বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বায়ত্তশাসন: স্বেচ্ছাচারিতার লাগাম টানার এখনই সময়

  • 24
    Shares

মনোয়ারুল হক

শিক্ষা ব্যবস্থার এক তীব্র সংকট পরিলক্ষিত হচ্ছে সমস্ত দেশে। প্রাথমিক থেকে নিয়ে সর্বোচ্চ পর্যায় বিশ্ববিদ্যালয় সর্বত্র একই অবস্থা বিরাজমান। বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার বড় অংশ রাষ্ট্র বহন করে। রাষ্ট্রের অর্থায়নেই দেশের ৪৯ টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হচ্ছে। ৪৫টি ইতিমধ্যে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। এর যাবতীয় সবকিছু সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে।

রাষ্ট্রের পরিচালনার দায়িত্বে যে নির্বাহী বিভাগ তার প্রধান হচ্ছেন; বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমরা লক্ষ্য করি, গত কয়েক বছর যাবৎ এই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নানান বিষয় নিয়ে তীব্র বিতর্ক। প্রধানত শিক্ষক নিয়োগ ও উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে বিতর্ক। ৪৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে প্রতিষ্ঠিত ৬টি, যা বাংলাদেশ উত্তরাধিকারসূত্রে অর্জন করেছিল। এগুলো হচ্ছে; ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, জাহাঙ্গীরনগর ও ঢাকায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)।

স্বাধীনতার পূর্বে এ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পরিচালনার ভার তদানীন্তন পাকিস্তান সরকার তাদের পছন্দের ব্যক্তিবর্গকে দিতো। এদের অধিকাংশই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন না, তারা ছিলন প্রধানত আমলা। তবে তাদেরকেই উপাচার্য নিয়োগ করা হতো।এমন উপাচার্যরা বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে তার নিজস্ব চিন্তা ও পছন্দকে প্রাধান্য দিতেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যেও এক প্রকার অসন্তোষ ছিল। সেখান থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্তশাসনের দাবি সামনে উঠে আসে।

স্বাধীনতার পূর্বে একথা বলা যায় ৫৪ সালের নির্বাচনের সময়। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের অঙ্গীকার করেছিলেন মাওলানা ভাসানী, শেরে বাংলা ফজলুল হক, বঙ্গবন্ধু প্রমূখ ব্যক্তিবর্গ। যদিও তখন দেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত ছিল এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সবে যাত্রা শুরু করেছে। ১৯৫৪ সালের পূর্ববঙ্গের প্রাদেশিক সরকার দীর্ঘস্থায়ী না হওয়ায় বিষয়টি নিষ্পত্তি হয় না । একইধারায় চলতে থাকে তদানীন্তন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। ১৯৬৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ডক্টর ডঃ শামসুজ্জোহা’র মৃত্যু, সেই সময়ের পূর্ব পাকিস্তানে এক নতুন অধ্যায়ের সৃষ্টি করেছিল। তার মৃত্যুর পর থেকে গণঅভ্যুত্থানের সৃষ্টি হয়েছিল। পরিণতিতে সত্তরের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিশাল জয়, যেখান থেকে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাদের সেই স্বায়ত্তশাসনের বিষয়টি সামনে নিয়ে আসেন; যা বঙ্গবন্ধু’র সরকার বাস্তবায়ন করে।

১৯৭৩ সালে মুজিব সরকার সংসদে বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ পাস করে। সেই সময়ের বাংলাদেশের ৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাদেশ প্রয়োগ ১৯৭৩ সালের ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাসের মধ্যে সম্পন্ন করা হয়। তবে প্রতিটি অধ্যাদেশ কেন আলাদা আলাদা করে পাস করা হয়েছিল তা সুস্পষ্ট নয়। আজও অপর দুটি বিশ্ববিদ্যালয়; ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েটে) তাদের স্বায়ত্তশাসনের আইন করা হয়নি। তবে বেশ কিছু বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ১৯৭৩ অধ্যাদেশ অনুসরণ করে; যেমন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ডিন নির্বাচন হয়, সিন্ডিকেট নির্বাচন হয় ইত্যাদি।

