পাকিস্তানের পতাকা উত্তোলনের ঘটনায় পাঁচ যুব সংগঠনের বিবৃতি

  • 1
    Share

ঢাকা: টি টুয়েন্টি ক্রিকেট সিরিজের অনুশীলন করার সময় বাংলাদেশের মাটিতে পাকিস্তানী দলের পাকিস্তানের পতাকা উত্তোলনের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে গণমাধম্যে বিবৃতি দিয়েছেন দেশের ক্রিয়াশীল পাঁচটি যুব সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

মঙ্গলবার বিকালে দেওয়া এই বিবৃতিতে তারা বলেন, স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তী চলাকালে ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানি পতাকা ও জার্সি প্রদর্শনের মধ্যে রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি রয়েছে। এর দায় বিসিবিকেই নিতে হবে। এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

তারা বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের গণহত্যা এখনো বিস্মৃত হয়নি। একাত্তরে পাকিস্তান বাহিনী পরাজিত হলেও তাদের দোসররা এখনো সক্রিয়। পাকিস্তান এখনো নিঃশর্ত ক্ষমা চায়নি এবং সে সময়ের লুণ্ঠিত সব সম্পদ ফেরত দেয়নি।

নেতৃবৃন্দ বলেন, অনুশীলনের সময়ে পাকিস্তান দল মাঠে পাকিস্তানের পতাকা গেড়েছিল, বিষয়টি অভুতপূর্ব এবং ধৃষ্টতাপূরণ অশোভন আচরণের সামিল। বিসিবি এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেয়নি। এক্ষেত্রে লিখিত নির্দেশনা বা শর্ত আরোপিত না থাকায় আইনের ফাঁক গলে এহেন কাণ্ড ঘটানো সম্ভব হলেও বিসিবির নিরবতা ভবিষ্যতে এ ধরণের আচরণকে সুযোগ দিবে। যে কোন দেশের জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরা ঐ দেশের অফিসিয়াল অ্যাম্বাসেডর। ফলে এবিষয়ে প্রতিবাদ অফিসিয়ালি হওয়া কাঙ্খিত ছিল। কিন্তু বিসিবি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছে। আরো গুরুতর যে অপরাধটি বিসিবির সরাসরি প্রশ্রয়ে ঘটে গেলো- তাহলো, পাকিস্তানের জার্সি পড়িয়ে ও পতাকা হাতে দিয়ে একদল ভাড়াটে মানুষকে গ্যালারিতে বসানো। এটি রীতিমতো বাণিজ্যিক অর্থায়নে হয়েছে। কথিত সমর্থকদের দিয়ে পাকিস্তানের গ্যালারি সাজানো হয়েছে কার পরামর্শে সেটাও অনুসন্ধানের দাবি রাখে।

খেলা চলাকালীনও মাঠে পাকিস্তানের খেলোয়াড়েরা আমাদের খেলোয়াড়দের সাথে একের পর এক যে অসৌজন্যমূলক ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণ করছে। তাতে একথা মনে করা অসঙ্গত হবে না যে, পুরো বিষয়টি পূর্ব পরিকল্পিত এবং বিশেষ মহলের প্রশ্রয়ে ঘটেছে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, বিসিবির সভাপতি ও তার তল্পিবাহকেরা দেশের খেলোয়াড়দের শায়েস্তা করতে এতোটাই ব্যস্ত, বাংলাদেশের মাটিতে বাংলাদেশ ও দেশের খেলোয়াড়েরা অসম্মানিত হলে তাদের যেন কিছুই আসে যায় না। দেশের ক্রিকেট এবং জাতীয় মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে সভাপতিসহ তার তল্পিবাহকদেরকে বিসিবি থেকে অপসারণ করা জরুরি।

বিবৃতিতে যুব নেতৃবৃন্দ আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরণের ষড়যন্ত্র রুখে দিতে দেশের যুবসমাজকে আরো সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।

স্বাক্ষরকারি যুব সংগঠনের নেতৃবৃন্দ হলেন- সভাপতি বাংলাশে যুব মৈত্রীর সভাপতি সাব্বাহ আলী খান কলিন্স, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোতাসিম বিল্লাহ সানি, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সভাপতি হাফিজ আদনাল রিয়াদ, সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুম, জাতীয় যুব জোটের সভাপতি রোকরুজ্জামান রোকন, সাধারণ সম্পাদক শরিকুল কবির স্বপন, বাংলাদেশ যুব আন্দোলনের সভাপতি মোশাহিদ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক পল্লব পাল, জাতীয় যুব ঐক্যের সভাপতি খায়রুল আলম, সাধারণ সম্পাদক মিনহাজ সেলিম।

এসবি/জেআর


  • 1
    Share