেগুলো মেরামত করে আবার ব্যবসা শুরু করেছেন তারা। এখন বেচাকেনা বেশ ভালো বলেও জানান তিনি।

দোকানি রুহুল আমিনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দোকান বন্ধ থাকায় সাত মাসের মতো তাদের কোনো কাজ ছিল না। পরে বাড়ির পাশেই ছোট একটা দোকানে, যা বেচাকেনা হতো তাতেই সংসার চলেছে। দোকানের একমাত্র কর্মচারী রাজমিস্ত্রির যোগালি হিসেবে কাজ করেছেন। সপ্তাহখানেক হলো দোকান খুলতে পেরে আনন্দিত তিনি।

জানা যায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেশন বাজারে শতাধিক, বিনোদপুর বাজারে ৫০টি, পরিবহন মার্কেটে ২৫টি, টুকিটাকি চত্বরে ১৫টি, চারুকলা এলাকা ও বিভিন্ন আবাসিক হলে ৪০টি দোকান রয়েছে। এছাড়া ক্যাম্পাসে বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ অর্ধশতাধিক দোকান রয়েছে।

২০২০ সালের মার্চে করোনার প্রকোপ শুরু হলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণার পর থেকে ক্যাম্পাসের ভেতরে থাকা কয়েকশ দোকানপাটও বন্ধ হয়ে যায়।

এসবি/জেআর


  • 4
    Shares