১৯৭৩ এর পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় তার নিজের প্রশাসনিক যোগ্যতায় চলতে শুরু করে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যে মৌলিক পরিবর্তন সাধিত হয়; তার মধ্যে একটি হচ্ছে বিভাগীয় সভাপতির পদ, সিন্ডিকেট সদস্যদের পদ, উপাচার্যের পদ- এগুলো প্রায় নির্বাচন পদ্ধতির মধ্যে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। যার বেশ কিছু অংশ এখনো কার্যকর আছে। বিভাগীয় সভাপতির পদ সিন্ডিকেট এবং ডিন পদের নির্বাচন চলছে নিয়মিত। নির্বাচিত ব্যক্তিদের দ্বারাই পদগুলো নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। ১৯৭৩ কার্যকর হওয়ার পর থেকে আজ অবধি যে বিষয়গুলো সামনে চলে এসেছে তার অন্যতম হচ্ছে উপাচার্যের পদ। সরকারের নির্বাহী বিভাগের হাতে থাকার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আগের থেকে আরও বেশি দলীয় কর্মীতে রূপান্তরিত হয়েছে কিনা- তা ভেবে দেখার বিষয় হয়েছে। মু্ক্তচিন্তার অর্থ কোন বিরোধী দলের কর্মী হওয়া একথা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিশ্বের কোথাও স্বীকৃতি লাভ করে নাই। আমাদের দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বায়ত্তশাসন চালু হওয়ার পর থেকে মূলত দলীয় কর্মীদের পদাসীন হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।

আজকে গত ৫০ বছরে নানা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের বিষয়টি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়; এরা প্রায় সকলেই দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে নির্বাচিত হচ্ছেন। যার পরিণতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মান কতটুকু স্বাধীন থাকছে- সে প্রশ্ন করা যেতে পারে। পাকিস্তানিদের শাসনকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ছিল, অথচ স্বাধীন বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্তশাসিত হওয়ার পর থেকে ছাত্র সংসদ নির্বাচন একবারে নিষিদ্ধ বস্তুতে পরিণত হয়েছে। বিগত ২০ বছর কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছে বলে জানা যায় না। একমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদালতের আদেশের কারণে তা একবার করা হয়েছে। এরপর এক উপাচার্যদের দ্বারা সংঘঠিত নানান বিতর্কিত কাজ, আজ দেশের সকলের সামনে চলে এসেছে।

শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে যে ভয়ঙ্কর রকমের অভিযোগ সামনে আসছে; তা জাতিকে সংশোধনের উদ্যোগ নিতে হবে। এই কেলেঙ্কারিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সামগ্রিক মান নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। শুধু শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া নয়, শিক্ষার্থী ভর্তি নিয়েও এক জটিল অবস্থার সৃষ্টি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের স্বায়ত্তশাসনের জোরে কোনো সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নিতে আগ্রহী না। তারা প্রায় সকলেই ছাত্রছাত্রী ভর্তি প্রক্রিয়া থেকে একটি বিশাল মৌসুমী অর্থ আয় করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ নিয়মে খাতা দেখা, পরীক্ষার হলে তদারকি করার জন্য যে সম্মানী নির্ধারিত আছে, এক্ষেত্রে তা কার্যকর করা হয় না এবং এই স্বায়ত্তশাসনের বদৌলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আয় প্রসাসনিক কর্তারা নিজেদের মধ্যে বন্টন করে নেন। যদিও ভর্তির টাকা থেকে আয়ের একটি অংশ তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাগারে জমা দেন, কিন্তু প্রধান অংশটি নিজেদের মধ্যেই ভাগ করে নেন।

স্বায়ত্তশাসনের ফলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সকল প্রশাসনিক পদ অধ্যাপকসমূহ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তাদের শিক্ষা কার্যক্রম, গবেষণা কার্যক্রমের বাইরে কি করে তারা ঐ সমস্ত দায়িত্ব পালন করেন- তা রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ ও সংসদের ভেবে দেখা উচিত। শিক্ষকদের নিয়ন্ত্রণে রেজিস্টার ,কন্ট্রোলার অব একাউন্টস , পরিবহন পরিচালক, ক্যাফেটেরিয়া এসব কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাহেবরা তাদের একাডেমিক সময়ের বাইরে কিভাবে চালান ? প্রশাসনিক পদ সত্ত্বেও কিভাবে অধ্যাপক সাহেবরা এই পদে যোগদান করেন তাও একটি গবেষণার বিষয়।

রাজশাহী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে দেখা যায়, পৃথিবীর ইতিহাসের সকল বিশ্ববিদ্যালয় পর্যালোচনা করলে অধ্যাপকের সংখ্যা দিয়ে এই দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক উপরে অবস্থান। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আনুমানিক ১২০০ আশেপাশের শিক্ষক সংখ্যার মধ্যে ৬০০ অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রায় ৬০০ অধ্যাপক। এদিক থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এগিয়ে গেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক বা প্রমোশনেও প্রায় অভিন্ন নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে, যা অনেকটাই সচিবালয়ের করণিকদের মতো। বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করার তিন বছরের পরেই কাউকে সহকারী অধ্যাপক, আবার কাউকে সহযোগী অধ্যাপক বা অধ্যাপক হওয়ার জন্য প্রধানত সময়কে নির্ধারণ করা হয়েছে।

