প্রবাসী আয়ে স্বস্তির বার্তা ১৫ দিনেই


সাহেব-বাজার ডেস্ক : দেশে চলমান ডলার সংকটের মধ্যে কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। চলতি মাসের প্রথম ১৫ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১০০ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। চলমান ধারা অব্যাহত থাকলে মাস শেষে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আড়াই শতাংশ নগদ প্রণোদনার পাশাপাশি আগের চেয়ে বেশি রেট মেলায় এখন বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রেরণে বেশি উৎসাহিত হচ্ছেন প্রবাসীরা। এ কারণে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রেরণ উৎসাহিত করতে ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে ২ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা দিয়ে আসছিল সরকার। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে তা বাড়িয়ে আড়াই শতাংশ করা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো প্রবাসী এতদিন ১০০ টাকা দেশে পাঠালে ১০২ টাকা পেতেন।

এখন পাচ্ছেন ১০২ টাকা ৫০ পয়সা। গত ২৩ মে যত খুশি তত রেমিট্যান্স পাঠানোর পথ সহজ করে দিয়ে সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সে অনুযায়ী, এখন পাঁচ হাজার ডলারের ওপরে বা ৫ লাখ টাকার বেশি রেমিট্যান্স এলেও কোনো ধরনের কাগজপত্র ছাড়াই প্রণোদনা পাচ্ছেন প্রবাসীরা।

এ ছাড়া এবিবি ও বাফেদা নিজেরা বসে গত ১১ সেপ্টেম্বর প্রবাসী আয় সংগ্রহে ডলারের সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণ করে দেয়। ঘোষিত দাম অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউস থেকে সর্বোচ্চ ১০৮ টাকায় রেমিট্যান্স সংগ্রহ করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৫ দিনে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাঁচ বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ১৪ কোটি ৫ লাখ মার্কিন ডলার। বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ৮৪ কোটি ৮৩ লাখ মার্কিন ডলার। বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩৪ লাখ মার্কিন ডলার। আর বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে এক কোটি ৬৪ লাখ মার্কিন ডলার।

এই সময়ে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে বেসরকারি ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। ব্যাংকটির মাধ্যমে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ২২ কোটি ডলার। এর পর সিটি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৯ কোটি ৯৭ লাখ ডলার, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৭ কোটি ৩০ লাখ, অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে ৬ কোটি ২৩ লাখ এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে ৫ কোটি ২১ লাখ এবং পূবালী ব্যাংকে এসেছে ৫ কোটি ৫৮ লাখ ডলার। তবে আলোচিত সময়ে সরকারি বিডিবিএল, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বিদেশি ব্যাংক আল-ফালাহ, হাবিব ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ও উরি ব্যাংকের মাধ্যমে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনা করে আরও দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের টানা দুই মাস দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। গত আগস্ট মাসে ২০৩ কোটি ৭৮ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। তার আগের মাস জুলাইয়ে এসেছিল ২০৯ কোটি ৬৩ লাখ ডলার।

 

এসবি/এমই