নৌকা ডুবালেন দলীয় নেতারা

  • 29
    Shares

নিজস্ব প্রতিবেদক  : ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে রাজশাহীর একমাত্র নারী চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন ফাহিমা বেগম। পেয়েছিলেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন। প্রচার চলাকালে নৌকা নিয়ে অনেকটা একাই মাঠে ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি জিততে পারেননি। তার অভিযোগ, স্থানীয় এমপিসহ দলের নেতাকর্মীরাই নৌকা ডুবিয়েছেন।

ফাহিমা বেগম জেলার পবা উপজেলার পারিলা ইউপি নির্বাচনের প্রার্থী ছিলেন। গত রোববার ভোট গ্রহণ শেষে ঘোষিত ফলাফলে চার প্রার্থীর মধ্যে তিনি হয়েছেন তৃতীয়। ভোটের এ ফলাফলের আভাস আগেই দিয়েছিলেন ভোটারেরা।

পারিলায় ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী সাঈদ আলী মোর্শেদ ১২ হাজার ৯৭৬ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান হয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ছিলেন। এখানে আরেক ‘বিদ্রোহী’ ও বর্তমান চেয়ারম্যান সাইফুল বারী ভুলু পেয়েছেন ৭ হাজার ৫১৩ ভোট। আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী ফাহিমা বেগম ৪ হাজার ৪০৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী রাজু হোসেন হয়েছেন চতুর্থ।

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় সাঈদ আলী মোর্শেদকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তবে ২৬ নভেম্বর ফাহিমা বেগম অভিযোগ করেছিলেন, সবই লোকদেখানো। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহরাব আলীই কাজ করছেন বিদ্রোহী প্রার্থী সাঈদ আলীর হয়ে। প্রতিটি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকেরাও সোহরাবের কথা শুনছেন। আর সাইফুল বারী টানা ১৫ বছরের চেয়ারম্যান। তার কাছ থেকে যারা এতদিন সুবিধা পেয়েছেন তারা সাইফুল বারীর পক্ষে কাজ করছেন। আর তিনি কাজ করছেন অনেকটা একা। ভোটের ফলাফলের চিত্রটা ফাহিমা বেগমের কথা প্রমাণ করছে।

দলীয় নেতাকর্মীরা পাশে না থাকায় ফাহিমার জামাতা পবার কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী প্রচারে গিয়ে ভোটের মাঠ গরম করার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে কটূক্তির অভিযোগ উঠলে তিনিও বেকায়দায় পড়ে আর পারিলায় যাননি। হাতেগোনা কিছু কর্মী-সমর্থককে নিয়ে ফাহিমা ভোটের প্রচার চালিয়েছেন।

ফাহিমা জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও সংষ্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক। মহিলা আওয়ামী লীগের ইউনিয়নের সভাপতিও তিনি। ২০১৬ সালের নির্বাচনেও তিনি নৌকা পেয়েছিলেন। তবে ধরাশয়ী হয়েছিলেন বিদ্রোহী সাইফুল বারীর কাছে। এবার হারলেন আরেক বিদ্রোহীর কাছে। এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে  সোমবার দুপুরে ফাহিমা বেগমকে ফোন করা হয়। ১১ মিনিটের কথার বেশিরভাগ সময় তিনি কাদছিলেন। বলছিলেন, সরকার দলীয় একজন সংসদ সদস্য তাকে ফেল করিয়েছেন। এমপি নৌকা প্রতীককে অসম্মান করেছেন। তিনি এর বিচার চান।

ফাহিমা বেগম বলেন, ‘দুবার নির্বাচনে জায়গা-জমি বেচে আমি নিঃশ্ব হয়ে গেলাম। প্রধানমন্ত্রী আমাকে নৌকা দিলেও এমপি মেনে নেননি। দুবারই দলের নেতাকর্মীরা কাজ করেননি। তারা নৌকার বিরুদ্ধে কাজ করেছেন। আমি এর বিচার চাই।’ তিনি বলেন, ‘পারিলায় আওয়ামী লীগের এখন যারা নেতা, তাদের অনেকের ভাত জুটতো না। আমরা চাঁদা তুলে খাইয়েছি, পারিলাবাসী দেখেছে। তারা এখন তিনশো বিঘা পুকুরের মালিক। বিলাসবহুল বাড়ি। এমপির তাদেরকেই দরকার। এ কারণে আমার বিরোধিতা। আমার পরিবারটা নিঃশ্ব হয়ে গেল।’

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে এমপি আয়েন উদ্দিন বলেন, ‘নৌকা নেওয়ার আগে তার (ফাহিমার) বিবেচনা করা উচিত ছিল জনসমর্থন আছে কি না। ভোটাররা তাকে পছন্দ করেনি বলেই বিদ্রোহীকে ভোট দিয়েছে। এতে আমার কী করার আছে!’ তিনি বলেন, ‘ভোট হয়েছে ফেয়ার। কেউ কোন প্রশ্ন তুলতে পারবে না। এমন তো না ফল পাল্টে দেওয়া হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে এখন কথা বলে কোন লাভ আছে?’

এসবি/এমই/এআইআর


  • 29
    Shares