দাম বৃদ্ধির পরও মিলছে না পানি


নিজস্ব প্রতিবেদক: গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এক লাফে বেড়েছে পানির তিনগুন দাম। পানির দাম বাড়ানোর বিভিন্ন কারণ দেখায় রাজশাহী ওয়াসা। তবে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে না পানি। দিনের বিভিন্ন সময় ওয়াসা থেকে বন্ধ রাখা হচ্ছে সরবরাহ। তবে ওয়াসার কর্মকর্তা বলছেন, সাময়িক অসুবিধার কারণে পানি সরবরাহ বন্ধ আছে।

দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ওয়াসা জানিয়েছিল, উৎপাদন খরচ বেড়েছে। এছাড়াও তারা রাজশাহীতে সুপেয় পানি সরবরাহ করবে। কিন্তু দাম বৃদ্ধির প্রায় বছর পার হয়ে গেলেও সুপেয় পানি এখনও মিলছে না। তারা এখনও আগের মতো দুর্গন্ধ পানি সরবরাহ করছে।

জানা গেছে, রাজশাহী মহানগরীতে প্রতিদিনের পানির চাহিদা ১১ কোটি ৩২ লাখ লিটার পানি। তবে ওয়াসা সরবরাহ করে ৯ কোটি লিটার পানি। এতেই পূরণ হয় রাজশাহী নগরীর পানির চাহিদা। ১০৩টি গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করে তা পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করছে ওয়াসা। এত পানি থাকার পরও অভিযোগ হচ্ছে গ্রাহকরা নিয়মিত পানি পাচ্ছে না।

ওয়াসা পানি সরবরাহ করে ভোর ৬টা থেকে। এই পানি সরবরাহ চলে শীতকালিন সময়ে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত। তবে দিনের বেশির ভাগ সময় থাকছে না পানি। গ্রাহকদের অভিযোগ, ভোর ৬টায় পানি আসলে তা থাকে সকাল ৮টা পর্যন্ত। এর দুই ঘণ্টা পর কিছুক্ষণের জন্য পানি আসলেও আবার ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত কোনো পানি থাকছে না। তিনটার পর পানি আসলে অনেক ধীরগতিতে পানি পরছে। যা স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।

নগরীর বিনোদপুরের একটি হোটেলের কর্মচারি হারুন অর রশীদ জানান, আমাদের হোটেল ভোরে খোলা হয়। বেঁচাবিক্রি করে মধ্যরাতে বন্ধ করা হয়। আমরা ওয়াসার সরবরাহকৃত পানি ব্যবহার করি। তবে বেশি কিছুদিন থেকে ঠিকমতো সরবরাহকৃত পানি পাওয়া যাচ্ছে না। এতে হোটেলের কাজকর্মে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে পানি না থাকার কারণে।

নগরীর দেবীশিংপাড়া এলাকার গৃহিনী জাহানারা বেগম বলেন, সপ্তাহ দুয়েক থেকে ওয়াসার পানি পাওয়া যাচ্ছে না। এসে স্বাভাবিক কাজকর্মে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে। দিনের সিংহভাগই থাকছে না ওয়াসার পানি বাধ্য হয়ে এলাকার একটি নলকূপ থেকে পানি সংগ্রহ করে নিয়ে আসতে হচ্ছে।

নগরীর অভিজাত এলাকা নামে খ্যাত পদ্মা আবাসিক এলাকাতেও একই অবস্থা। সেখানকার বাসিন্দারা বলছেন, ওয়াসা পানি ঠিকমতো সরবরাহ না করার কারণে ট্যাংকিতে পানি উঠছে না। আবাসিক এলাকায় এমন হলে অনেক সমস্যা। সেখানকার বাসিন্দা আবদুর রউফ বলেন, দীর্ঘ দিন থেকে এই সমস্যা চলছে। এখানেও পানি পাওয়া যাচ্ছে না। ওয়াসার সাথে যোগাযোগ করা হলে তারাও কিছু বলতে পারছে না।

এই বিষয়ে কথা বলার জন্য রাজশাহী ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী পারভেজ মামুদকে বেশ কয়েকবার কল দেয়া হলেও তিনি ধরেননি।

তবে ওয়াসার উপসহকারী প্রকৌশলী আবদুর রহিম বলেন, শহীদ এএইএইচ কামারুজ্জামান শোধনাগারে একটু সমস্যা হয়েছে। সেখানে মেরামতের কাজ চলছে। এ কারণে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানি থাকছে না। বিভিন্ন এলাকায় বিকল্প পাম্প দিয়ে চালানো হচ্ছে। আশা করা যায় কিছুদিনের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

 

এসবি/এমই