বছরের শুরুতেই লাগামহীন রাজশাহীর নিত্যপণ্যের বাজার

  • 1
    Share

শিরিন সুলতানা কেয়া : নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার গতবছর থেকেই অস্থিতিশীল। গত বছর সবজির চড়া দামে নাভিশ্বাস উঠেছে ক্রেতাদের। নতুন বছরেও স্বস্তি পাচ্ছেন না ক্রেতারা। বছরের শুরুতে সবজির দাম স্থিতিশীল থাকলেও দাম বেড়েছে চাল, তেল, চিনি ও আটার। এতে আবারও টানাপোড়েনে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

শুক্রবার রাজশাহী নগরীর সাহেব বাজার ঘুরে দেখা যায়, সবজি মাছ এবং মাংসের বাজার স্থিতিশীল। তবে দাম বেড়েছে চাল, তেল, চিনি এবং আটার। পাইকারী বাজারে এইসব পণ্যের দাম বাড়ার কারনে প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।

আটাশ চালের দাম কেজিপ্রতি ২ টাকা বেড়ে হয়েছে ৫৪ টাকা। তবে পাইকারি বাজারে ৫০ কেজি বস্তার দাম ২ হাজার ৭০০ টাকা। এটির মূল্য আগে ছিলো ২ হাজার ৫০০ টাকা। মিনিকেটের দাম ২ টাকা বেড়ে হয়েছে ৫৮ টাকা। তবে পাইকারি বাজারে এর দাম ৩ হাজার টাকা। এর অগে দাম ছিলো ২ হাজার ৮০০ টাকা।

পাইকারি বাজারে জিরাশালের দাম ৩০০ টাকা বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৮০০ টাকা। আর খুচরা বাজারে ২ টাকা বেড়ে দাম হয়েছে ৫৮ টাকা। বাসমতি চালের দাম বস্তপ্রতি ৩০০ টাকা বেড়ে দাম হয়েছে ৩ হাজার ২০০ টাকা। এতে খুচরা বাজরেও দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৩ টাকা করে। বাসমতি এখন ৬৫ টাকা কেজিতে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। বাড়তি দাম নাজিরশাল আর স্বর্ণারও। স্বর্ণা ও নাজিরশালের দাম ২০০ টাকা করে বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ২০০ ও ৩ হাজার ২০০ টাকা। খুচরা বাজারে নাজিরশালের দাম কেজিপ্রতি ৫ টাকা বড়ে দাম হয়েছে ৬৫ টাকা।

এছাড়াও বাড়তি দাম বিভিন্ন তেলেরও। খোলা তেলের দাম এখন কেজিপ্রতি ১২২ টাকা। তবে কিছুদিন আগেও দাম ছিলো ৯৫ টাকা। তবে বিভিন্ন ব্যান্ডের তেলের দাম কেজিপ্রতি ২০ টাকা বেড়ে দাম হয়েছে ১২৫ টাকা। চিনির দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৬ টাকা করে। চিনির দাম ৫৮ টাকা থাকলেও এখন ৬৪ টাকাতে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। আগে পাইকারি বাজরে বস্তাপ্রতি দাম ২ হাজার ৭০০ থাকলেও এখন বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৯০০ টাকা। বাড়তি দাম এখন আটারও। আটা ২ টাকা বেড়ে হয়েছে ৩০ টাকা। তবে পাইকারি বাজরে বস্তাপ্রতি ৫০ টাকা করে বেড়ে দাম হয়েছে এক হাজার টাকা।

নগরীর চাল ব্যবসায়ী আহমেদ রাইস এজেন্সির মালিক রাজু রহমান বলেন, বর্তমানে দেশে চালের কিংবা ধানের কোন ঘাটতি নেই। বড় বড় মিলাররা সিন্ডিকেট করেই চালের দাম বাড়িয়ে রেখেছে। সরকারের সঠিক মনিটরিং না হলে চালের দাম কমবে না। আরেক ব্যবসায়ী মোস্তফা ট্রেডার্সের মালিক মোস্তফা রহমান বলেন, বড় বড় ব্যবসায়ীরাই এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। যার জন্যই তেল, চিনি ও আটার দাম বেড়েছে। তবে একমাত্র সঠিক মনিটরিং এর মাধ্যমেই দাম কমানো সম্ভব।

নগরীর মাস্টারপাড়ায় কাঁচাবাজার করেতে এসেছিলেন আসলাম খান। তিনি বলেন, বিগত কয়েক বছরের তুলনায় বাজার কোন সময়ই স্থিতিশীল না। আজ এটার দাম বাড়ছে, তো কাল ওটার দাম বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, কয়েকদিন আগে সবজির দাম ছিলো লাগামহীন। তবে এখন সবজির দাম অনেক কমেছে কিন্তু এখন আবার চাল, তেল, চিনি ও আটার দাম বাড়তি। প্রশাসনের সঠিক মনিটরিং দরকার। না হলে সাধারণ ক্রেতাদের সমস্যা বাড়তেই থাকবে।

এসবি/ এসকে/এআইআর


  • 1
    Share