পানির জন্য রাজশাহীবাসীকে গুনতে হবে বাড়তি টাকা

  • 369
    Shares

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী নগরবাসীর সুপেয় পানির চাহিদা পূরণ করবে ওয়াসা। ঢেলে সাজানো হচ্ছে পানি সরবরাহের কার্যক্রম। চলছে পাইপ লাইনের সংস্কার কাজ। এ কাজ শেষ হলে বিশুদ্ধ পানি পাবে নগরবাসী। আর এজন্য নগরবাসীকে গুনতে হবে বাড়তি টাকা।

২০১০ সালের পহেলা আগস্ট প্রতিষ্ঠা হয় রাজশাহী ওয়াসা। তার আগে রাজশাহী নগরীতে পানি সরবরাহ করত সিটি করপোরেশন। এ কাজটি করত করপোরেশনের পানি শাখা। রাজশাহী ওয়াসা কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিষ্ঠা হওয়ার পরে ১০৩টি গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করে পাইপলাইনে সরবরাহ করছে তারা। এই নলকূপ থেকে প্রতিদিন গড়ে ৯ কোটি লিটার পানি উত্তোলন করে ৭১২ কিলোমিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করছে।

ওয়াসা কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, অন্য সিটি করপোরেশনের তুলনায় রাজশাহীতে পানির বিল অনেক কম। এখানে পানি উত্তোলন করতে যে খরচ, তার চেয়েও কমে সরবরাহ করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি হাজার লিটার পানি উত্তোলন, পরিশোধন ও সরবরাহে ৮ টাকা ৯০ পয়সা খরচ হয়। অথচ প্রতি হাজার লিটার পানির বিল ২ টাকা ২৭ পয়সা নেয়া হচ্ছে। পানি সরবরাহ ও সেবার মান বাড়ানোর লক্ষ্যে শিগগিরই বিল বাড়ানো হবে।

রাজশাহী ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী পারভেজ মামুদ বলেন, পদ্মা নদীর পানি শোধন করে ওয়াসার পাইপলাইন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সরবরাহ করা হবে। পানির মান ঠিক রাখতে পাইপলাইনে কিছু সংস্কার করা হবে। চার বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হলে শহরের শতভাগ পানির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে প্রতি হাজার লিটার পানির উৎপাদন খরচ পড়ে প্রায় ৯ টাকা। পদ্মা নদীর পানি শোধন করে সরবরাহে খরচ আরও কিছুটা বাড়বে। বিপরীতে এখন প্রতি হাজার লিটার পানির জন্য গ্রাহকের কাছ থেকে ২ টাকা ২৭ পয়সা নেওয়া হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রামে পানির এ বিল আবাসিকে ১২ থেকে ১৪ টাকা এবং বাণিজ্যিকে ৩০ থেকে ৪০ টাকা।

২০১৫ সালে পদ্মা নদীর পানি শোধন করে বাড়ি বাড়ি সরবরাহের উদ্যোগ নেয় ওয়াসা। ২০১৮ সালে একনেকে একটি প্রকল্প অনুমোদন হয়। ওয়াসার এ পানি শোধনাগার নির্মাণে আর্থিক সহায়তা দেবে চীনের হুনান কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড। গত বছর ২১ মার্চ রাজশাহী ওয়াসা ও চীনের হুনান কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের মধ্যে একটি চুক্তি হয়। ৪ হাজার ৬২ কোটি টাকার এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দিনে ২০ কোটি লিটার বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। প্রকল্পে ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ঋণ দেবে হুনান কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড। রাজশাহী শহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে গোদাগাড়ী উপজেলার সারাংপুরে শোধনাগার স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরই মধ্যে সেখানে প্রায় ৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫২ একর জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হয়েছে।

রাজশাহী ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক তুহিনুর আলম বলেন, নদীর পানি শোধন করে ৪৮ কিলোমিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে মহানগরীর পাশাপাশি পাশের তিনটি পৌরসভায় সরবরাহ করা হবে। এ জন্য চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। পানি শোধনে বাড়তি খরচ হবে। এ জন্য পানির বিলও কিছুটা বাড়তে পারে। এটি মেনে নিয়েই নগরবাসীকে আমাদের সঙ্গে চলতে হবে। এখনই নয়, করোনা মহামারী কাটিয়ে উঠলে কিছুটা হলেও পানির বিল বাড়ানো হবে।

 

এসবি/এমই


  • 369
    Shares