পশ্চিম রেলে যুক্ত হচ্ছে ৪০টি নতুন ইঞ্জিন

  • 86
    Shares


নিজস্ব প্রতিবেদক : রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে যুক্ত হচ্ছে ৪০টি লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন)। সবগুলোই আনা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। ইতোমধ্যে ৮টি ইঞ্জিন দেশে এসে পৌঁছেছে। আরও চার দফায় ৩২টি ইঞ্জিন আসবে। এসব ইঞ্জিন রেলওয়েতে যুক্ত হলে আর যখন-তখন যেখানে-সেখানে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে থেমে যাবে না ট্রেন। বাড়বে যাত্রীসেবার মান।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের চিফ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার কুদরত-ই খুদা সাহেব-বাজার টোয়েন্টিফোরকে বলেন, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়েতে শুধু ব্রডগেজ (বিজি) লোকোমোটিভ চলে। এগুলোর সংখ্যা ৯২টি। এরমধ্যে ৪৩টিই মেয়াদোত্তীর্ণ। এসব ইঞ্জিনের আয়ুষ্কাল ২০ বছর। কিন্তু ৪০-৫০ বছরও বয়স হয়ে গেছে কোন কোন ইঞ্জিনের। মেয়াদোত্তীর্ণ ৪৭ শতাংশ ইঞ্জিনের মধ্যে ১৭টির বয়স ৫০ বছরের বেশি। এছাড়া ১৪টি ৪০ বছরের বেশি এবং ১২টি ৩০ বছরের বেশি পুরনো। অন্য ৪৯টি ইঞ্জিনের বয়স ২০ বছরের কম। এগুলো ভালো আছে।

রেল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিনের পরিচালন ব্যয় অনেক বেশি। চলতে চলতে হঠাৎ ট্র্যাকেই ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। এতে ভোগান্তি হয় যাত্রীদের। তাছাড়া পুরনো এসব ইঞ্জিনের কোন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে গেলে তা খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই রেলের প্রকৌশলীদেরই স্থানীয়ভাবে যন্ত্রাংশ তৈরি করতে হয়। কিন্তু তা আসলের মতো কাজ করে না। এসব ভোগান্তি দূর করতেই ৪০টি ইঞ্জিন কেনা হচ্ছে।

এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান প্রগ্রেস রেল লোকোমোটিভ ইনকরপোরেশনের সঙ্গে ৪০টি নতুন বিজি ইঞ্জিন কেনার জন্য চুক্তি করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে ইঞ্জিনগুলো কেনা হচ্ছে। প্রতিটি ইঞ্জিনের দাম ২৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। মোট ৪০টি ইঞ্জিনের দাম ১ হাজার ১২৩ কোটি টাকা।

‘বাংলাদেশ রেলওয়ের রোলিং স্টক অপারেশন উন্নয়ন (রোলিং স্টক সংগ্রহ)’ প্রকল্পে ইঞ্জিনগুলো কেনা হচ্ছে। এসব ব্রডগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক (ডিই) ইঞ্জিনগুলোর ক্ষমতা ৩ হাজার ২৫০ বিএইচপি হর্সপাওয়ার। এগুলো ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম। আর প্রতিটি ইঞ্জিনের এক্সেল লোড ১৮ দশমিক ৮ টন। ইঞ্জিন ২৪ থেকে ৩৬ মাসের মধ্যে সরবরাহ করার কথা। এরমধ্যে গত মার্চে দেশে এসেছে ৮টি। দ্বিতীয় চালানে আরও ৮টি আসবে আসছে ডিসেম্বরে।

প্রকল্প পরিচালক মিজানুর রহমান সাহেব-বাজার টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘জাহাজে করে ৮টি ইঞ্জিন এসে চট্টগ্রামে আছে। কিন্তু করোনার কারণে আমেরিকা থেকে প্রকৌশলীরা আসেননি। আশা করি, তাঁরা একমাসের মধ্যে আসবেন এবং তারপর ইঞ্জিনগুলো পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়েতে যুক্ত হবে। এ প্রকল্পের মেয়াদ আগামী বছরের জুন পর্যন্ত। সেই সময়ের মধ্যে অন্য ৩২টি ইঞ্জিনও চলে আসবে বলে আমরা খুবই আশাবাদী।’

এসবি/আরআর/এমই


  • 86
    Shares