পরিবারের ১০ জনকে শিক্ষক-কর্মকর্তা বানিয়েছেন উপাচার্য সোবহান

  • 2.7K
    Shares

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সদ্য সাবেক ভিসি অধ্যাপক আবদুস সোবহান তার মেয়াদকালের পুরোটা সময় নানান কর্মকাণ্ড ছিলেন বিতর্কিত। তার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল নিয়োগ বাণিজ্য ও স্বজনপ্রীতি। সাহেব-বাজার টুয়েন্টিফোরের অনুসন্ধানে এবার বেরিয়ে এলো স্বজনপ্রীতির ভয়ঙ্কর এক নমুনা।

অনুসন্ধানে জানা গেল, মেয়াদের চার বছরে নিজ পরিবার ও আত্মীয়স্বজন থেকে ১০ জনকে শিক্ষক ও কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন ভিসি অধ্যাপক আবদুস সোবহান।

এর মধ্যে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দু’জন। শিক্ষকরা হলেন – জামাতা এটিএম শাহেদ পারভেজ, যিনি আইবিএতে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া আরেকজন হলেন তাঁর কন্যা সানজানা সোবহান, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।

এছাড়াও মেয়াদকালে অধ্যাপক আবদুস সােবহানের ভায়রার পুত্র শাখাওয়াত হােসেন-এর স্ত্রীর চাকুরী হয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলে। প্রফেসর সোবহানের শালিকার সন্তান মাে. ইলিয়াস হােসেন সেকশন অফিসার হিসেবে নিয়ােগ পেয়েছে  গতবছরের মার্চ মাসের ৫ তারিখে। আরেক নিকট আত্মীয় ডা. উম্মে কাওছার জামান, যিনি প্রাইভেট ডেন্টাল কলেজ থেকে পাশ করেন। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে লেডি ডেন্টাল সার্জন হিসেবে যােগদান করেন। ডা. রাজু আহমেদ সিনিয়র ডেন্টাল সার্জন, যিনি প্রাইভেট ডেন্টাল কলেজ থেকে পাশ করেন। ডা. রাজু আহমেদ প্রফেসর সােবহানের নাতি। ডা. জামানের নিয়ােগ হয় গত বছরে। প্রফেসর সােবহানের ভায়রার ছেলে সহকারী রেজিস্ট্রার মাে. রাজিবুল হাসান নিয়োগ পেয়ে পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে কর্মরত আছেন। প্রফেসর সােবহানের ভায়রার ছেলে সেকশন অফিসার শামীম হােসেন নিয়োগ পেয়ে এখন কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়াতে কর্মরত।

তবে গত ৬ মে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক ঘােষিত অবৈধভাবে নিয়ােগপ্রাপ্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রফেসর সােবহানের নিকটতম কোন আত্মীয়র চাকুরী হয়নি।

এ প্রসঙ্গে একজন চাকুরী প্রার্থীর বড় ভাই বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। সাবেক ভিসি যদি সত্যিই চাকুরী দিতে চাইতাে, তার নিজের আত্মীয়রা যখন চাকুরী হয়েছে তখন চাকুরীগুলাে দিতে পারতাে। ছয়মাস কিংবা এক মাস পূর্বেও যদি দিত তাহলে বুঝতাম তিনি চাকুরী দিলেন। এটা নিজেকে বাঁচানাের জন্য প্রতারণা করা হয়েছে ।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাবেক ভিসি অধ্যাপস আবদুস সোবহানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

 

এসবি/এমই


  • 2.7K
    Shares