বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে আসছে ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল হলিডে’


সাহেব-বাজার ডেস্ক : বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে আরও উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে লোডশেডিং করে আরও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাকে ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল হলিডে’ হিসেবে ঘোষণা করা হবে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ইতোমধ্যে দেড় থেকে দুই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় হচ্ছে। এর মধ্যে এক হাজার মেগাওয়াট সাশ্রয় হচ্ছে বিদ্যুতের উৎপাদন বন্ধ রাখার কারণে; বাকিটা লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে। এই সাশ্রয়ের পরিমাণ বাড়াতেই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সরকারের বিশ্বাস, ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল হলিডে’র মাধ্যমে অন্তত ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের সাশ্রয় করা যাবে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা বৈঠক করেন। রাজধানীর আব্দুল গনি রোডের বিদ্যুৎ ভবনের বিজয় হলে বৈঠক হয়। সেখানে শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সপ্তাহে একেক দিন একেক শিল্পাঞ্চলে ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল হলিডে’ করতে চায় সরকার। ব্যবসায়ীরা এতে রাজি হন।

তবে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, শিল্পাঞ্চলগুলোয় সপ্তাহে একদিন সারাদিন লোডশেড বা বিদ্যুৎ বন্ধ রাখলেও ক্যাপটিভ পাওয়ার যাতে বন্ধ করা না হয়। ব্যবসায়ীরা বৈঠকে বলেন, অনেক কারখানায় প্রসেস প্লান্ট আছে। বিশেষ করে চামড়াশিল্পের মতো অনেক শিল্প আছে, যেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, কোন এলাকায় কখন ‘ইন্ড্রাস্ট্রি হলিডে’ হবে, সেটা নির্ধারণ করতে ব্যবসায়ী নেতাদের অনুরোধ করা হয়। ব্যবসায়ী নেতারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে বিষয়টি সরকারকে জানাবেন। মন্ত্রণালয়ের একটি মনিটরিং টিম থাকবে। তারা কঠোরভাবে ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল হলিডে’ পর্যবেক্ষণ করবে।

বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, সাধারণত সব শিল্প প্রতিষ্ঠানেই সপ্তাহে একদিন বন্ধ থাকে। সেই দিনকেই প্রাধান্য দিয়ে শিল্পাঞ্চলে বিদ্যুৎ বা গ্যাস সরবরাহ বন্ধের মাধ্যমে ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল হলিডে’ করা হবে। ওই কর্মকর্তা বলেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে একদিকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের সাশ্রয় হবে। অন্যদিকে অন্তত ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সাশ্রয় হবে। তাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কিছুটা বাড়লে অন্যান্য এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, গ্যাস, বিদ্যুৎ, এলএনজির ক্ষেত্রে প্রায় ৮৩ হাজার কোটি টাকা সরকারকে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। ফলে সরকার নানা উপায়ে ভর্তুকি কমিয়ে আনতে চায়। যার মধ্যে অন্যতম হলো জ্বালানির সাশ্রয়। এ ছাড়া আমদানি কমিয়ে ডলার সংকট কাটিয়ে উঠতে চায় সরকার।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, শিল্পাঞ্চলগুলোয় সপ্তাহে একদিন এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং বা ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল হলিডে’ করার বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা একমত হয়েছেন।

সভাশেষে নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ সহসভাপতি ফজলে এহসান বলেন, ‘আগে একেক এলাকায় সপ্তাহে একদিন শিল্পকারখানা বন্ধ রাখার নিয়ম ছিল। মাঝে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় আমরা শিল্পমালিকরা সেটি মানতাম না। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী আবারও সপ্তাহে একদিন কারখানা বন্ধ রাখার অনুরোধ করেছেন। আমাদের আপত্তি নেই। আমরা শুধু আগের রুটিন অনুযায়ী কারখানা সাপ্তাহিক বন্ধ রাখার কথা বলেছি।’

তিনি বলেন, প্রতিমন্ত্রী আমাদের জানিয়েছেন যে আগামী অক্টোবর থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তখন নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হবে। ভারত থেকেও বিদ্যুৎ আসবে। তা ছাড়া শীতের কারণে বিদ্যুতের চাহিদাও কম থাকবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী, তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি শহিদউল্লাহ আজিম, বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর পরিচালক রাজীব হায়দার প্রমুখ।

শহিদউল্লাহ আজিম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রী আমাদের বললেন, পোশাক ও বস্ত্র কারখানা সপ্তাহে একদিন বন্ধ রাখলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। তাতে কি আমরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাব, প্রশ্ন করলে প্রতিমন্ত্রী আমাদের গ্যারান্টি দিতে পারেননি। তবে বলেছেন, পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তারপর আমরা বিষয়টি মেনে নিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘গ্যাসচালিত ক্যাপটিভ জেনারেটরভিত্তিক কারখানা ও কাপড় ডায়িংয়ের কারখানায় প্রতিদিনই উৎপাদন চালানোর বিষয়ে আমরা বলেছি।’

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং বা ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল হলিডে’ হলে প্রতিদিন ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) ৫০ মেগাওয়াট, ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) ২০ মেগাওয়াট, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবির) ২৫০ মেগাওয়াট, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) ১২০ মেগাওয়াট, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) ২০ মেগাওয়াট এবং নর্দান ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকোর) ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে।

 

এসবি/এমই