নয়া রাষ্ট্র গঠনের বীজ বপন করা হয়েছিল বায়ান্নতে: বাদশা

  • 282
    Shares

ফজলে হোসেন বাদশা

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বলেছেন, ‘জাতি হিসেবে বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির একটি মহত্তম দিন। মাতৃভাষা সংগ্রাম; বাঙালির স্বাধিকারের স্বপ্ন বপন ও শোষকের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠার দিন।’

তিনি বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এদেশের সংগ্রামী ছাত্র-জনতা প্রতিবাদের যে বীজ বপন করেছিল, তারই ফল মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশ। এক কথায়, ‘মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলন একই মালার দুটি ফুল।’ এটিকে পৃথক করার কোন উপাই নেই।’

রোববার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে ভাষা আন্দোলন প্রসঙ্গে সাহেব-বাজার টোয়েন্টিফোরকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাতকারে প্রবীণ এই রাজনীতিক এসব কথা বলেন।

ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ‘যদি একুশে ফেব্রুয়ারির প্রেক্ষাপট তৈরী না হতো, তবে বাংলাদেশের জন্মই হত না। আমাদের সকলের জানা- অভিভক্ত ভারত যখন মুসলিম শাসিত; তখনও এই অঞ্চলে ধর্মভিত্তিক বিভাজন ছিল না। ভারতবর্ষকে ধর্মভিত্তিক বিভাজনে ঠেলে দিয়েছিল ঔপনিবেশিক যুগের ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীরা। ভারত বিভক্তির অন্যতম কারণগুলোর মধ্যে এটিই ছিল মূল।’

মোহম্মদ আলী জিন্নাহ সেই বিটিশদেরই প্রতিচ্ছবি উল্লেখ করে বাদশা আরও বলেন, দেশভাগের সময় পাকিস্তানে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করার পর সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশদের প্রতিচ্ছবির ধ্বণি শোনা গেল জিন্নাহর কণ্ঠে। তিনি ঢাকায় এসে ঘোষণা দিলেন, ‘ উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। সেদিন সংগ্রামী ছাত্ররা ‘না’ ‘না’ ধ্বনি তুলে জিন্নাহর সেই ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করেন। মূলত এভাবেই রাষ্ট্রভাষা-আন্দোলন অর্জন করে নতুন মাত্রা।’ ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনীতিতে আমাদের আত্মপরিচয় গড়ে তুলতে সহায়তা করে। যা পরবর্তীতে বাঙালি জাতিয়তাবাদে রূপান্তরিত হয়।

রাজশাহী সদর আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনের সাফল্যের মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের নিজস্ব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম শুরু করতে পেরেছিলাম। আজ এতো বছর পেরিয়ে আমরা যদি স্বাধীনতার চেতনা ভুলে যাই, একুশের চেতনা ভুলে যাই, মাতৃভাষার মর্যাদা যদি এদেশে না থাকে, আমাদের চেনতা ও দর্শন দুইটির মধ্যে যদি ত্রুটি থেকে যায়- তবে এক বিভ্রান্তির রাজনীতি আমাদের গ্রাস করতে পারে।’

ধর্মভিত্তিক বিভাজনকে এখনো উপড়ে ফেলা যায়নি মন্তব্য করে ওয়ার্কার্স পার্টির শীর্ষ এই নেতা বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশ কেমন হবে তা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু তার চার মূলনীতির মধ্যে স্পষ্ট করে দিয়েছেন। সেখানে পরিষ্কারভাবে লক্ষ্য করা যায়- বাংলাদেশ অবশ্যই একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু দু:খজনক! ধর্মভিত্তিক বিভাজন ও এর মদতদাতাদের এখনো নির্মুল করা যায়নি।

বাংলার মানুষ সাম্প্রদায়িক নয় বরং বাঙালি হয়ে উঠবে এমন আশা প্রকাশ করে রাকসুর এই সাবেক ভিপি বলেন, ‘ভাষার এই মাসে আমাদের মূূল চেতনা হোক-‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।’ আমাদের মূল পরিচয় হোক আমরা বাঙালি, বাংলার মানুষ। আমাদের এই চেতনাবোধ যেন চিরজাগ্রত থাকে। আজীবন যেন দীপ্ত কণ্ঠে উচ্চারিত হয়- ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি।’

এসবি/জগদীশ রবিদাস


  • 282
    Shares