দুর্গাপুরে কৃষকের জমি লিজ নিয়ে টাকা না দেওয়ার অভিযোগ


দুর্গাপুর প্রতিনিধি: দুর্গাপুর উপজেলার গোপালপুর গ্রামে এক কৃষকের জমি লিজ নিয়ে পুকুর খনন করে এক মৎস্য ব্যবসায়ী খাজনা বাবদ টাকা দিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠছে। শুধু তাই নয়, এলাকার প্রভাবশালী হওয়া মৎস্য ব্যবসায়ী শাহাদত হোসেন ওই কৃষক টাকা চাইলে তাকে মারধরের হুমকি প্রদান করছেন।

এদিকে, নিজের জমি পুকুরের লিজ দিয়ে টাকা তুলতে না পারায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষক ছিদ্দিকুর রহমান। এ নিয়ে ভুক্তভোগী ওই কৃষক স্থানীয় নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেন।

ভুক্তভোগী কৃষক ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, উপজেলার গোপালপুর গ্রামের ১ একর ১৪ শতাংশ জমিতে গত ২০১৯ সালে একই এলাকার শাহাদত, সাজাহান ও সাজ্জাদ হোসেন তিন ভাই মিলে পুকুর খনন করেন। তিনি প্রথমে পুকুর খননে জমিতে দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে বিঘা প্রতি ২৮ থেকে ৩৮ হাজার টাকা দাম দিতে চাইলে তিনি শাহাদতকে তাঁর ১ একর ১৪ শতাংশ জমি পুকুর খননের জন্য লিজ দেন। ব্যবসায়ী শাহাদত গত ২০ সালের ১৪ এপ্রিল ৯৬ হাজার টাকার মধ্যে ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন।

এরপর থেকে তিনি কোন টাকা পয়সা দেননি। টাকার জন্য তাঁর কাছে কাছে গেলে তিনি সময় ক্ষেপন করতে থাকেন। গত সপ্তাহে স্থানীয় গোপালপুর বাজারে টাকা চাইলে পাওনা মৎস্য ব্যবসায়ী শাহাদত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এ সময় কৃষক ছিদ্দিকুর রহমানকে মেরে ফেলার ভয়ভীতি দেখায়।

ছিদ্দিকুর আরও বলেন, পুকুর খননের পর এক ৯৬ হাজার টাকার মধ্যে ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। তারপর তিনি আর কোন টাকা পয়সা দেননি। এখনও তাঁর কাছে ২ লাখ ৭৯ হাজার টাকা জের আছে। এ নিয়ে নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে অভিযোগ দেওয়া আছে।

হুমকি ধামকি দেবার অভিযোগ অস্বীকার করে মৎস্য ব্যবসায়ী শাহাদত বলেন, ছিদ্দিকুর আমার লিজ নেওয়া পুকুরে মাছ ধরতে বাধা প্রয়োগ করেন। তাকে প্রথমে ৮০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। জমি নিয়ে ঝামেলা আছে। এ কারণে পরবর্তীতে তাকে আর কোন টাকা পয়সা দেওয়া হয়নি।

নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল আলম শফি বলেন, এ নিয়ে কৃষক ছিদ্দিকুর অভিযোগ করেছেন। কিন্তু টাকা দিতে শাহাদত গড়িমসি করছেন। গতকাল রোববার দুপুরে এ বিষয়ে শাহাদতের সঙ্গে সরাসরি কথা হয়েছে। এবং ভুক্তভোগী ওই কৃষককে টাকা দিতে বলা হয়েছে।

এসবি/এমএম/জেআর