নারী শ্রমিক ধর্ষণ: ৪ জনের যাবজ্জীবন


সাহেব-বাজার ডেস্ক: নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় এক নারী শ্রমিককে (২০) ধর্ষণের দায়ে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ছয় জনের মধ্যে চারজনকে যাবজ্জীবন দণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বাকি দুই জনকে খালাস দিয়েছেন উচ্চ আদালত।

এ বিষয়ে ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন) এবং আসামিদের আপিল শুনানি করে মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

আদালতে আসামি পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী, লুৎফর রহমান আকন্দ ও আক্তার রসুল । রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হারুনর রশিদ ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ আহমদ হিরো।

রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ আহমদ হিরো।

নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় এক নারী শ্রমিককে (২০) ধর্ষণের দায়ে ২০১৬ সালের ২৫ আগস্ট ছয়জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীম আহাম্মদ।

দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন- পলাশ উপজেলার বাগপাড়া এলাকার আশিকুর রহমান, ইলিয়াছ মিয়া, মো. রুমিন, মো. রবিন, মো. ইব্রাহিম ও আবদুর রহমান।

এরপর ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের নথি) হাইকোর্টে আসে। আর আসামিরা আপিল ও জেল আপিল করেন। দুটির একসঙ্গে শুনানি শেষে মঙ্গলবার রায় দেওয়া হয়।

রায়ে ইব্রাহিম ও আবদুর রহমানকে খালাস দেওয়া হয়। বাকি চারজনের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন দণ্ড দেওয়া হয়।

২০১৩ সালের ২৩ মে দুপুরে পলাশ উপজেলার বাগপাড়া এলাকার ওই শ্রমিক কাজ শেষে একই এলাকায় কারখানার নিজস্ব মেসে ফিরছিলেন। তিনি জনতা পাটকলের ফটকের সামনে পৌঁছালে ওই ব্যক্তিরা তাকে জোর করে পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। পরে আশিকুর, ইলিয়াছ, রুমিন, রবিনসহ অন্যারা তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের ভিডিওচিত্র ধারণ করে আসামিরা। ধর্ষণের পর তাকে আধা ঘণ্টা আটকে রাখেন তারা। এ সময় কান্নাকাটি করলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরের দিন ওই শ্রমিক কারখানায় গিয়ে ঘটনাটি এক নারী নিরাপত্তাকর্মীকে জানান। তিনি কারখানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানালে প্রশাসন বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক এ এস এম সাদেকুল ইসলাম বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে পলাশ থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করেন।

এসবি/জেআর