বগুড়ায় আইসিইউ বেডের তীব্র সঙ্কট

  • 1
    Share

সাহেব-বাজার ডেস্ক: মহামারি করোনায় আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীদের চিকিৎসার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষঙ্গ ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ)। তবে বগুড়ার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইসিইউ বেড নেই। যে কারণে প্রতিদিনই করোনা রোগীর মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে।

বগুড়া ২৫০ শয্যা মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আইসিইউ ওয়ার্ড এখন টিকা কেন্দ্র বানানো হয়েছে। সেখানে এখন চলছে কোভিড-১৯ এর টিকাদান কর্মসূচি।

এছাড়া হাসপাতলের আট শয্যা বিশিষ্ট আইসিইউ ইউনিটের কাজ শেষ হয়েছে অনেক আগে। কিন্তু আইসিইউ বেডের অভাবে ওয়ার্ডটি চালু হয়নি। একই সঙ্গে আইসিইউয়ের জন্য প্রয়োজনীয় লোকবলও সেখানে নেই।

বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতলেরর তত্ত্বাবধায়ক এ টি এম নুরুজ্জামান সঞ্চয় জানান, আইসিইউ বেড ও প্রয়োজনীয় দক্ষ অ্যানেসথিয়াসিস্ট ও অন্যান্য লোকবল পেলেই কার্যক্রম শুরু করা যাবে। শুধু মোহাম্মদ আলী হাসপাতলেই নয়, শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপতালেও সঙ্কট রয়েছে অভিজ্ঞ আইসিইউ চিকিৎসকের।

শজিমেক হাসপাতলে মাত্র আটটি আইসিইউ ও হাই ডিফেভেন্ট ইউনিট (এস ডি ইউ) আছে আটটি। টি এম এস এস বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে ১০টি আইসিইউ বেড ও পাঁচটি এসডিইউ বেড রয়েছে। এগুলো চলে ৭ পয়েন্ট ৬ লিটার অক্সিজেন সিলিন্ডারের মাধ্যমে। এ হাসপাতালে কোনো সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা নেই। ফলে সঙ্কটাপন্ন রোগীকে সিলিন্ডারের অক্সিজেনের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

বগুড়া শজিমেক হাসপাতলের উপ-পরিচালক ডা. ওয়াদুদ জানান, জেলায় শুধু শজিমেক হাসপাতলেই আটটি আইসিইউ বেডের উপর নির্ভর করে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এসডিইউর ম্যাধমে কাজ চালিয়ে আইসিইউর অভাব পূরণ করা হচ্ছে শজিমেক হাসপাতলে। যখন আইসিইউ বেডের কোনো রোগী মারা যায় অথবা সুস্থ হয়ে চলে যায়, তখনই মিলছে সিরিয়ালে থাকা অন্য রোগীদের বেড।

তিনি আরও জানান, হাসপাতলে করোনা রোগীর জন্য ৭৫টি শয্যা থাকলেও ৮৩ করোনা রোগী ভর্তি রয়েছে। রোগীর চাপ বেশি হওয়ায় সেখান থেকে কম সঙ্কটাপন্ন রোগীদের বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। শুধু গুরুতর করোনা রোগীদের মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে রাখা হচ্ছে।

আইসিইউ বেড না পেয়ে কোনো রোগী অন্যত্র চলে যাচ্ছেন কি-না এমন প্রশ্নে ডা. ওয়াদুদ জানান, যেতে পরে। কিন্তু সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালেই আইসিইউ বেড সঙ্কট। সমস্যা সমাধানে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে।

এসবি/জেআর


  • 1
    Share