দেশে ফসল থেকে উৎপাদন হচ্ছে না তেল


সাহেব-বাজার ডেস্ক : ভোজ্যতেলের সংকটের মধ্যেও দেশে উৎপাদিত সব তেল জাতীয় ফসল থেকে এখন তেল উৎপাদন হয় না। তবে, তেল জাতীয় ফসল উৎপাদন বাড়ানোর কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। এর ফলে ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমবে বলেও মনে করেন তারা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, দেশে প্রতি বছর ভোজ্য তেলের চাহিদা ২০ থেকে ২৪ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্য দেশে উৎপাদন হয় চার থেকে সাড়ে চার লাখ মেট্টিকটন তেল। বাকী প্রায় ৯০ শতাংশ ভোজ্যতেল আমদানি করতে হয়। এতে বছরে ব্যয় হয় ১৬ থেকে ১৭ হাজার কোটি টাকা। আর্ন্তজাতিক বাজরে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ায় এই টাকার পরিমাণ আরো বাড়বে।

অথচ দেশে উৎপাদিত সব তেল জাতীয় ফসল থেকে তেল উৎপাদন হয়না। ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে প্রায় ১৩ লাখ মেট্রিকটন তেল জাতীয় ফসল উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে ৯ লাখ মেট্টিক টন ফসল থেকে তেল উৎপাদন হয়েছে। বাকী প্রায় চার লাখ মেট্রিক টন তেল জাতীয় ফসল অন্য কাজে কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। চলতি অর্থবছরেও একই চিত্র।

গবেষকরা জানান, দেশের মাত্র আড়াই থেকে তিন ভাগ জমিতে তেল জাতীয় ফসল উৎপাদন হয়, যা চাহিদার তুলনায় খুবই কম। তবে অন্য ফসলের ক্ষতি না করে তেল জাতীয় ফসল উৎপাদন বাড়ানোর কাজ চলছে।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট তৈলবীজ গবেষণা কেন্দ্র পরিচালক ড. মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ আকন্দ বলেন, ‘আমরা তিনটা স্বল্প মেয়াদী জাত উৎপাদন করেছি। বারি সরিষা ১৪, বারি সরিষা ১৫ এবং বারি সরিষা ১৭। এই জাত গুলো ৮০ থেকে ৮৫ দিনের মধ্যে কৃষকরা কেটে নিয়ে দেড় টন থেকে এক দশমিক আট মেট্রিকটন প্রতি হেক্টরে ফলন পেতে পারে। এতি কোনো ধরণের সমস্যা সৃষ্টি হবে না।’

আগামি দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে আরও ১৫ থেকে ২০ শতাংশ উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের মূল যে তেল আসে তা কিন্তু সরিষা থেকেই হয়। আমরা যদি উৎপাদন বাড়াতে পারি, যদিও এটা সময়ের ব্যাপার। আমরা যদি সুযোগ সুবিধা দেই , নতুন প্রযুক্তি দেই, তাহলে কৃষকরা অবশ্যই এটাতে আগ্রহ পাবে।’

 

এসবি/এমই