বাস্তবের রবিনসন ক্রুসো!

  • 1
    Share

সাহেব-বাজার ডেস্ক : ভরসা কেবল নারিকেল। তাই দিয়েই মিটেছে খিদে এবং তেষ্টা দুই-ই। এভাবেই বাহামা দ্বীপপুঞ্জের ‘অ্যাঙ্গিলা কে’ অঞ্চলের পাণ্ডববর্জিত দ্বীপে সম্প্রতি ৩৩ দিন কাটালেন কিউবার তিন নাগরিক। আরও একবার সাহিত্যের পাতা থেকে বাস্তবে উঠে এলো ‘রবিনসন ক্রুসো’, ‘সুইস ফ্যামিলি রবিনসন’ অথবা ‘অ্যাড্রিফ্ট ইন দ্য প্যাসিফিক’-এর রোমাঞ্চ।

বাহামায় এই তিন দ্বীপবাসীর অস্তিত্ব ধরা পড়ে আকাশপথে উপকূলরক্ষীদের নিয়মমাফিক নজরদারির সময়ে। উপকূলরক্ষী রিলে বিচের সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বাহামা দ্বীপপুঞ্জের উপরে আকাশপথে নজরদারির সময়ে তার নজরে কিছু একটা আটকে যায়। সন্দেহ নিরসনে তিনি হেলিকপ্টার নিয়ে আরও কিছুটা নিচে নেমে আসেন। সে সময়েই বুঝতে পারেন জনশূন্য দ্বীপে কেউ বিপদে পড়েছেন। কিন্তু সে সময় উপকূলরক্ষী বাহিনীর ওই নজরদারির দলের কাছে উদ্ধারের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ছিল না। কিন্তু আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে কপ্টার থেকে প্যারাশ্যুটের মাধ্যমে ফেলে দেওয়া হয় খাবার, জল এবং একটি রেডিও। যাতে তারা যোগাযোগ করতে পারেন। যোগাযোগ তো হলো। কিন্তু দ্বীপে আটকে পড়া দুর্গতরা আর্তি জানাচ্ছেন স্প্যানিশে। এ দিকে আমেরিকার উপকূলরক্ষী বাহিনীর নজরদারির ওই দলে স্প্যানিশে দক্ষ সে রকম কেউ নেই। শেষ অবধি বিচের তার ভাঙা ভাঙা স্প্যানিশের জ্ঞান নিয়ে বুঝতে পারলেন কেউ ওই দ্বীপে আটকে পড়েছেন।

জনশূন্য ওই দ্বীপে নারিকেল গাছ এবং কিছু গুল্মজাতীয় ঝোপঝাড় ছাড়া বিশেষ কোনো গাছ নেই। বাধ্য হয়ে তাই এক মাসের বেশি কিছু সময় নারিকেলেই জীবনধারণ করেছিলেন ওই তিনজন। তবে আমেরিকার সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, নারিকেলের পাশাপাশি খেয়েছেন ইঁদুর এবং শামুকও। থাকার জন্য দ্বীপে বানিয়েছিলেন অস্থায়ী ছাউনিও।

উদ্ধারকারীদের নজর টানবার জন্য একটি পতাকা বানিয়ে পুঁতে রেখেছিলেন দ্বীপে। সেই পতাকা দেখেই উপকূলরক্ষীদের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়। শেষ অবধি তিনজনকে এয়ারলিফ্টে করে উদ্ধার করা হয়। তার পর নিয়ে যাওয়া হয় ফ্লোরিডার চিকিৎসাকেন্দ্রে। শারীরিক পরীক্ষার পরে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনজনের দেহে আঘাত গুরুতর নয়। তাদের পাঠানো হয়েছে অভিবাসন বিভাগে। তবে কেন ওই তিন কিউবান সমুদ্রে পাড়ি দিয়েছিলেন? তাদের উদ্দেশ্য কি ছিল সমুদ্রে নিছক মাছধরা? নাকি, আমেরিকায় অনুপ্রবেশের জন্যই জলপথে ভেসেছিলেন? সে রহস্যের সমাধান এখনো হয়নি।

 

এসবি/এমই


  • 1
    Share