অর্থাৎ ১২/১৬ বছর চাকরি হলেই এই পদে পদোন্নতি সম্ভব, এর জন্য যে গবেষণার কথা উল্লেখ করা হয়েছে- সে গবেষণা মানদন্ড বলে কিছু নেই। যার জন্য আমরা দেখতে পাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক একদম কপিপেস্ট গবেষণাপত্র হাজির করে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছে এবং সেই পিএইচডি ডিগ্রি দ্বারা ডিপার্টমেন্টেও পদায়ন হয়েছে। এক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাই শাস্তির বিধান কতটা লঘু, যে শাস্তি কেবলমাত্র তার পদাবনতি ঘটিয়েছে। একজন শিক্ষক হিসেবে এই ধরনের জালিয়াতি জাতিকে কি সংবাদ দিচ্ছে? পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে সারা দেশে ছাত্র ভর্তি করার ক্ষেত্রে একটি দারুন সমন্বয়হীনতার অভাব। ফলে রাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে একটি সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার আওতায় নিয়ে আসার জন্য ইউজিসি একটি রূপরেখা তৈরি করে এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে হস্তান্তর করে। ইউজিসি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান কর্মকর্তারা সবাই প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক নিয়োগকৃত হলেও, অদ্ভুত বিষয় উপাচার্যরা স্বায়ত্তশাসনের দোহাই দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করছে কিনা?

এরা প্রায় সকলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ হওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের শরণাপন্ন হন। যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের অর্থায়নে এই সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যয় নির্বাহ করা হয়। তাদের বাজেট প্রধানত প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে অনুমোদিত লাভ করার পর বরাদ্দ করা হয়। এরপরও তারা কোন কারনে ইউজিসির কাছে জবাবদিহি করতে অস্বীকার করে- সেই স্পর্ধা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। আমাদের সংসদ ও নির্বাহী বিভাগকেও ভাবতে হবে। প্রায়শই আমরা বিচার বিভাগের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে দেখি। উপাচার্য পদের জন্য প্রায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শতাধিক অধ্যাপক তাদের স্বপ্ন পূরণে সচেষ্ট থাকে।

যে শতাধিক অধ্যাপক এই তালিকায় নিজেদেরকে যোগ্য মনে করেন অধ্যাপনা করার থেকেও অনেক বেশি তারা উপাচার্য হওয়ার বিষয়ে আগ্রহী হয়ে পড়েন। উন্নত বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এই পথকে উপাচার্য বলা হয় না প্রধানত বলা হয় প্রেসিডেন্ট । প্রেসিডেন্ট একটি প্রশাসনিক পদ হওয়াতে এদের সকলেই আলাদাভাবে নিয়োগ করা হয় প্রশাসক হিসেবে। সেক্ষেত্রে এদের অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রমে জড়িত অংশের বাইরে থেকে আসেন।

আমাদের দেশে স্বায়ত্তশাসন চালু হওয়ার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের উপাচার্য হওয়ার বিষয়ে সবচেয়ে আগ্রহী করে তোলে । সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা তৈরি করার জন্য যে ভার্চুয়াল মিটিং ডেকেছিল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-সহ আরো কয়েকটি সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের উপাচার্য উপস্থিত হননি। সমন্বিত ভর্তির নীতিমালা সংক্রান্ত বিষয়াদি সম্পর্কে কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি তীব্র বিরোধিতার সৃষ্টি করেছে, তাদের এই বিরোধিতা প্রকারান্তে সরকার প্রধানের বিরুদ্ধে বিরোধিতা বলেই মনে করা যেতে পারে। কারণ, তাদের সকলের মনোনয়ন সরকার প্রধানের হাত থেকেই হয়েছে।

সরকারপ্রধানের সুপারিশেই রাষ্ট্রপতি তাদের মনোনীত করেছেন একথা তাদের ভুললে চলবেনা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় মজুরি কমিশন যে প্রতিষ্ঠানের কথাই আমরা বলি তাদের নীতিনির্ধারণী জায়গায় আছেন সরকার প্রধান, তার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা থেকে যারা নিজ অথবা গোষ্ঠী স্বার্থে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করছে- তাদের ব্যাপারেও দেশের মানুষ সচেতন। তাদের বিষয়ে নির্বাহী বিভাগের আরো বেশি সচেতন থাকতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্তশাসনের নামে যে সমস্ত বিষয়ে ঘটছে তাতে স্বায়ত্তশাসনকে কলঙ্কিত করা হচ্ছে। দেশের সাধারণ মানুষ, সর্বস্তরের নাগরিকরা এই স্বায়ত্তশাসনের ভিন্ন অর্থ জানতে পারছেন। আগামীর জন্যেও তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের। সময় এখনও শেষ হয়নি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আহবান, শক্তহাতে তিনি যেন পাবলিক ইউনিভার্সিটিগুলোর নিয়ম-নীতি বাস্তবায়নের জন্য কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।

লেখক: কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

এসবি/জেআর


  • 24
    Shares