নাটোরে ২ জনের মৃত্যু, ২ পৌরসভায় কঠোর লকডাউন


সাহেব-বাজার ডেস্ক: নাটোরে করোনায় আক্রান্ত হয়ে দিলীপ কুমার চক্রবর্তী (৬২) ও মো. রমজান আলী (৯০) নামে দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে জেলায় করোনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ৩০ জনে।

অপরদিকে সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলা প্রশাসনের ঘোষিত নাটোর ও সিংড়া পৌরসভায় সাতদিনের কঠোর লকডাউন আজ থেকে শুরু হয়েছে।

বুধবার (০৯ জুন) দুপুরে সিভিল সার্জন ডা. কাজী মিজানুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, করোনায় আক্রান্তে মৃত দু’জনই নাটোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এদের মধ্যে রমজান আলী সদর হাসপাতালে এবং দিলীপ কুমার রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) নেওয়ার পথে মারা যান।

নিহত রমজান আলী সদর উপজেলার দত্তপাড়ার মোকরামপুর এলাকার এবং দিলীপ কুমার চক্রবর্তী শহরের আলাইপুর এলাকার বাসিন্দা। সিভিল সার্জন বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬৮ জনের করোনার নমুনা পরীক্ষা করে ৪৪ জনের ফলাফল পজিটিভ পাওয়া গেছে। আর সদর হাসপাতালে বর্তমানে ৪১ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। লকডাউন মানা হলে করোনা সংক্রমণ অনেকাংশ কমে যাবে।

এদিকে সংক্রমণের হার অব্যাহতভাবে বাড়তে থাকায জেলা প্রশাসন ঘোষিত নাটোর ও সিংড়া পৌরসভায় সাতদিনের কঠোর লকডাউন আজ সকাল থেকে শুরু হয়েছে। লকডাউন কার্যক্রম করতে এবং স্বাস্থ্যবিধি মানাতে এই দুই পৌরসভা শহরের প্রবেশ দ্বারগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম চালাছেন আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা।

এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসনের একাধিক মোবাইল টিম মাঠে নেমেছেন। জেলা প্রশাসনের জারিকৃত বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে গৃহীত পদক্ষেপ মনিটরিং করছেন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ অবস্থান নিয়েছে। পৌর এলাকার সকল প্রবেশ পথ ও অলিগলি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় সড়কগুলো জন-মানব শুন্য অবস্থা বিরাজ করছে। শহরের বিভিন্ন পাইকারি-খুচরা বিক্রেতা ও ক্রেতাদেও উপস্থিতি কম লক্ষ্য করা গেছে। তবে কাঁচাবাজার, ওষুধের দোকান ছাড়া হোটেল রেস্তোরাঁসহ সকল ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

জরুরি পন্যবাহী যানবাহন ছাড়া সকল ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। শহরের মাদরাসা মোড়, ছায়াবানী মোড়, স্টেশন বাজার এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ পুলিশ কাজ করছে এবং বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে কঠোর নজরদারি করছে।

অপরদিকে, সিংড়া পৌরসভা এলাকাতেও চলছে কঠোর লকডাউন। সকাল থেকেই সড়কের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে পুলিশি তৎপরতা দেখা গেছে। সড়কে বাঁশ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। চেকপোস্ট বসানোর পাশাপাশি টহল দিচ্ছে পুলিশ। প্রয়োজন ছাড়া কাউকে ঘর থেকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। জরুরি সেবা ছাড়া বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা সকল যানবাহন ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

নাটোরের জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ ও পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা জানান, সাতদিনের ঘোষিত লকডাউন সফল করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিয়েছে। শহরের প্রবেশ মুখে চেক পোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চলছে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিম প্রস্তুত আছে। যারা ঘোষিত বিধিনিষেধ অমান্য করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসবি/জেআর