দেশে অক্সিজেনের দৈনিক চাহিদা কত?

  • 1
    Share

সাহেব-বাজার ডেস্ক: কোভিড -১৯ এর বিশেষ করে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পরার পরে দেশে অক্সিজেনের চাহিদা বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে। অক্সিজেন আমদানির রেকর্ড ছাড়িয়েছে দেশের অন্যতম স্থলবন্দর বেনাপোল। এক বছর আগে উচ্চঝুঁকিতে থাকা জেলা সদর হাসপাতালে অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপনে সরকারের পরিকল্পনা অনেকটা বাস্তবায়ন হলেও সেগুলো বসাবো পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল। এছাড়াও ৩০ টির মধ্যে ১৭ টিতে বসেনি কোন প্ল্যান্ট।

জেলা সদর হাসপাতালগুলোর চিকিৎসকরা বলছেন, কোভিড রোগীদের বাঁচিয়ে রাখার মূল সাপোর্ট সিস্টেমের প্রথমেই আসে অক্সিজেন এবং সেটি প্রয়োজন হয় ততক্ষণই যতক্ষণ পর্যন্ত রোগী নিজে থেকে অক্সিজেন স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে না পারছেন। এই নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহ দিনে দিনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে কোভিড চিকিৎসা দেওয়া হাসপাতালগুলোর জন্য।

হাসপাতালগুলোর তথ্য বলছে, স্বাভাবিক সময় দেড়শ টনের মতো অক্সিজেনের চাহিদার ১০০ মেট্রিক টন অক্সিজেন আসত ভারত থেকে। বাকিটা দেশেই উৎপাদন হতো। এখন দৈনিক চাহিদা আড়াইশ মেট্রিক টনের বেশি। বেনাপোল সীমান্তে ২১ জুনের পর গত ২৪ দিনে ভারত থেকে ৫ প্রতিষ্ঠান অক্সিজেন আমদানি করেছে ১ হাজার ৬শ’ মেট্রিক টনেরও বেশি। যা এ যাবৎকালে সর্বোচ্চ অক্সিজেন আমদানি।
অন্যদিকে যেসব জেলা হাসপাতালে করোনা রোগীদের সেবা দেয়া হচ্ছে সেখানে অক্সিজেন চাহিদা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ছাড়িয়েছে হাজারগুণ। ফলে এ মুহূর্তে এ যাবৎকালে সর্বোচ্চ ব্যবহার হচ্ছে অক্সিজেনের।
নরসিংদীর ১০০ শয্যা জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মিজানুর রহমান জানান, স্বাভাবিক সময়ে শত রোগীর মধ্যে সাত থেকে আটজন রোগীকে অক্সিজেন দেয়ার প্রয়োজন হতো। এখন ৫০ জন রোগীর মধ্যে ১৮ থেকে ২০ জনকে নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহ করতে হচ্ছে, তাও অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য। নতুন অক্সিজেন প্ল্যান্ট বসানো হলেও সেটি চালু হতে আরো ২/৩ দিন সময় লাগবে। তবে এরইমধ্যে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও ব্যক্তিগত সহায়তায় মেন্যুয়াল সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট বসানো হয়েছে।
মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সাখাওয়াতও জানান, আইসিইউ না থাকায় গুরুতর রোগীদের ঢাকায় পাঠানো হয়, এছাড়া প্ল্যান্ট হয়েছে। অক্সিজেন সিলিন্ডারগুলো পূর্ণ করতে যেতে হয় ঢাকায়।
একইভাবে অনেক হাসপাতালে অক্সিজেন প্ল্যান্ট বসানো হলেও সচল হতে লাগছে সময়। যা করোনা সংক্রমণে চিকিৎসা সেবায় বাড়িয়েছে বাড়তি সংকট।এসবি/ এসএসকে


  • 1
    Share